বিশ্বকাপে নোরার ধামাকা, নেপথ্যে বাংলাদেশী সঞ্জয়

Printed Edition
bino-5
বিশ্বকাপে নোরার ধামাকা, নেপথ্যে বাংলাদেশী সঞ্জয়

বিনোদন প্রতিবেদক

বলিউড তারকা, নৃত্যশিল্পী ও গায়িকা নোরা ফাতেহি এবার ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করে বিশ্বমঞ্চ মাতিয়েছেন। কানাডার টরন্টোতে আয়োজিত এই জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে নোরার পারফরম্যান্স যেমন নজর কেড়েছে, তেমনি এই আয়োজনের পেছনে রয়েছে এক গর্বিত বাংলাদেশী কানেকশন। বিশ্বকাপের অফিশিয়াল গান ‘সির সির’ পরিবেশন করে নোরা যখন গ্যালারি মাতাচ্ছিলেন, তখন পর্দার আড়ালে সুরের জাল বুনেছেন বাংলাদেশী-আমেরিকান সঙ্গীত প্রযোজক সঞ্জয় দেব। ফরাসি-আইভরিয়ান সঙ্গীতশিল্পী ভেজেড্রিমের সাথে যৌথভাবে এই গানটি তৈরি করেছেন সঞ্জয়। মরক্কোর জনপ্রিয় ফুটবল স্লোগান থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি এই ‘সির সির’ গানের অর্থ, ‘চলো, এগিয়ে যাও’। মরক্কোর দারিজা ভাষা, আরবি, ফরাসি ও ইংরেজির পাশাপাশি এই গানে যে বহুভাষিক ও বহুমাত্রিক সুরের মেলবন্ধন ঘটেছে, তার নেপথ্য কারিগর বাংলাদেশী প্রযোজক সঞ্জয়। নোরার আশা, বিশ্বকাপের বিভিন্ন দেশের সমর্থক ও সাধারণ মানুষের জন্য এটি এক বৈশ্বিক স্লোগানে পরিণত হবে। বিবিসি নিউজবিটকে দেয়া সাক্ষাৎকারে নোরা বলেন, ফুটবল ও সঙ্গীত সবসময়ই একসাথে চলে। আর তিনি এই বিশাল মঞ্চকে ব্যবহার করতে চেয়েছেন বহু সাংস্কৃতিক শিল্পচর্চা, বৈশ্বিক প্রতিনিধিত্ব এবং নিজের স্বপ্নজয়ের গল্প বলার জন্য। কানাডার টরন্টোতে জন্ম নেয়া মরক্কান বংশোদ্ভূত নোরা ফাতেহির জন্য নিজের জন্মশহরে বিশ্বকাপের মতো এত বড় আসরে পারফর্ম করতে পারাটা ছিল এক ‘অবাস্তব’ অভিজ্ঞতা। মাত্র ২২ বছর বয়সে কোনো চেনা পরিচিতি ছাড়াই ভারতে পাড়ি জমিয়েছিলেন নোরা। ভাষা, সংস্কৃতি ও তীব্র প্রতিযোগিতার সাথে লড়াই করে ‘দিলবার’, ‘ও সাকি সাকি’, ‘নাচ মেরি রানি’ কিংবা ‘মানিকে’র মতো একের পর এক সুপারহিট গানের মাধ্যমে বলিউডে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। নোরা চান, মানুষ তার এই সংগ্রাম ও সফলতার যাত্রা দেখে অনুপ্রাণিত হোক এবং নিজের স্বপ্ন পূরণে সাহসী হয়ে উঠুক। এর আগে ২০২২ সালের কাতার ফুটবল বিশ্বকাপের সমাপনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করেছিলেন নোরা। তবে এবারের অভিজ্ঞতাকে তিনি আরো বেশি বিশেষ ও আবেগপূর্ণ মনে করছেন। কারণ, এবার তিনি শুধু একজন পারফরমার নন; বরং বিশ্বকাপের অফিশিয়াল সাউন্ডট্র্যাকের মূল অংশ। মরক্কোর রাস্তায় চিত্রায়িত এই গানের ভিডিওতে দেখানো হয়েছে, কীভাবে পাড়ার মাঠে ফুটবল খেলা ছোট্ট শিশুরা একসময় বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে যায়।

বিশ্বকাপে নিজের দেশ মরক্কোকে নিয়ে বরাবরের মতোই অসম্ভব আশাবাদী নোরা।