এলপিজিতে ফের ৫০ টাকা বৃদ্ধি : দ্বিগুণ দামে বিক্রি
Printed Edition
বিশেষ সংবাদদাতা
ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন মূল্য ১ হাজার ৩৫৬ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। জানুয়ারি মাসে এই দাম ছিল ১ হাজার ৩০৬ টাকা। টানা দ্বিতীয় মাসের মতো দাম বাড়ার এই সিদ্ধান্ত মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর নতুন অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে। সোমবার সন্ধ্যায় বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন এই দাম ঘোষণা করেন, যা ওই দিন সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর হয়েছে।
বিইআরসি প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজার ও ডলারের বিনিময় হার বিবেচনা করে দাম সমন্বয় করলেও বাস্তবে এর কোনো প্রতিফলন নেই। সরকারিভাবে দাম ১ হাজার ৩৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হলেও দেশের বেশির ভাগ এলাকায় ভোক্তাদের ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল ও মফস্বলে প্রতি সিলিন্ডারে নির্ধারিত দামের চেয়ে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা বেশি নেয়া হচ্ছে, যা সরাসরি ভোক্তা নিপীড়নের শামিল। বাজার সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ- সরবরাহ সঙ্কটকে পুঁজি করে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ডলার সঙ্কট বা আমদানি ব্যয়ের অজুহাত থাকলেও বাস্তবে মধ্যস্বত্বভোগীরা কৃত্রিম অভাব সৃষ্টি করে অতিরিক্ত মুনাফা লুটছে। রাজধানীর মিরপুরের এক গৃহিণী জানান, শুধু দাম বাড়াই সমস্যা নয়, বাজারে ঠিক দামে সিলিন্ডার পাওয়াই দুষ্কর হয়ে পড়েছে। ফলে বাধ্য হয়েই বেশি দামে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে।
নতুন দর অনুযায়ী বেসরকারি এলপিজির প্রতি কেজির দাম গত মাসের ১০৮ টাকা ৮৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১১৩ টাকা ৪ পয়সা করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসি চেয়ারম্যান জানান, কমিশন আইন অনুযায়ী দাম ঘোষণা করছে। তবে সাধারণ ভোক্তাদের প্রশ্ন- মাঠ পর্যায়ে কঠোর মনিটরিং ছাড়া শুধু ঘোষণা দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ কি সম্ভব? ‘আমদানি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে’- এমন গতানুগতিক আশ্বাসে বাজার স্থিতিশীল হচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাস্তবতায় ভোক্তারা এই নজরদারিকে ‘কাগুজে আশ্বাস’ বলেই দেখছেন। ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলোর স্পষ্ট দাবি- শুধু দাম ঘোষণা কোনো সমাধান নয়। প্রয়োজন মাঠপর্যায়ে কঠোর মনিটরিং, লাইসেন্সধারী ডিলারদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং অবৈধ মজুতদারি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান। তা না হলে এলপিজি বাজারের এই নৈরাজ্য থামবে না বরং আরো প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে এলপিজি খাতে স্থিতিশীলতা আনতে হলে আমদানি ব্যবস্থার পাশাপাশি দেশীয় উৎপাদন ও সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়াতে হবে। একই সাথে সরবরাহ চেইনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, ডিলার নেটওয়ার্ক পুনর্গঠন এবং ডিজিটাল ট্র্যাকিং সিস্টেম চালুর মতো উদ্যোগ প্রয়োজন।
ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধি ও বাজারে কৃত্রিম সঙ্কট যদি অব্যাহত থাকে, তবে এলপিজি সাধারণ মানুষের কাছে বিলাসপণ্যে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি সৃষ্টি হবে। ফলে জ্বালানি নিরাপত্তা ও ভোক্তা স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর নীতি, শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং বাস্তবভিত্তিক বাজার ব্যবস্থাপনা এখন সময়ের দাবি।