দেশজুড়ে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র সংস্কারে নেয়া হচ্ছে মেগা প্রকল্প
Printed Edition
প্রতিটি কেন্দ্রের সংস্কারের খরচ ৪.৬১ কোটি টাকা
ভূমিসংক্রান্ত জটিলতা ও সমস্যা বাধাগ্রস্তের আশঙ্কা
বর্তমানে জরাজীর্ণ, ভঙ্গুর ও ব্যবহার অনুপযোগী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণকেন্দ্র দিয়ে চলছে দেশের মানুষের স্বাস্থ্য, প্রজনন স্বাস্থ্য এবং পুষ্টিসেবা কার্যক্রম। আশির দশকে এই সব কেন্দ্র নির্মিত হয়। দেশে বর্তমানে জরাজীর্ণ ও ভঙ্গুর ৫৯২টি কেন্দ্রকে নতুন করে সংস্কারের পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। প্রস্তাবনায় একতলা প্রতিটি কেন্দ্র সংস্কারে ব্যয় ধরা হয়েছে চার কোটি ৬১ লাখ টাকা। মোট খরচ হতে পারে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা। তবে প্রকল্প শুরুর আগে ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা ও সমস্যার সমাধান করে কাজ শুরু করা না হলে বাধাগ্রন্ত হতে পারে বলে পরিকল্পনা কমিশন থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকল্প নেয়ার আগে কেন্দ্রগুলোর জন্য মাস্টারপ্ল্যান করার পরামর্শ দিয়েছে আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগ। প্রকল্প দলিলের ত্রুটিগুলো সংশোধন করে আবার প্রস্তাবনা দেয়ার জন্য বলা হয়েছে মূল্যায়ন কমিটির সভা থেকে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবনার দলিল থেকে জানা গেছে, গত আশির দশকে নির্মিত একতলা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলো বর্তমানে জরাজীর্ণ, ভঙ্গুর এবং অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে গর্ভকালীন ও প্রসব-পরবর্তী সেবা, পরিবার পরিকল্পনা, শিশু স্বাস্থ্য, পুষ্টি, কিশোর-কিশোরী স্বাস্থ্য এবং যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে ৫৯২টি কেন্দ্রকে পরিত্যক্ত বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে নতুন ভবন নির্মাণের চাহিদা জানিয়েছে। দেশের প্রান্তিক ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে বড় ধরনের অবকাঠামোগত সংস্কারে নামছে সরকার। ওই সব স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র (ইউএইচএফডব্লিউসি) নতুন করে পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিন বছরের এই মেগা প্রকল্পের জন্য ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে প্রায় পৌনে তিন হাজার কোটি টাকা। আগামী জুলাই থেকে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ প্রস্তাব করা হয়েছে।
নির্মাণকালেও চলবে চিকিৎসাসেবা
পরিকল্পনা কমিশন বলেছে, পুনর্নির্মাণ চলাকালীন গ্রামীণ মানুষের চিকিৎসাসেবা যেন ব্যাহত না হয়, সেজন্য বিশেষ বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। সাময়িকভাবে পাশের ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে অথবা ভাড়া করা স্থানে স্বাস্থ্যসেবাকার্যক্রম চালু রাখা হবে এবং এই ভাড়া বাবদ প্রয়োজনীয় অর্থ পুনর্গঠিত ডিপিপিতে (উচচ) অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
ব্যয় বাড়বে প্রায় ২২ শতাংশ
পিইসি প্রথম সভার সুপারিশের পর পুনর্গঠিত ডিপিপিতে ছয়টি খাতে অতিরিক্ত ৪৯৭ কোটি ৩২ লাখ টাকা অর্থাৎ প্রায় ২২ দশমিক ৩ শতাংশ ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব দেয়া হয়। বলা হয়, প্রচার ও বিজ্ঞাপন, টেস্টিং ফি, ডিজিটাল জরিপ, মুদ্রণ ও বাঁধাই, সম্মানী এবং অনাবাসিক ভবন নির্মাণ খাতে এ ব্যয় বৃদ্ধি দেখানো হয়েছে। পরে পরিকল্পনা কমিশন ব্যয়ের যৌক্তিকতা পুনঃনিরীক্ষার নির্দেশ দেয়।
পরিকল্পনা কমিশনের আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে কথা হলে তারা জানান, দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাধাগ্রস্ত হয় ভূমি অধিগ্রহণ নিয়ে। তাই দেশের বিভিন্ন স্থানে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভূমি সংক্রান্ত নানা জটিলতা ও সীমানা বিরোধ রয়েছে। পিইসি সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, নতুন কেন্দ্রগুলো নির্মাণের আগেই স্থানীয় ভূমি অফিসের মাধ্যমে নামজারি সম্পন্ন করে কাগজপত্র হালনাগাদ করতে হবে এবং এর বাউন্ডারি ওয়াল নিশ্চিত করতে হবে। আর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে পরিকল্পনা কমিশন বলেছে, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ে তুলতে প্রতিটি কেন্দ্রে সোলার প্যানেল স্থাপন করতে হবে। নিরাপদ মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখার বিষয়ে কড়া নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া, কেন্দ্রগুলোতে দক্ষ জনবল নিশ্চিত করতে বিদ্যমান শূন্য পদের তালিকা তৈরি করে দ্রুত নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। প্রস্তাবনাকে আবার সংশোধন করতে বলা হয়েছে।