জনবহুল রাজধানী এখনো ফাঁকা
Printed Edition
টানা ৯ দিনের ছুটি শেষ হলেও কর্মচাঞ্চল্য এখনো ফিরেনি রাজধানীতে। পবিত্র ঈদুল ফিতরের লম্বা ছুটিতে ঢাকা ছেড়েছেন নগরবাসী। ফলে ফাঁকা হয়ে গেছে জনবহুল এই মেগা শহর, রাজধানী ঢাকা এখনো অনেকটাই ফাঁকা। নেই মানুষের কোলাহল, হকারের হাঁকডাক আর যন্ত্র যানের হুইসেল, নেই চিরচেনা যানজট। আজ থেকে অফিস-আদালত খুললেও ঢাকার রাস্তাঘাটে নেই কোলাহল। যেন রাজধানীর সড়কে এখনো বিরাজ করছে ঈদের আমেজ। তবে কিছুটা চাপ ছিল ঢাকার প্রবেশমুখগুলোতে। এ ছাড়া ফাঁকা সড়কে বরাবরের মতো দাপিয়ে বেড়াতে দেখা গেছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাগুলোকে। গণপরিবহন কম থাকলেও ব্যক্তিগত গাড়ি ছিল প্রায় সব সড়কেই।
সরেজমিন রাজধানীর কলাবাগান, সাইন্সল্যাব, সিটি কলেজ মোড়, নিউ মার্কেট, নীলক্ষেত, শাহবাগ, পল্টন মোড়, গুলিস্তান, বাংলামোটর, ফার্মগেট, মতিঝিল ও সায়েদাবাদ এলাকায় দেখা যায়, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় গণপরিবহনের সংখ্যা তুলনামূলক কম ছিল। যানবাহন যেমন কম চলেছে, তেমনি রাস্তায় মানুষের চলাচলও ছিল সীমিত। প্রচণ্ড গরমের প্রভাবে ছোট ছোট রাস্তাগুলোতে রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংখ্যাও কিছুটা কমেছে। নেই চিরচেনা যানজটের তেমন ভোগান্তি। বিভিন্ন মোড়ে সিগন্যালে পড়লেও খুব বেশি সময় আটকে থাকতে হয়নি।
গতকাল বিভিন্ন সড়কে যানবাহনের সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। তবে বেশির ভাগ যানবাহনে রয়েছে যাত্রী সঙ্কট, যাত্রীর অভাবে আসন ফাঁকা রেখেই চালাতে হচ্ছে যানবাহন। যাত্রী সঙ্কটে এসব পয়েন্টে কিছু সময়ের জন্য বাসগুলোকে অপেক্ষা করতেও দেখা গেছে। বাস ও লেগুনার স্টাফদের দীর্ঘ সময় ধরে যাত্রীর খোঁজে ডাকাডাকি করতে দেখা গেছে। রাজধানীতে কিছু যানবাহন চলাচল করলেও সড়কের কোথাও যানজটের চিত্র দেখা মেলেনি। ফাঁকা রাস্তায় রিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল দাপিয়ে বেড়াতে দেখা গেছে।
আরিফুর নামে এক যাত্রী বলেন, আমি গুলিস্তান যাওয়ার জন্য প্রায় ৩০ মিনিট ধরে দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু কোনো গাড়ি পাচ্ছি না। রাস্তা একেবারে ফাঁকা। অনেকক্ষণ পরপর দু-একটি গাড়ি আসে। তা ছাড়া রিকশা বা সিএনজি দিয়ে যেতে গেলে অতিরিক্ত ভাড়া চেয়ে বসে। তাই বাসের জন্য অপেক্ষা করছি। আগে প্রতি মিনিটে বাস পাওয়া যেত; কিন্তু এখান তা সম্ভব হচ্ছে না। তা ছাড়া বিভিন্ন মার্কেট ও গলির দোকানগুলোও এখনো খুলেনি।
ট্রান্সসিলভা পরিবহনের এক যাত্রী বলেন, আজ ছুটির শেষ দিন; কিন্তু মানুষ এখনো ঢাকায় ফিরেনি। যার কারণে রাস্তা এখনো ফাঁকা। আগে যেই রাস্তা যেতে দুই ঘণ্টা লাগতো, এখন সেটি ২০ মিনিটেই যেতে পারছি। সড়কে কোনো যানজট ও ট্রাফিক দুর্ভোগ নেই। গাড়িতে সিট পেতেও বেগ পেতে হয়নি।
রিকশা ও সিএনজিচালকরা বলছেন, যাত্রী স্বল্পতার কারণে আগের মতো ভাড়া টানতে পারছেন না। তা ছাড়া গরমে মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। যারা বের হচ্ছে, তারাও তাড়াতাড়ি গন্তব্যে চলে যাচ্ছে। সকাল থেকে অনেক কম যাত্রী পেয়েছি। অনেকক্ষণ বসে থাকার পর একটি ভাড়া পেয়েছি। তবে দুই দিন পর থেকে আগের অবস্থায় ফিরে আসবে বলে আশা করছি।
ভিআইপি পরিবহনের হেলপার রাকিব জানান, এখন একটা গাড়ি যাত্রী পূর্ণ হতে এক ঘণ্টারও বেশি সময় লেগে যায়। আগে সেটা ১০ থেকে ২০ মিনিটে ভর্তি হয়ে যেত। ফলে অনেক লোকসান দিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। একজন যাত্রী থেকে বকশিশ হিসাবে ৫ টাকা করে বেশি নিলেও এই ক্ষতি পূরণ হচ্ছে না।