অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ইতিহাস মিসরের
অস্ট্রেলিয়া ১ (২) : ১ (৪) মিসর
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ম্যাচে ৯২ বছর পর গোল পেল মিসর। এর আগে ১৯৩৪ সালে নকআউট পর্বে উঠলেও জয়ের দেখা পায়নি আরব দেশটি। বিশ্বকাপের ২৩তম আসরে এসে এবার পেল জয়ের দেখাও। অন্য দিকে অস্ট্রেলিয়ার নকআউটে জয়ের অপেক্ষা বাড়ল আরো। এর আগে দুইবার শেষ ষোলোয় হেরেছিল তারা। ২০০৬ সালে ইতালির বিপক্ষে ১-০ গোলে ও ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে। শেষ ৩২-এর ম্যাচে গত পরশু নির্ধারিত সময় অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচটি ১-১ গোলে অমিমাংসীত থাকার পর অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়েছে আরব দেশটি। আর সেই সুবাদে জায়গা করে নিয়েছে শেষ ষোলোতে। এই ধাপের তাদের প্রতিপক্ষ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আফ্রিকার আরেক দেশ কেপ ভার্দেকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে মিসরের প্রতিপক্ষ হয়েছে তিনবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে গত পরশু ম্যাচের শুরুটা দারুণ হতে পারত অস্ট্রেলিয়ার। পঞ্চম মিনিটে ২৫ গজ দূর থেকে ক্রিস্টিয়ান ভোলপাতোর বাঁ পায়ের জোরাল শটে বল ক্রসবারের ওপরে পড়ে বাইরে যায়। তবে মূল ম্যাচে খুব বেশি সুযোগ তৈরি করতে পারেনি কোনো দলই। মিসর এগিয়ে যায় শুরুতেই। ১৩ মিনিটে ফারাওদের আনন্দ! মোহাম্মদ সালাহ ছোট করে ফ্রি-কিকের বল ইমাম আশুরের কাছে গেলে তার শটটি বাধা পেয়ে ফিরে আসে। কিন্তু ক্লিয়ার না হওয়ায় আবার এরিয়ার মধ্যে ক্রস করলে হেড করে গোল করেন ব্যাক পোস্টে ওঁত পেতে থাকা আশুর।
গোল হজম করে দ্রুত জবাব দেয়ার চেষ্টা করে অস্ট্রেলিয়া। ১৬ মিনিটে একটি লম্বা থ্রো মিসরের বক্সে উদ্বেগের সৃষ্টি করে। কিন্তু এইডেন ও’নিলের নেয়া শটটি চলে যায় অনেক বাইরে। পরের মিনিটেই ওমর মারমুশ একটি লম্বা পাস হাফ-ভলিতে চমৎকারভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে লক্ষ্যে শট নিলেও হ্যারি সাউটার তা রুখে দিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করতে দেননি। শেষ পর্যন্ত ১-০তে এগিয়ে বিরতিতে যায় মিসর।
বিরতি থেকে ফিরেই চলে আক্রমণ পাল্টা আক্রমণের খেলা। ৫৫ মিনিটে আত্মঘাতী গোলে সমতায় ফেরে অস্ট্রেলিয়া। বাম দিক থেকে আসা একটি ফ্রি কিক ফ্লিক করে নিজেদের জালেই জড়ান মোহম্মদ হানি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে এক আসরে দু’টি আত্মঘাতী গোল করলেন হানি। সমতায় ফেরার পর আরো বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠে অস্ট্রেলিয়া। একের পর এক আক্রমণে মিসরের রক্ষণভাগকে তটস্থ করে ফেললেও গোলের খেলা ফুটবল, সেটাই পাচ্ছিল না।
নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার ১০ মিনিটে আগে এবার আক্রমণে আধিপত্য করে মিসর। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে গোলরক্ষকের নৈপুণ্যে নির্ধারিত সময়ে জয় পাওয়া হলো না মিসরের। পাঁচ মিনিট যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে মিসর দ্বিতীয় গোল পেয়েই যাচ্ছিল প্রায়। উড়ে আসা ক্রসে বক্সে রামি রাবিয়ার জোরাল হেড নিশ্চিতভাবেই জালে জড়াতে যাচ্ছিল, কিন্তু অস্ট্রেলিয়া গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচ লাফিয়ে উঠে এক হাতে বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে বাইরে পাঠিয়ে দেন! ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অবশেষে ১-১ স্কোরলাইন অপরিবর্তিত থাকে অতিরিক্ত সময়েও।
টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়ার চার শটের দু’টি ব্যর্থ হয়। একটি উড়ে যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে, একটি লাগে ক্রসবারে। মিসরের চার শটের সব ক’টিই খুঁজে পায় ঠিকানা। ১২০ মিনিটের লড়াইয়ে জ্বলে উঠতে না পারলেও টাইব্রেকারে পানেনকা শটে বল জালে পাঠান মিসর ফুটবলের পোস্টার বয় ও সেরা তারকা মোহাম্মদ সালাহ।