ঈদের পর সুস্থতা

Printed Edition
niramoy-2
ঈদের পর সুস্থতা

ডা. সুরাইয়া সেহেলী

ঈদ আনন্দ, উৎসব ও পারিবারিক মিলনের এক অনন্য উপলক্ষ। তবে উৎসবের এই সময়ে অতিরিক্ত খাওয়া-দাওয়া, অনিয়মিত ঘুম এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাবে অনেকের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ এবং স্থূলতায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য ঈদের পর স্বাস্থ্য সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ঈদের দিনগুলোতে সাধারণত গোশত, পোলাও, বিরিয়ানি, মিষ্টি ও বিভিন্ন তেল-চর্বিযুক্ত খাবার বেশি খাওয়া হয়। এর ফলে হজমের সমস্যা, গ্যাস্ট্রিক, ওজন বৃদ্ধি এবং রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। তাই ঈদের পরপরই খাদ্যাভ্যাসে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আনা প্রয়োজন। প্রতিদিনের খাবারে শাকসবজি, ফলমূল, ডাল এবং আঁশসমৃদ্ধ খাবারের পরিমাণ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি অতিরিক্ত চর্বি ও চিনি জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।

পর্যাপ্ত পানি পান শরীরকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করলে শরীরের বিপাকক্রিয়া স্বাভাবিক থাকে এবং হজম প্রক্রিয়া সহজ হয়। একই সাথে কোমল পানীয় ও অতিরিক্ত মিষ্টি পানীয় গ্রহণ কমিয়ে আনা উচিত।

স্বাস্থ্য সচেতনতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম। ঈদের ছুটির পর প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা, দৌড়ানো বা হালকা ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তোলা দরকার। এটি অতিরিক্ত ক্যালোরি ঝরাতে এবং হৃদস্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে। পর্যাপ্ত ঘুম মানসিক প্রশান্তিও সুস্থতার জন্য অপরিহার্য। রাত জাগা এবং অনিয়মিত জীবনযাপন শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করে। তাই প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো ও জাগার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।

সর্বোপরি, ঈদের আনন্দ যেন স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ না হয়, সেদিকে সবার সচেতন থাকা প্রয়োজন। সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে আমরা ঈদের পরও সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকতে পারি। উৎসবের আনন্দ তখনই পরিপূর্ণ হবে, যখন তার সঙ্গে সুস্থতার বন্ধনও অটুট থাকবে।