পদোন্নতির ২ মাসেও অনড় এলজিইডির প্রকৌশলী

কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী থেকে পদোন্নতি পেয়ে হয়েছেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী। পদোন্নতিজনিত বদলি হয়েছেন রংপুরে। কিন্তু মধু রয়ে গেছে সেই অধস্তন পদেই। যার কারণে বদলি আদেশের প্রায় দুই মাস পার হলেও পদ ছাড়তে চাইছেন না আইপিডির আইবিআরপি প্রকল্প পরিচালক শরীফ জামাল উদ্দিন। অবৈধ সুযোগ-সুবিধার কারণে তিনি উচ্চপদ থেকে নি¤œপদকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন বলে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সূত্র মতে, গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ উন্নয়ন-১ শাখার আদেশে শরীফ জামাল উদ্দিনকে প্রমোশন দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে রংপুরে বদলি করা হয়। কিন্তু এখনো তিনি সাবেক কর্মস্থল আইবিআরপি প্রকল্প পরিচালক হিসেবে এখনো অফিস করছেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এখানে প্রতিটি কাজে তাকে ৬ শতাংশ কমিশন দেয়া বাধ্যতামূলক। এই কমিশন না দেয়া হলে তিনি কোনো ঠিকাদারকে কাজ করতে দেন না। প্রকল্পের প্রতিটি কাজের অনুমোদন থেকে শুরু করে কাজ সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত ধাপে ধাপে আর্থিক সুবিধা নিয়ে থাকেন তিনি।

জানা গেছে, এই প্রকল্পের অধীনে সারা দেশে প্রতি অর্থবছরে হাজার হাজার কোটি টাকার কাজ হয়। বরিশালের পাঁচটি জেলা বরিশাল, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, পিরোজপুর ও বরগুনায় এই প্রকল্প চলমান রয়েছে। যেসব ঠিকাদার এই প্রকল্পের অধীনে কাজ সম্পন্ন করেন তাদের প্রথমেই প্রকল্প পরিচালককে শতকরা ৬ শতাংশ টাকা দিতে হয়। কাজের এস্টিমেটে দিতে হয় দুই শতাংশ করে, অনুমোদনে দিতে হয় দুই শতাংশ, অর্থ বরাদ্দে এক শতাংশ ও অর্থ ছাড়ে এক শতাংশ।

এই প্রকল্পে কাজ করে এমন একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করেছেন, তাদের যেকোনো কাজের জন্য শরীফ জালাল উদ্দিনকে ৬ শতাংশ হারে অর্থ পরিশোধ করতে হয়। কোনো ঠিকাদার এক কোটি টাকার কাজ পেলে আগেই তাকে ছয় লাখ টাকা পরিশোধ করতে হয়। এরপর কাজের অগ্রগতির বিভিন্ন পর্যায়ে তাকে বিভিন্ন পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করতে হয়।

অভিযোগ রয়েছে জামাল উদ্দিনের হয়ে কমিশনের এসব টাকা গ্রহণ করেন সিনিয়র প্রকৌশলী শিপলু কর্মকার। প্রকল্প পরিচালকের অবৈধ স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য এই প্রকল্পের যাবতীয় কাজ তিনি সম্পন্ন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রকল্প পরিচালকের ইচ্ছা অনুযায়ী ব্যক্তিকে কাজ দিতে ইচ্ছাকৃতভাবে নানা কারসাজি করারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এ ব্যাপারে জানতে মোবাইলফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও জামাল উদ্দিন ফোন রিসিভ করেননি। তাকে খুদেবার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি। তবে শিপলু কর্মকার সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একজন প্রকল্প পরিচালকের হয়ে সিনিয়র প্রকৌশলী কমিশনের টাকা তুলবে এটা অগ্রহণযোগ্য অভিযোগ। এ ছাড়া বর্তমানে এ ধরনের কোনো সুযোগও নেই। যারা অভিযোগ করেছেন তারা সঠিক করেননি।