সাফল্যের ৪৬ বছরে বেপজা
Printed Edition
বাসস
বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা) সাফল্যের ৪৫ বছর পূর্ণ করে গতকাল ৪৬তম বছরে পদার্পণ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন এ প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই দেশের শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় অনন্য অবদান রেখে আসছে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী সিদ্ধান্তে আশির দশকের শুরুতে বেপজার যাত্রা শুরু হয়। ১৯৭০-এর দশকের শেষভাগে যুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশে বিদেশী বিনিয়োগ ছিল খুবই সীমিত। এই প্রেক্ষাপটে বিশ্বব্যাংকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রবার্ট ম্যাকনামারা বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য বাংলাদেশেকে রফতানিমুখী শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠার পরামর্শ দেন। এরপর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে ১৯৮০ সালে ‘বেপজা আইন’ পাস হয়। এরপর ১৫ এপ্রিল, ১৯৮১ সালে গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি।
১৯৮৩ সালে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে দেশের প্রথম ইপিজেড স্থাপনের মাধ্যমে রফতানিমুখী উৎপাদনের বাস্তব প্রয়োগ শুরু হয়। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ইপিজেড কার্যক্রম দেশজুড়ে সম্প্রসারিত হয়। ১৯৯৩ সালে ঢাকা ইপিজেড প্রতিষ্ঠার ফলে সাভার-আশুলিয়া অঞ্চল একটি প্রাণবন্ত শিল্পাঞ্চলে পরিণত হয়। এছাড়া আদমজী জুট মিলস ও কর্ণফুলী স্টিল মিলসকে ইপিজেডে রূপান্তরের কৌশলগত সিদ্ধান্ত দেশের শিল্প খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে- মোংলা, কুমিল্লা, উত্তরা ও ঈশ্বরদীসহ মোট আটটি ইপিজেড সুষম আঞ্চলিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে।
২০১৮ সালে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ‘বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল’ স্থাপনের কাজ শুরু হয়, যেখান থেকে ইতোমধ্যে পণ্য রফতানি শুরু হয়েছে। এই অঞ্চলে ৮টি প্রতিষ্ঠান উৎপাদনে গেছে এবং আরো পাঁচটি পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু করেছে। এ ছাড়া ৩৪টি প্রতিষ্ঠান বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এ বছরেই পটুয়াখালী ও যশোর ইপিজেডের প্লট বরাদ্দ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বেপজার অধীনে ৮টি ইপিজেড ও অর্থনৈতিক অঞ্চলের মোট আয়তন মাত্র তিন হাজার ৫৫০.৩৩ একর (১৪.৩৭ বর্গকিলোমিটার), যা দেশের মোট আয়তনের ০.০০১ শতাংশেরও কম। তবে এই ক্ষুদ্র এলাকা থেকেই দেশের মোট রফতানির প্রায় ১৫-২০ শতাংশ আসছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জাতীয় রপ্তানিতে বেপজার অবদান ছিল ১৭.০৩ শতাংশ।
বিগত ৪৫ বছরে বেপজা ৭২৯ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ আকর্ষণ করেছে এবং ১২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি মূল্যের পণ্য রফতানি করেছে। এসব জোনে বর্তমানে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে, যার বড় একটি অংশই নারী। এই কর্মসংস্থান শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিই নয়, সামাজিক পরিবর্তন ও নারী ক্ষমতায়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বেপজাধীন জোনগুলোতে বর্তমানে ৪৫০টি চালু কারখানার মধ্যে মাত্র ৩২ শতাংশ তৈরি পোশাক উৎপাদন করে। বাকি ৬৮ শতাংশে গাড়ির যন্ত্রাংশ, ক্যামেরা লেন্স, প্রিন্টারের টোনার, বাইসাইকেল, চশমার ফ্রেম, উইগ, জুতা এমনকি কফিনও তৈরি হচ্ছে। বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে গড়ে উঠছে দেশের প্রথম বাণিজ্যিক ড্রোন কারখানা।