কাদিয়ানিদের ‘অমুসলিম সংখ্যালঘু’ ঘোষণার দাবি

দাবি বাস্তবায়নে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাবো : ধর্মমন্ত্রী

সংসদে আইন পাস করতে হবে : হেফাজত আমির

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) এমপি বলেছেন, আজকের এই মোবারক সম্মেলনে উলামা মাশায়েখের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে যেসব যৌক্তিক ও ঈমানি দাবি উত্থাপন করা হয়েছে, সেগুলোর বাস্তবায়নে আমি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থেকে এবং ব্যক্তিগত অবস্থান থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাবো ইনশা আল্লাহ।

গতকাল রাজধানীর রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা ও তাদের প্রকাশনা বাজেয়াপ্ত করার দাবিতে’ আন্তর্জাতিক তাহাফফুজে খতমে নবওয়াত বাংলাদেশ আয়োজিত জাতীয় উলামা মাশায়েখ সম্মেলনে বিশেষ অতিথির লিখিত বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। ধর্মমন্ত্রীর লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, তাহাফফুজে খতমে নবুওয়তের মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দিন রাব্বানী।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে, বর্তমান সরকার ইসলামী মূল্যবোধসম্পন্ন এবং আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উলামায়ে কেরামের প্রতি যথেষ্ট আন্তরিক। সরকার আপনাদের এই গুরুত্বপূর্ণ ও ঈমানি দাবিগুলো বিশেষ বিবেচনায় নিবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী।

তিনি বলেন, আমি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করছি, আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল ও সর্বশেষ নবী। তাঁর পর কিয়ামত পর্যন্ত আর কোনো নবীর আগমন ঘটবে না। এটি ইসলামের অন্যতম মৌলিক আকিদা এবং প্রতিটি মুমিন-মুসলমানের ঈমানের অপরিহার্য ভিত্তি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আজকের এই সম্মেলনের চেতনা কেবল উলামায়ে কেরামের নয়; বরং তা প্রতিটি তাওহিদি মুসলমানের ঈমানি চেতনা।

ধর্মমন্ত্রী আরো বলেন, আজকের এই ঐতিহাসিক ‘জাতীয় উলামা-মশায়েখ সম্মেলনে’ স্বশরীরে উপস্থিত থাকার তীব্র ইচ্ছা আমার ছিল; কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, শারীরিক অসুস্থতার কারণে ডাক্তারদের পরামর্শে আমি সরাসরি উপস্থিত হতে পারিনি। তবে অন্তরের আকুলতা ও ঈমানি তাগিদ থেকে আমার লিখিত বক্তব্য ও বার্তা আপনাদের সম্মুখে প্রেরণ করছি। এই মহতী আয়োজনে আমাকে সম্পৃক্ত করার জন্য আয়োজকবৃন্দকে আন্তরিক মুবারকবাদ ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির লিখিত বক্তৃতায় হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেছেন, আমরা বর্তমান সরকারকে ইসলামী মূল্যবোধসম্পন্ন ও জনগণের আকাক্ষার প্রতিফলন ঘটানো একটি সরকার বলে মনে করি। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর ঈমান-আকিদা ও ধর্মীয় চেতনা রক্ষা করা এ সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। গত ৯ আগস্ট বাবুনগর মাদরাসায় আমার সাথে সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সে সময় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আমাদের মহাসচিব কাদিয়ানীদেরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবিটি সরাসরি তার কাছে তুলে ধরেছিলেন। সেই মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধের জায়গা থেকেই আজ পুনরায় আমরা সরকারের কাছে অত্যন্ত যৌক্তিক ও সুনির্দিষ্ট দাবিগুলো জোরালোভাবে পেশ করছি। তিনি বলেন, বিশ্বের বহু মুসলিম দেশ এবং আন্তর্জাতিক ইসলামিক সংস্থা ‘ওআইসি’ যেভাবে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা করেছে, ঠিক তেমনি জাতীয় সংসদে আইন পাস করে কাদিয়ানি সম্প্রদায়কে ‘অমুসলিম সংখ্যালঘু’ হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। এটিই এ দেশের উলামা-মাশায়েখ ও কোটি কোটি তাওহিদি জনতার মূল দাবি।

সম্মেলনে তার লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান আল্লামা জুনাইদ আল হাবীব।

হেফাজত আমির অরো বলেন, খতমে নবুওয়ত ইসলামের অন্যতম মৌলিক আকিদা। হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হলেন ‘খাতামুন নাবিয়্যিন’- সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী। পবিত্র কুরআন ও সহিহ হাদিসের অসংখ্য স্পষ্ট দলিলে প্রমাণিত যে, তাঁর পর নবুওয়তের পবিত্র দরজা কিয়ামত পর্যন্ত চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানি বা অন্য কাউকে নবী হিসেবে বিশ্বাস করা স্পষ্ট কুফরি। যে ব্যক্তি বা গোষ্ঠী খাতমে নবুওয়তের এই মৌলিক আকিদা অস্বীকার করবে, তারা কোনো অবস্থাতেই ইসলামের গণ্ডির মধ্যে থাকতে পারে না। তারা সরাসরি কাফের এবং যারা তাদের কাফের মনে করে না, তাদের ঈমানও সুরক্ষিত নয়।

তিনি বলেন, অমুসলিম হিসেবে কাদিয়ানিরা মুসলমানদের ব্যবহৃত ‘মসজিদ’, ‘আজান’, ‘সালাত’ বা ‘খলিফা’র মতো ধর্মীয় পরিভাষাগুলো ব্যবহার করতে পারবে না। একই সাথে সরলমনা মুসলমানদের বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে রচিত কাদিয়ানিদের যাবতীয় বই-পুস্তক, সাহিত্য, ওয়েবসাইট ও প্রচারমূলক কার্যক্রম অবিলম্বে বাজেয়াপ্ত ও নিষিদ্ধ করতে হবে।

খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের সভাপতি আল্লামা সাজিদুর রহমানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরো বক্তৃতা করেন, আল্লামা মামুনুল হক, ড. আহমদ আবদুল কাদের, অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান চৌধুরী, মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুক, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী প্রমুখ। সম্মেলনে ৯ দফা দাবি এবং ৬ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।