কবিতা

Printed Edition

জাহাঙ্গীর ফিরোজ

বৈশাখের খোঁপায় কুসুম

সংখ্যাতীত ছিলো চারপাশে

জোড়া জোড়া ছাড়া ছাড়া তবু

তিনটি দুই- মানে তিন জোড়া;

এ কথায় কী দাঁড়ায়?

শাড়ি শার্ট ছাতা ও কামিজ

খাঁচা পাখি বেলুনের সাথে ছিলো বাঁশি।

আরও বহুকিছু হতে পারে

তবে ছয়টি গাজর নিয়ে জুতো শার্ট শাড়ি ও কামিজ

দুটো ছাতা রোদে ভিজে ভিজে হেঁটে যাচ্ছে।

হাসির হররায় চারিদিকে আরো কিছু পাখি

উড়িল আকাশে ঘনদেয়া

বোশেখের দুপুরের হওয়া

শাড়ি ছাতা দমকা বাতাসে

এলোমেলো মুড়কির বনে

মনে এক পাখি বসে ছিলো

সহসা সে উড়ে গিয়ে বসে

একজোড়া পাকা পেঁপে সেইমতো গাছে।

তখন গাজর ছিলো হাতে

শাড়িটির ভাঁজ থেকে লেবুফুল ঘ্রাণ ভেসে আসে।

এলোমেলো বেলুনের বাঁশরির টিয়াপাখি

খোঁপা থেকে ফুল উড়ে আসে ঘাসে ;তখন

দুপুর উপুড় হয়ে বসে পাদুকায় হাত রাখতে

কানে আসে যুবকের বিস্ময় : এই দেখ

তবুও সে ধীরে মৌমাছি পিপীলিকা ভিড়ে আমাজন লিলি।

মনে হলো এ তুমুল বৈশাখী মেলায়

মানব জঙ্গলে দলে দলে সংখাতীত ফুল ফুটে আছে

এসো হে বৈশাখ তোমার খোঁপায় ফুল গুঁজে দি’


মোশাররফ হোসেন খান

বৈশাখ

এখানে জীবন মানে চৈত্র দগ্ধ খাঁখাঁ পোড়ামাটি

এখানে জীবন মানে ধূলিঝড়, তীব্র রক্তোচ্ছ্বাস

এখানে জীবন মানে প্রান্তরের ধু-ধু বালুকণা,

এখানে জীবন মানে নিয়ত উজানে গুণ টানা।

সকল জীর্ণতা দীর্ণ করে তুমি এসো হে বৈশাখ

এসো উত্তপ্ত বদ্বীপে, সবুজ পল্লবে, নবরূপে

এসো স্বপ্ন-সম্ভাবনা বুকে নিয়ে, এসো বারবার,

মুছে দাও ব্যর্থতার যত গ্লানি, জীবনের ভার।


আসাদ কাজল

বৈশাখে চতুর্দশপদী

বৈশাখ এলে তোমার কথা মনে পড়ে

তুমি নিজেই বৈশাখ-বৈশাখীর ঝড়ে

হাজার বছর ধরে তোমার সখ্যতা

সূর্যোদয় , নদী এবং ভিখিরির বেশে

বৈশাখ কি তোলপাড় স্বপ্ন বাংলাদেশে?

মানুষ ধারন করে বৈশাখীর রুক্ষতা

আত্মপ্রত্যয় হৃদয়ে ছন্দায়িত মন

নগরীর যান্ত্রিক সময়ে একাকী সে

পৃথিবীর সম্মুখে ভাগ্যরেখা কী বেশে?

চারিদিক দেখি-হৃদয়ের অনুরণ ।

মনতৃষ্ণায় বৈশাখ কি শীতল হবে?

বেদনার সমস্ত অন্তিম পাপবোধ

আমার প্রত্যয়ু জীবন সায়াহ্ন রবে ?

নাকি ছায়া শূন্যে ভেঙ্গে যাবে প্রতিরোধ?


মুজতাহিদ ফারুকী

অন্ধ রাতের অভিশাপ

রাত খুব প্রিয়, পোড়া বুকে কৃষ্ণকলি ঘুম

ভ্যালিয়ামে ঝরে পড়ে দুর্বাদলে আকাশ কুয়াশা

দোল খাই মার্কেজের ফেরারি নির্জনে,

শতাব্দীর রক্তে লীন ঢেউ, পরিত্যক্ত জাহাজের

ভাঙা হাল, বিচূর্ণ মাস্তুল উগরে দিলে কুমারি সৈকতে

মায়ের দুধের স্বাদ বঞ্চিত শিশু, ইচ্ছে হয় ডেকে বলি,

ও গো স্তব্ধ পাথর রজনী, তুমি কার পাপের প্রতীমা,

কোন পিশাচের কাল জাদুর নখর

অভিশপ্ত শকুনির গন্ধ গ্রীবা থেকে, পেড়ে আনে অলক্ষুণে নিশি,

ছোঁচা পেচকের গালে ইঁদুরের হাসি, পচা গলা শব,

আমাদের দাবানো বাসনা!

ঝাড়ে-বংশে ধ্বংস হোক কালরাত্রির জননীরা।


জাকির আবু জাফর

বৈশাখ

বৈশাখ তুমি সময়ের উদ্যাম

বৈশাখ তুমি ঝড়-ঝঞ্ঝার ঢেউ

জ্বরাজীর্ণতা ভেঙে করো সব লীন

বৈশাখ তুমি নববর্ষের দিন।

বৈশাখ তুমি নব উদ্যমী সুর

কণ্ঠে তোমার ভবিষ্যতের গান

প্রেরণার রঙে রাঙা করে দাও সব

বৈশাখ তুমি উদাত্ত উৎসব।

বৈশাখ তুমি নব পল্লবে দোলা

নব উদ্যমে আগামীর দ্বার খোলা

পুরনো দিনের মর্মর ভেঙে দাও

প্রবল প্রতাপে বিস্ময় গর্জাও।

নব জীবনের নব সম্ভার তুমি

দীপ্ত শিখার উজ্জ্বল উল্লাস

বাধা বিঘœতা ভেঙে করো খান খান

বৈশাখ তুমি সচ্ছল উত্থান।

অবিচার আর অন্যায় মুছে আসো

ইনসাফ আর সত্যকে ভালোবাসো

প্রাণপূর্ণতা পরিতৃপ্তির মন

বৈশাখ তুমি মুক্ত উদ্বোধন।

বৈশাখ তুমি নিত্য দীপ্ত পণ

বৈশাখ তুমি বজ্র-উচ্চারণ

হৃদয়ে হৃদয়ে ঘটাও ঐকতান

বৈশাখ তুমি জীবনের জয়গান!!


জামসেদ ওয়াজেদ

চৈত্রের শেষে বৈশেখ এসে

আয় বৃষ্টি আয়রে

ধানশালিকের নায়রে

চৈত্রের শেষে

বৈশেখ এসে

তাইতো বলে যায় রে

ভুলিয়ে দিতে অতীতে স্মৃতি

সকল দুঃখ পাপড়ি বৃতি

বছর শেষে

নতুন এসে

জানিয়ে দিয়েছে তায় রে

আয় বৃষ্টি আয় রে

আমার সবুজ গাঁয় রে

রাত্রির শেষে

দিনেরা এসে

মানিয়ে নিয়েছে তায় রে

আয় বৃষ্টি আয় রে

পরম মমতায় রে

স্বদেশের বুকে

এতটুকু সুখে

থেকে যেতে মন চায় রে

আয় বৃষ্টি আয় রে ॥