জাতিসঙ্ঘ ও যুক্তরাষ্ট্রের নিন্দা

সুদানে ত্রাণবাহী কনভয়ে আরএসএফের ড্রোন হামলা

Printed Edition

আলজাজিরা

সুদানের র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) উত্তর কোরদোফানে একাধিক মানবিক ত্রাণবাহী কনভয় ও জ্বালানি ট্রাকে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত একজন নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে সরকারি ও চিকিৎসা সংস্থার তথ্য। শুক্রবার বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) সাথে যুক্ত একটি কনভয়ে হামলার ঘটনায় উত্তর কোরদোফান সরকার আরএসএফ নেতৃত্বের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছে।

জাতিসঙ্ঘ জানিয়েছে, প্রথম হামলা ভোরে এর-রাহাদ এলাকায় তিনটি ট্রাকে আঘাত হানে। এরপর আল্লাহ কারিম এলাকায় চারটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার মধ্যে জাতিসঙ্ঘের ত্রাণবাহী ট্রাকও ছিল। উম রাওয়াবায় তিনটি ড্রোন একটি পরিবহন ট্রাক ও জ্বালানি ট্যাংকারে আঘাত হানে, এতে আরো হতাহত হয়। সুদান ডাক্তার্স নেটওয়ার্ক বলেছে, এল-ওবেইদে বাস্তুচ্যুতদের জন্য সহায়তা পৌঁছে দিতে গিয়ে কনভয়টি হামলার শিকার হয়। তারা একে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন ও যুদ্ধাপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রও হামলার নিন্দা জানিয়েছে। মার্কিন সিনিয়র উপদেষ্টা মাসাদ বুলোস এক্সে লিখেছেন, ‘ক্ষুধার্ত মানুষের জন্য খাদ্যবাহী ট্রাক ধ্বংস করা ও মানবিক কর্মীদের হত্যা করা ঘৃণ্য।’ তিনি আরো বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন এ ধরনের ঘটনায় শূন্য সহনশীলতা দেখাবে এবং দায়ীদের জবাবদিহি করতে হবে।

জাতিসঙ্ঘের আবাসিক ও মানবিক সমন্বয়ক ডেনিস ব্রাউন জানিয়েছেন, ট্রাকগুলো কোস্তি থেকে এল-ওবেইদের বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর কাছে খাদ্য পৌঁছে দিতে যাচ্ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, এর আগে ব্লু নাইল অঙ্গরাজ্যের ইয়াবুসে ডব্লিউএফপি-সংশ্লিষ্ট একটি স্থাপনায় ড্রোন হামলায় একজন কর্মী আহত হয়েছিলেন। সুদানে সেনাবাহিনী ও আরএসএফের সঙ্ঘাত এখন তৃতীয় বছরে প্রবেশ করেছে। এতে ইতোমধ্যে কয়েক লাখ মানুষ নিহত হয়েছে, প্রায় এক কোটি ১০ লাখ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং বহু অঞ্চল দুর্ভিক্ষে পড়েছে। জাতিসঙ্ঘের হিসাব অনুযায়ী, দুই কোটি ১০ লাখের বেশি মানুষ তীব্র খাদ্য সঙ্কটে ভুগছে এবং দুই-তৃতীয়াংশ জনগণ জরুরি মানবিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তায় রয়েছে। হাজার হাজার মানুষ প্রতিবেশী চাদে পালিয়ে গেছে।