৫ ইরানি ফুটবলার অস্ট্রেলিয়ায় ‘সেফ হাউজে’

Printed Edition

ক্রীড়া ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে গত সপ্তাহে সামরিক হামলা চালায় ইরানে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা করে ইরান। তার পর থেকে বন্ধ রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশের আকাশসীমা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এই হামলার আগে নারী এশিয়ান কাপ ফুটবলে অংশ নিতে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছেছিল ইরান দল। উইমেনস এশিয়ান কাপ অভিযান শেষে দেশে ফিরতে চাওয়া ইরানের ফুটবলারদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে ইরান দলের পাঁচ ফুটবলার অস্ট্রেলিয়ার একটি ‘সেফ হাউজে’ আশ্রয় নিয়েছে। এই খবর নিশ্চিত করেছে বিবিসি।

নারী এশিয়ান কাপে ‘এ’ গ্রুপে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে গ্রুপের প্রথম ম্যাচের আগে দলটির খেলোয়াড়রা জাতীয় সঙ্গীত গাইতে অস্বীকৃতি জানায় ইরান দল। এতে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তাদের বিশ্বাসঘাতক তকমা দেয়া হয়। পুরো দলকে নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। প্রথম ম্যাচের পর চার দিকে সমালোচনার ঝড় উঠলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে জাতীয় সঙ্গীত গায় ও স্যালুট করে ইরানের খেলোয়াড়রা। রাজনৈতিক ও মানসিক চাপে থাকা ইরান মাঠের লড়াইয়ে সুবিধা করতে পারেনি। দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৩-০ ব্যবধানে হারের পর ম্যাচে এবার তাদের হার ৪-০ ব্যবধানে। শেষ ম্যাচে ফিলিপাইনের কাছে ২-০ গোলে হেরে তলানীতে থেকে আসর শেষ করে দলটির দেশে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ফুটবলারদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন সমর্থকরা।

এ ঘটনার পর অস্ট্রেলিয়ার কাছে ইরানের মেয়েদের নিরাপত্তা দাবি করেন ইরানের মরহুম শাহের ছেলে রেজা পাহলভি। অন্যদের মধ্যে ‘হ্যারি পটার’ স্রষ্টা জে কে রাউলিং ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ক্যাম্পেইনার জাকি হায়দারিও ইরানি মেয়েদের নিরাপত্তার দাবি জানিয়ে নিজেদের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এতে গত পরশু ইরানি দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফিফা, এএফসি ও অস্ট্রেলিয়ান সরকারের প্রতি আহ্বান জানান খেলোয়াড়দের সংগঠন ফিফপ্রোর এশিয়া/ওশেনিয়া অঞ্চলের সভাপতি বিউ বুশ।

অস্ট্রেলিয়ায় খেলতে যাওয়া ইরানের নারী ফুটবল দলের পাঁচ খেলোয়াড় গতকাল সেখানে আশ্রয় প্রার্থনা করেন। নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা থেকেই এ সিদ্ধান্ত নেন তারা। খেলোয়াড়দের এই আবেদন মেনে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া সরকার তাদের আশ্রয় দেয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছে।

এএফপি জানায়, দলের অধিনায়ক জাহরা ঘানবারিসহ পাঁচ খেলোয়াড় গত পরশু রাতে দলীয় হোটেল ছেড়ে গোপনে বেরিয়ে অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষের কাছে আশ্রয় চান। এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ বলেন, ‘আমরা কিছুদিন ধরেই এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলাম। এই সাহসী নারীদের দুর্দশা অস্ট্রেলিয়ার মানুষকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। তারা এখানে নিরাপদ ও এখানেই যেন নিজেদের ঘরের মতো অনুভব করেন।’ জাহরা ছাড়া অন্য চার নারী হলেন ফাতেমেহ পাসানদিদেহ, জাহরা সারবালি, আতেফেহ রামাজানজাদেহ ও মোনা হামৌদি।