ঝালকাঠিতে সরকারি হাসপাতালে মিলছে না জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন
বিপাকে রোগীরা
Printed Edition
আতিকুর রহমান ঝালকাঠি
ঝালকাঠি জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে জলাতঙ্ক (রেবিস) ভ্যাকসিনের তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন শতাধিক মানুষ কুকুর বা বিড়ালের কামড় ও আঁচড়ের পর চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে ভিড় করলেও সরকারি খরচে ভ্যাকসিন পাচ্ছেন না অনেকে।
যে কারণে বাধ্য হয়ে বেসরকারি ফার্মেসি থেকে উচ্চমূল্যে ভ্যাকসিন কিনতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন দরিদ্র রোগীরা।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, সদর হাসপাতালসহ জেলার চারটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিনই জলাতঙ্কের টিকা নিতে আসা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে পোষা বিড়াল ও কুকুরের আঁচড়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাই বেশি। গত এক মাস ধরে এ চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর আগে জেলা শহরে এক যুবক বিড়ালের আঁচড়ে আক্রান্ত হয়ে জলাতঙ্কে মারা যাওয়ার ঘটনায় জনমনে আতঙ্কও তৈরি হয়েছে।
রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসক ও সেবিকাদের পরামর্শে বাইরে থেকে ভ্যাকসিন কিনে আনতে হচ্ছে। কিন্তু ফার্মেসিতে প্রতিটি ডোজের দাম ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা হওয়ায় দরিদ্র মানুষের পক্ষে তা সংগ্রহ করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় বাজারেও মাঝে মধ্যে সরবরাহ সঙ্কট দেখা দেয়ায় পরিস্থিতি আরো জটিল হচ্ছে।
এ বিষয়ে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের মেডিসিন কনসালটেন্ট ডা: আবুয়াল হাসান জানান, জেলা সদর ও তিনটি উপজেলায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০০ জন রোগী ভ্যাকসিন নিতে আসছেন। জাতীয় পর্যায়েই ভ্যাকসিনের সরবরাহ কম থাকায় স্থানীয় পর্যায়ে সঙ্কট তৈরি হয়েছে। তবে সীমিত মজুদ থেকে অতিদরিদ্র ও জরুরি রোগীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভ্যাকসিন দেয়া হচ্ছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পোষা প্রাণী পালনে সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি কামড় বা আঁচড়ের পর দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা দ্রুত পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন, যাতে সাধারণ মানুষকে আর ভোগান্তির শিকার হতে না হয়।