মিয়ানমার জান্তাকে গ্রাহকের তথ্য সরবরাহ
টেলিনরের বিরুদ্ধে ১৩ মিলিয়ন ডলারের মামলা
Printed Edition
ডয়েচে ভেলে
মিয়ানমারের গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য সামরিক জান্তার হাতে তুলে দেয়ার অভিযোগে নরওয়ের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন টেলিকম প্রতিষ্ঠান টেলিনর-এর বিরুদ্ধে যৌথ দেওয়ানি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে প্রায় ১৩ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে।
গত বুধবার সুইডিশ অলাভজনক সংস্থা জাস্টিস অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি ইনিশিয়েটিভ (জেএআই) গত বুধবার নরওয়েতে এই ক্লাস অ্যাকশন মামলা করে। সংস্থাটির দাবি, টেলিনর মিয়ানমারের গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য সামরিক কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনে সহায়তা করেছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ওপেন সোসাইটি জাস্টিস ইনিশিয়েটিভ (ওএসজেআই) এই আইনি পদক্ষেপকে সমর্থন দিয়েছে এবং জানিয়েছে, জান্তা সরকারের কাছে তথ্য সরবরাহের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর টেলিনর ব্যবহারকারীদের কল লগ, লোকেশন ডেটা, নাম, ঠিকানা, আইডি নাম্বার এবং মোবাইল নাম্বারের সাথে যুক্ত ফেসবুক ও ব্যাংক হিসাবের তথ্য জান্তার হাতে তুলে দেয়। এসব তথ্যের ভিত্তিতে বিরোধী মতাবলম্বীদের গ্রেফতার, নির্যাতন এমনকি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদিদের দাবি, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি সম্পর্কে টেলিনরের নিজস্ব মূল্যায়ন থাকা সত্ত্বেও তারা অন্তত এক হাজার ২৫৩টি ফোন নাম্বারের তথ্য জান্তার কাছে সরবরাহ করেছে। এই মামলায় প্রতি গ্রাহকের জন্য প্রায় ৯ হাজার ইউরো ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। সবমিলিয়ে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ মিলিয়ন ইউরো বা ১২ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন ডলার। জেএআই-এর চেয়ারম্যান কো ইয়ে বলেন, ‘আমরা শুধু কয়েকজন নই, পুরো ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর পক্ষে টেলিনরকে জবাবদিহির আওতায় আনতে চাই।’
মামলায় নির্দিষ্ট কয়েকজন ভুক্তভোগীর ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন ২০২২ সালে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া রথ্যাপার ও সংসদ সদস্য ফিউ জেয়া থ’। অভিযোগ করা হয়েছে, তার ফোনের তথ্য ২০২১ সালের অক্টোবরে জান্তার কাছে সরবরাহ করা হয় এবং দুই সপ্তাহ পর তাকে গ্রেফতার করা হয়।
এ ছাড়া রাজনৈতিক কর্মী অং থু-র ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে, যিনি মুক্তির পর আবারো গ্রেফতার হন তথ্য ফাঁসের অভিযোগে। টেলিনর ২০২২ সালের মার্চে তাদের মিয়ানমার কার্যক্রম ইনভেস্টকম পিটিই লিমিটেড-এর কাছে বিক্রি করে দেয়, যেখানে মিয়ানমারের জান্তা ঘনিষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এ দিকে জাস্টিস ফর মিয়ানমার এবং আইসিজে নরওয়ে টেলিনরের বিরুদ্ধে আলাদাভাবে ফৌজদারি অভিযোগও দায়ের করেছে। পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে নরওয়ের পার্লামেন্ট।