কাইয়ার সেঞ্চুরির পর ৭ উইকেট তাইজুলের
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে হ-য-ব-র-ল অবস্থা ছিল বাংলাদেশের। টেস্ট ক্রিকেটে সম্প্রতি দারুণ পারফরম্যান্সে ডানা মেলে উড়ছিল টাইগাররা। অথচ জিম্বাবুয়ের মাটিতে তাদের ধারহীন বোলিংয়ের সামনে ভয়াবহ ব্যাটিং ধসে বিধ্বস্ত হয়ে ১৪০ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে এক উইকেটে ১৩৬ রানে দিন শেষ করেছিল স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় দিনে ইনোসেন্ট কাইয়ার সেঞ্চুরিতে (১৪০) ভর করে ৪১০ রানে থাকে জিম্বাবুয়ে। প্রথম ইনিংসে ২৭০ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে দিন শেষে এক উইকেট হারিয়ে ৪০ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ। এখনো ২৩০ রানে পিছিয়ে সফরকারীরা।
হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে গত পরশু টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। তৌহিদ হৃদয় ও অমিত হাসানকে টেস্ট ক্যাপ তুলে সাত বিশেষজ্ঞ ব্যাটার নিয়ে একাদশ সাজায় টাইগাররা। কিন্তু মুমিনুল ছাড়া ব্যর্থ সবাই। শেষ সাত ব্যাটারের কেউই দু’অঙ্ক ছুঁতেও পারেননি! দলীয় ৩৬ রানে দুই উইকেট হারালেও এক পর্যায়ে রান ছিল দুই উইকেটে ১১৩। ৬০ রান করা মুমিনুল হকের বিদায় দিয়ে শুরু হয় উল্টো যাত্রার। ২৭ রানেই পতন হয় ৮ উইকেটের! চারটি উইকেট নেন নিউম্যান নিয়ামহুরি।
হারারে স্পোর্টস ক্লাবের উইকেটে ঘাসের ছোঁয়া ছিল বেশ। মুভমেন্ট ও বাউন্সও ছিল। বিশেষ করে, নতুন বলে বাউন্সের সামনে কঠিন পরীক্ষায় পড়তে হয়েছে ব্যাটারদের। তবে পরে বেশির ভাগ আউটে দায় মূলত ব্যাটসম্যানদেরই। জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানরা সেই ভুল করেননি। উদ্বোধনী জুটিই দলকে দারুণ ভিত গড়ে দেয়। প্রথম দিন শেষে তাদের রান এক উইকেটে ১৩৬। ইনোসেন্ট কাইয়া আপরাজিত ছিলেন ৭৬ রানে। সেই রানকে দ্বিতীয় দিনে নিয়ে যান তিন অঙ্কের ঘরে।
দ্বিতীয় দিন গতকাল কাইয়ার সেঞ্চুরি ছাড়াও দলের বড় ভিত গড়তে সহায়তা করেন ৬০ রান করে ক্রেইগ আরভিন ও ৫৯ রানে আউট হওয়া ব্রায়ান ব্রেনেট। একে একে দলের অন্য ব্যাটাররা সাজঘরে ফিরলেও ৭৭ রান নিয়ে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ওয়েসলি মাসাকাদজা। বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন তাইজুল ইসলাম। তিনি একাই স্বাগতিকদের সাত ব্যাটারকে সাজঘরের পথ দেখান।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় ২২ রানেই ওপেনার সাদমান ইসলামকে হারায় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ২০ রানের পর এবার তার ব্যাট থেকে আসে ৯ রান। দিন শেষে ২১ রান নিয়ে মাহমুদুল ইসলাম জয় ও অপর প্রান্তে ৯ রান নিয়ে অপরাজিত ছিলেন মুমিনুল ইসলাম। একমাত্র আউট হওয়া ব্যাটারকে সাজঘরে পাঠান ব্র্যাড ইভান্স।