শেষ দিনে গুলার ও তুর্কিদের ঝলকানি
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক, নিউ ইয়র্ক থেকে
লস আঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে গ্যালারির সিংহভাগ অংশই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থদের দখলে। স্বাগতিকদের গ্যালারিতে উপস্থিতিটা এমনই হয়। মার্কিনিদের আশা ছিল তারা গ্রুপের শেষ ম্যাচেও জিতবে। শতভাগ জয় নিয়েই নক আউটে যাবে। ৩ মিনিটে লিড নিয়ে সেই ইঙ্গিতই দিয়েছিল। এরপর পিছিয়ে পড়লেও ৪৯ মিনিটে সমতাসূচক গোলে আশা জিইয়ে রেখেছিল শেষ সময়ে হলেও জয়সূচক গোলের। তবে তাদের টানা তিন ম্যাচে জয়ের কৃতিত্বটা নিতে দেয়নি তুরস্ক। ইনজুরি টাইমের শেষ সময়ে খেলা। ওই ৭ মিনিট ইনজুরি টাইমের একেবারেই শেষ সময়ে এসে গোল তুরস্কের। যা তাদের একেবারেই খালি হাতে দেশে ফেরার বদলে সান্ত্বনার জয় নিয়েই দেশে ফেরাচ্ছে। ৩-২ গোলের এই জয়ের মাধ্যমে পরপর দুই বিশ্বকাপে জয়ে শেষ করল তুর্কিরা। ২০০২ সালের বিশ্বকাপেও তারা শেষ ম্যাচে ৩-২ এ জিতেছিল। তুর্কিদের এই জয়ে শেষ করার নেপথ্যে মিডফিল্ডার আর্দা গুলার। নিজে গোল করেছেন। গোল করিয়েছেন। মাঠে ছিল তার অতি উজ্জ্বল উপস্থিতি।
গ্রুপ ‘ডি’ থেকে আগেই বাদ পড়া নিশ্চিত হয়ে যায় তুরস্কের। অথচ তারা যে গ্রুপে পড়েছিল তাতে তাদেরই থাকার কথা ছিল গ্রুপের শীর্ষে। যদিও ছিটকে পড়তে হলো যুক্তরাষ্ট্র, প্যারাগুয়ে এবং অস্ট্রেলিয়ার পেছনে থেকেই। প্রথম দুই ম্যাচে ৬২টি প্রচেষ্টা থেকেও একটি গোল পায়নি গুলারের দল। সেই জেরেই অস্ট্রেলিয়ার কাছে ০-২ এবং প্যারাগুয়ের কাছে ০-১ গোলে হার। তবে ২০০২ সালের সেমিফাইনালিস্ট এবং তৃতীয় হওয়া দলের ২৪ বছর পর একেবারেই খালি হাতে ফেরাটা ছিল বেমানান। তাই শেষটা মোটামুটি সন্তুষ্টি খোঁজার মাধ্যমেই করার চেষ্টা ছিল। সেই মিশনটা সফল হয়েছে ৯৮ মিনিটে কান আয়ানের গোলে। গোলটি তিনি করলেও ডান দিকের কর্নার পতাকার কাছ থেকে এই বল বানিয়ে দেয়ার নিখুঁত কাজটি করেছেন রিয়াল মাদ্রিদের ফুটবলার আর্দা গুলার। তিনি তুরস্কের বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী গোলদাতা। ২১ বছর চার মাস বয়সে তার এই গোল। এমরে বেলেজোগ্লু ২১ বছর নয় মাস বয়সে ২০০২ বিশ্বকাপে গোল করেছিলেন।
এই আর্দা গুলারই ১০ মিনিটে তুরস্ককে খেলায় ফেরান। যখন ৩ মিনিটে অ্যাস্টন টুস্টের গোলে যুক্তরাষ্ট্র লিড নিয়েছিল। ৩১ মিনিটে বারিজ আলপেজ ইলমার এগিয়ে নেন তুর্কিদের। তবে তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৪৯ মিনিটে সেবাস্টিয়ার বেরহাল্টার সমতা আনেন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে। এরপর সেই স্মরণীয় গোল। নিয়মরক্ষার এই ম্যাচে তুরস্ক জিতে যেন কোয়ালিফাই করার আনন্দই উদযাপন করেছে।
ম্যাচটি ছিল গুলারময়। গোল করেছেন। অন্য গোলের যোগানদাতাও। আর শেষ মিনিটে যেভাবে মার্কিন দুই তিন প্রতিপক্ষকে বোকা বানিয়ে বল পাস দিয়েছেন, সেই বলই আরো তিন পাস হয়ে এরপর জালে যায়। গুলার ম্যাচে ৬৭ বার বলে টাস করেছেন। গোলে একটি শট নিয়ে তাতেই জালের দেখা পাওয়া। সঠিক পাস দিয়েছেন ৫২টি। ট্যাকল করেছেন দুইবার। বল দখলের লড়াইয়ে ১০ বার সফল হয়েছেন।
আর তাতেই ২০০২ সালের মতো এবারো নিজেদের শেষ ম্যাচটা জয়ে শেষ করতে পেরেছে তুরস্ক। জাপান-দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বকাপে তারা শেষ ম্যাচে মানে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ৩-২ গোলে হারিয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়াকে। ১৯৫৪ সালে সুইজারলান্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপেও গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তুরস্ক ৭-০ গোলে হারিয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়াকে। সেই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছিলেন বোরহান চাহিত সারগুন। বিশ্বকাপে তিনিই প্রথম মুসলিম ফুটবলার হিসেবে হ্যাটট্রিক করেন। যদিও পরে প্লে-অফে পশ্চিম জার্মানির কাছে ২-৭ গোলে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল।