ক্ষুব্ধ ইরানি কোচ ফিফার কাছে চাইলেন প্রতিকার
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
বিশ্বকাপে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি মাঠের বাইরেও শুরু থেকেই নানা প্রতিকূলতার মুখে পড়তে হয়েছে ইরানকে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘অন্যায্য আচরণের’ অভিযোগ তুলেছেন ইরানের প্রধান কোচ আমির গুলেনুইয়ে। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি ঠেকাতে ফিফার হস্তক্ষেপও দাবি করলেন।
ইরান চলতি বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে তাদের অনুশীলন কেন্দ্র অ্যারিজোনা থেকে সরিয়ে নেয়া হয় মেক্সিকোর তিহুয়ানায়। পরে লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রথম দুই ম্যাচের জন্য দলটি ম্যাচের মাত্র এক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পায়। খেলা শেষ হওয়ার দিনই আবার ফিরে যেতে হয় তিহুয়ানায়। শেষ ম্যাচে কিছুটা ছাড় পেলেও একই নিয়মের মধ্যেই থাকতে হয়েছে ইরানকে।
মিসরের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করার পর গুলেনুইয়ে বলেন, ‘আমার খেলোয়াড়দের নিয়ে আমি গর্বিত। তারা যা করেছে, তা ইতিহাসে লেখা উচিত। স্বাগতিক দেশ আমাদের সাথে খুব অন্যায্য আচরণ করেছে। এত সমস্যার মধ্যেও তারা নিজেদের সেরাটা দিয়েছে।’
ফিফার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতের কোনো বিশ্বকাপে যেন স্বাগতিক দেশ কোনো দলের সাথে এমন অসহনীয় আচরণ করতে না পারে।’
ম্যাচেও ভাগ্য সঙ্গ দেয়নি ইরানকে। যোগ করা সময়ে শোজা খলিলজাদেহর করা গোল ভিএআরের সিদ্ধান্তে অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। সেই গোলটি থাকলে ইরান নিশ্চিতভাবেই শেষ বত্রিশে জায়গা করে নিত। ইরানের অধিনায়ক মেহদি তারেমিও লজিস্টিক ব্যবস্থাপনার সমালোচনা করেছেন। তার ভাষায়, ‘আমরা তিহুয়ানার মানুষকে ভালোবাসি। কিন্তু একটি বিশ্বকাপে বারবার একই পথে যাতায়াত করতে বাধ্য হওয়া কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়।’
বর্তমানে সেরা তৃতীয় হওয়া দলগুলোর তালিকায় ইরানের অবস্থান ষষ্ঠ। শেষ ষোলোতে উঠতে এখন তাদের তাকিয়ে থাকতে হবে অন্য গ্রুপগুলোর ফলাফলের দিকে। তবে ঘালেনোয়ির মতে, ফল যাই হোক, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তার দল যে লড়াই করেছে- সেটিই বিশ্বকাপের অন্যতম বড় অর্জন।
যেভাবে নকআউটে যেতে পারে ইরান
যুদ্ধের উত্তেজনা, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে রাজনৈতিক টানাপড়েন এবং ভ্রমণজনিত জটিলতা- সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, শেষ পর্যন্ত ইরান আদৌ বিশ্বকাপের মঞ্চে নামতে পারবে কি না। কিন্তু মাঠে নামার পর সেই সব আলোচনাকে পেছনে ফেলে দিয়েছে আমির গোলেনুইয়ের দল। যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে গ্রুপপর্বের তিন ম্যাচ খেলেও হারেনি ইরান। অথচ সেই অপরাজিত থাকার পরও তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা এখন নির্ভর করছে অন্য দলের ফলাফলের ওপর। তিন ম্যাচে তিনটি ড্র নিয়ে তাদের সংগ্রহ ৩ পয়েন্ট। গোল ব্যবধানও শূন্য। সিয়াটলে মিসরের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র করে গ্রুপপর্ব শেষ করেছে তারা। এই ড্রয়ের ফলে মিসর ৫ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে নকআউটে উঠেছে। আর ইরান শেষ করেছে তৃতীয় স্থানে। এখন তাদের ভাগ্য নির্ধারণ হবে তৃতীয় স্থানে থাকা সেরা দলগুলোর হিসাবের ওপর।
সরাসরি নকআউটে যাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হলেও ইরানের আশা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। বিশ্বকাপের নতুন ফরম্যাটে ১২ গ্রুপ থেকে ২৪ দল সরাসরি পরের পর্বে যাবে। এর বাইরে তৃতীয় হওয়া দলগুলোর মধ্যে সেরা আটটি দলও পাবে নকআউটের টিকিট। এই হিসাবেই এখনো টিকে আছে ইরান। তবে পথ সহজ নয়। তৃতীয় স্থানের তালিকায় ইরানের ওপরে রয়েছে- সুইডেন, ইকুয়েডর, বসনিয়া-হার্জেগোভিনা ও প্যারাগুয়ের মতো দল, যাদের পয়েন্ট ৪। আবার সমান ৩ পয়েন্ট নিয়ে লড়াইয়ে আছে সেনেগাল, ক্রোয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, আলজেরিয়া ও স্কটল্যান্ড।
ইরানের জন্য এখন প্রয়োজন কিছু নির্দিষ্ট ফলাফল। যেমন ক্রোয়েশিয়া যদি ঘানার কাছে হারে, আলজেরিয়া-অস্ট্রিয়া ম্যাচে কোনো একটি দল হারে, অথবা ডিআর কঙ্গো-উজবেকিস্তান ম্যাচে নির্দিষ্ট ফল আসে- তাহলে ইরানের নকআউটের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে উজবেকিস্তান ও ডিআর কঙ্গোর ম্যাচ এবং অস্ট্রিয়া-আলজেরিয়ার ফল তাদের ভাগ্যে বড় প্রভাব ফেলবে- এখন শুধু অপেক্ষা।