এক মাসে বিমানের জ্বালানির দাম বেড়েছে ৮৩ শতাংশ

Printed Edition
onno-3
ইসরাইলি হামলার পর ইরানের ফারস প্রদেশের তেল স্থাপনা থেকে ধোঁয়া উঠছে : ইন্টারনেট

হুররিয়াত ডেইলি নিউজ

বিশ্বজুড়ে উড়োজাহাজের জ্বালানির দাম গত এক মাসে প্রায় ৮৩ শতাংশ বেড়েছে। এর ফলে এয়ারলাইনসগুলোর ওপর পরিচালন ব্যয়ের চাপ তীব্র হচ্ছে। ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইএটিএ) সর্বশেষ রিপোর্টে এই তথ্য উঠে এসেছে।

আইএটিএ-এর তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ সপ্তাহে উড়োজাহাজের জ্বালানির দাম ১১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১৭৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জির লাইসেন্সের অধীনে প্রকাশিত এই পরিসংখ্যানে এভিয়েশন জ্বালানির গড় শোধনাগার মূল্য তুলে ধরা হয়েছে। বার্ষিক হিসাবে উড়োজাহাজের জ্বালানির দাম ৯৪ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে, যা সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির ভয়াবহতা স্পষ্ট করে। আগের সপ্তাহে এই দাম ৫৮ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছিল। এটি জ্বালানি বাজারের দ্রুত পরিবর্তনের বিষয়টি নির্দেশ করে।

জ্বালানি এই খাতের সবচেয়ে বড় পরিচালন ব্যয়গুলোর একটি হওয়ায় এই মূল্যবৃদ্ধি এয়ারলাইনসগুলোর লাভের ওপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আইএটিএ জানিয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী উচ্চমূল্যের চেয়ে হঠাৎ দাম বৃদ্ধি বেশি ক্ষতিকর। কারণ এ ধরনের পরিস্থিতিতে এয়ারলাইনসগুলো ভাড়া, সক্ষমতা ও ক্রয় কৌশল সমন্বয় করার জন্য খুব কম সময় পায়।

মধ্যপ্রাচ্য সঙ্ঘাতের কারণে এয়ারলাইনসগুলো যখন ফ্লাইট রুট পরিবর্তন, সেবা স্থগিত ও উচ্চ পরিচালন ব্যয়ের মতো বহুমুখী সঙ্কটের মুখোমুখি, ঠিক তখনই এই মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা ঘটল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৯ দশমিক ৫ ডলার পর্যন্ত ওঠে। তবে পরে তা ১০০ ডলারের কাছাকাছি স্থিতিশীল হয়।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের এই হামলায় ইরানে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিসহ প্রায় এক হাজার ৩০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। এর জবাবে ইসরাইল, জর্দান, ইরাক ও মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকা উপসাগরীয় দেশগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। এই হামলায় হতাহত ও অবকাঠামোগত ক্ষতির পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজার ও এভিয়েশন খাত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।