জুমার খুতবায় বায়তুল মোকাররমের খতিব
গণভোট নিয়ে সরকার আমাদের যন্ত্রণায় ফেলেছে
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল মালেক বলেছেন, যেহেতু গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ দুটি বিকল্প রাখা হয়েছে, তার মানে জনগণের ‘না’ ভোট দেয়ার পূর্ণ অধিকার আছে। সরকার বা কোনো দল ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে উৎসাহিত করলেও, ‘না’ ভোট দেয়া কোনো অপরাধ নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভোটারদের কোনো একটি পক্ষ বেছে নিতে বাধ্য মনে করা উচিত নয়।
গতকাল বায়তুল মোকাররমের জুমার খুতবায় তিনি এ কথা বলেন। মাওলানা আব্দুল মালেক আরো বলেন, ‘হ্যাঁ’ ‘না’ দুটি অপশন আছে কি নাই? অপশন যখন দুটি আছে, তখন সবাই বলছে, সরকারও চাচ্ছে ‘হ্যাঁ’তে ভোট দিতে। সরকার বলছে- ‘হ্যাঁ’তে ভোট দিলে দেশের উপকার হবে, ‘না’তে ভোট দিলে দেশের উন্নতি বাধাগ্রস্ত হবে। সরকার বলছে ‘হ্যাঁ’ তে ভোট দেয়া উচিত, উৎসাহ দিচ্ছে, আবার অনেক দলকে দিয়ে বলানো হচ্ছে, বা অনেক দল নিজেরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে বলছে। কিন্তু অপশন যখন দুটি আছে, এর মানে ‘না’তে ভোট দেয়ার অধিকার আছে কি নাই? আছে। না হলে তো এ ভোটের দরকার নেই। যখন বলা হচ্ছে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিতে, তার মানে সরকারের পক্ষ থেকে অধিকার দেয়া আছে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিতে। ‘না’ দিতেও পারেন আবার ‘হ্যাঁ’ও দিতে পারেন। না’তে দিলে দণ্ডনীয় অপরাধ হবে না। না হলে দুটির অপশন রাখলো কেন? বুঝতে হবে আপনি কী করবেন? বাধ্য হয়ে ভোট দিবেন না। নিজেকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে বাধ্য মনে করবেন না। কেউ আপনাকে বাধ্য করে নাই। কিন্তু এক ধরনের যন্ত্রণায় ফেলেছে আমাদের। নির্বাচন কমিশন হোক, সরকার হোক বা বিদেশীরা হোক আমাদেরকে এক ধরনের পেরেশানিতে ফেলেছে।
বায়তুল মোকাররমের খতিব বলেন, আমিতো সবগুলোতে ‘হ্যাঁ’ বলতে পারছি না। আবার সবগুলোতে ‘না’ ভোটও দিতে পারছি না। তিনি প্রশ্ন করেন, কেন পাঁচ-ছয়টি আলাদা বিষয়কে একটি মাত্র ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ উত্তরের অধীনে নিয়ে আসা হয়েছে? এর ফলে ভোটাররা কোনো নির্দিষ্ট একটি বিষয়ের সাথে একমত এবং অন্যটির সাথে দ্বিমত থাকলেও আলাদাভাবে মত প্রকাশের সুযোগ পাচ্ছেন না। ‘হ্যাঁ’ বললে সবগুলোতে ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ বললে সবগুলোতে ‘না’ বলতে হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকারের কি কালি-কলমের অভাব পড়ে গিয়েছে যে সব এক সাথে দিতে হবে? আলাদাভাবে কেন সরকার এটি দিলো না। তিনি বলেন, এমন ব্যক্তিদের হাতে ক্ষমতা আসা উচিত যাদের অন্তরে আল্লাহর ভয় আছে, যারা পরকালের জবাবদিহিতাকে বিশ্বাস করে এবং যাদের হৃদয়ে সৃষ্টির প্রতি দয়া-মায়া আছে। যাদের অন্তরে খোদাভীতি নেই এবং জনগণের প্রতি মমতা নেই, তাদের হাতে ক্ষমতা না দেয়ার জন্য তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে বলেন।
তিনি বলেন, দেশের উন্নতি কেবল ভোটের ওপর নির্ভর করে না, বরং শাসকদের নিয়ত এবং জনগণের কিসমতের ওপরও নির্ভর করে। তাই কোনো প্রচারণায় বিভ্রান্ত না হয়ে বিবেক দিয়ে আমানত রক্ষা করাই একজন সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব।