দেশের সংখ্যালঘু নির্যাতন নেই

সৌদি সরকার ওমরাহ ভিসা বন্ধ করেনি : ধর্ম উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক
Printed Edition
back-1
ওমরাহ এজেন্সি ও ভিসাসংক্রান্ত বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন : পিআইডি

ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন জানিয়েছেন, বাংলাদেশী নাগরিকদের জন্য ওমরাহ ভিসা বন্ধ করেনি সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়। ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত এ বিষয়টি ধর্মসচিবকে নিশ্চিত করেছেন। রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের এজেন্সিগুলোকে বিমান টিকিট ও হোটেল বুকিংয়ের ডকুমেন্টসহ সৌদি ওমরাহ কোম্পানি বা এজেন্টের মাধ্যমে সে দেশের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন।

গতকাল সচিবালয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রেস ব্রিফিংয়ে উপদেষ্টা এ তথ্য জানান। ওমরাহযাত্রীদের টিকিটের অর্থ ফেরত প্রদানের বিষয়ে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, টিকিট সংগ্রহকারী কোনো ওমরাহযাত্রী ভিসা না পাওয়ার কারণে সৌদি আরব যেতে না পারলে তাকে বিধি মোতাবেক টাকা ফেরত দিচ্ছে বাংলাদেশ বিমান। সাউদিয়াসহ অন্যান্য এয়ারলাইন্সকেও একইভাবে ভিসা জটিলতায় ওমরাহ পালনে অসমর্থ যাত্রীদেরকে টিকিটের টাকা ফেরত দেয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

ড. খালিদ জানান, সৌদি সরকারের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয় চার শতাধিক সৌদি ওমরাহ কোম্পানিকে বিভিন্ন দেশের এজেন্সির সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে ওমরাহ কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব দিয়ে রেখেছে। এই কোম্পানিগুলোর অনুকূলে প্রতি বছর ওমরাহযাত্রীর কোটা নির্ধারিত থাকে। এই নির্ধারিত কোটা শেষ হয়ে গেলে উক্ত কোম্পানির সাথে সংশ্লিষ্ট দেশের ভিসা প্রদান কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। বাংলাদেশে অনুমোদিত ওমরাহ এজেন্সির পাশাপাশি সৌদি আরবের নুসুক অ্যাপের আইডি ও পাসওয়ার্ড প্রাপ্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ওমরাহ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে।

ড. খালিদ আরো বলেন, এ দেশের ওমরাহ যাত্রীদের ভিসা প্রদান করা হচ্ছে না- এ বিষয়টি জানার পরপরই ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ঢাকার সৌদি দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করা হয়। প্রথমে ভিসা প্রদান কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়ে মৌখিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়। পরবর্তীতে ভিসা প্রদান কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়ে ঢাকার সৌদি দূতাবাসের রাষ্ট্রদূতকে ডিওপত্র প্রেরণ করা হয়।

উপদেষ্টা বলেন, বিমানের টিকিট সংগ্রহ করেছেন এমন ওমরাহযাত্রীরা যাতে রমজান মাসেই ওমরাহ পালন করতে যেতে পারেন সেলক্ষ্যে জেদ্দায় বাংলাদেশ হজ কাউন্সিলর সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন।

দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে উপদেষ্টা বলেন, হজ, ওমরাহসহ ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সার্বিক বিষয়ে আমরা সর্বদা তৎপর রয়েছি, দেশবাসীর খেদমতে কাজ করে যাচ্ছি। হজ এবং ওমরাহ পালনে এ দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা যাতে কোনো জটিলতা বা সঙ্কটের মুখোমুখি না হন সে বিষয়ে সচেষ্ট আছি।

কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা থাকলেও বিদেশীরা যেভাবে বলছেন বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা সেই মাত্রায় নেই বলে জানান ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা প্রধান তুলসী গ্যাবার্ডের করা ‘বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন’ মন্তব্যের বিষয়ে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, এটা আমাদের সরকারের নজরে এসেছে। আমরা তো বারবার অস্বীকার করে আসছি যে আমাদের এখানে পারসিকিউশন অব মাইনোরিটিস (সংখ্যালঘু নির্যাতন) বিদেশীরা যেভাবে বলছেন সেভাবে নেই। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা তো আছেই, তারপরও আমরা অত্যন্ত সজাগ রয়েছি। কিছু কিছু মাজারেও হামলার ঘটনা ঘটছে, ভাঙচুর হচ্ছে। আমরা অত্যন্ত সিরিয়াস এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরও দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। তিনি বলেন, আমরা যদি সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে অপরাধী শনাক্ত করতে পারি, তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার করব। খালিদ হোসেন আরো বলেন, আমাদের কাছে পরিসংখ্যান আছে যে আমরা কতজনকে ধরেছি। আমরা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটা আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং দিয়ে সেটা জানিয়ে দেবো। আমরা অত্যন্ত সচেতন আছি।

এক প্রশ্নের জবাবে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সংগঠন যাতে তৎপরতা চালাতে না পারে এ বিষয়ে সরকার সজাগ রয়েছে।

এ সময় ধর্মসচিব এ কে এম আফতাব হোসেন প্রামানিক, অতিরিক্ত সচিব (হজ) মো: মতিউল ইসলাম, হাব সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার ও সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহমদ মজুমদার, উপদেষ্টার একান্ত সচিব ছাদেক আহমদসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।