অসম্পূর্ণ বাঁধে শনি ও মাটিয়ান হাওর ঝুঁকিতে, দুশ্চিন্তায় কৃষক

Printed Edition
bangla-1
শনির হাওরের আম্মকখালী বাঁধের কাজ এখনো শেষ হয়নি : নয়া দিগন্ত

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার শনি ও মাটিয়ান হাওরের বোরো ফসল এবার অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। আম্মকখালী ও আলমখালী বাঁধের নির্মাণকাজ সময়মতো শেষ না হওয়ায় পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন হাজারো কৃষক। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অসম্পূর্ণ ও দুর্বল বাঁধের কারণে যেকোনো সময় ভেঙে হাওরের বিস্তীর্ণ জমির ধান পানিতে তলিয়ে যেতে পারে।

উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের মাড়ালা এলাকায় আম্মকখালী এবং দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নে আলমখালী বাঁধ এখনো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও পর্যাপ্ত মাটি ব্যবহার না করায় বাঁধগুলো শক্তভাবে নির্মিত হয়নি। ফলে সামান্য চাপেই বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শনির হাওরের কৃষক কালাম মিয়া ও সাকিল মিয়া বলেন, প্রতি বছর এই হাওরে বিপুল পরিমাণ বোরো ধান উৎপাদন হয়, যা স্থানীয় খাদ্য চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও অবদান রাখে। কিন্তু এবার আম্মকখালী বাঁধের কাজ শেষ না হওয়ায় তারা চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। ‘যদি ফসল ডুবে যায়, পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে’, বলেন তারা।

একইভাবে মাটিয়ান হাওরের কৃষক ফারুক মিয়া ও লতিফ মিয়া জানান, বাঁধ নির্মাণ অনেক আগেই শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো তা সম্পন্ন হয়নি। বর্ষা ঘনিয়ে আসার আগেই কাজ শেষ না হওয়ায় আতঙ্ক বাড়ছে। তাদের আশঙ্কা, বাঁধ ভেঙে গেলে হাজার হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হবে।

হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন, সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক মিলন অভিযোগ করেন, শুরু থেকেই হাওরের বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম ও অসচ্ছতা ছিল। তার দাবি, বিভিন্ন উপজেলায় পিআইসি (প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্টেশন কমিটি) একাধিকবার পরিবর্তন করা হয়েছে। তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে পিআইসিরা বলছেন তারা মাত্র ৪২ শতাংশ বিল পেয়েছেন, অথচ পানি উন্নয়ন বোর্ডের দাবি কাজ ৯২ শতাংশ শেষ। এ ধরনের অসঙ্গতি কাজের মান ও অগ্রগতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

তিনি আরও বলেন, বিল পরিশোধ ও কাজের অগ্রগতি নিয়ে যে অসামঞ্জস্য দেখা যাচ্ছে, তা প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতার অভাবের ইঙ্গিত দেয়। ‘কাজের তুলনায় বরাদ্দ বেশি কি না, কিংবা অন্য কোনো অনিয়ম আছে কি না- তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন’, বলেন তিনি।

এ বিষয়ে তাহিরপুরে দায়িত্বপ্রাপ্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী (এসও) মনির হোসেন বলেন, আলমখালী ছাড়া অন্য সব বাঁধের মাটির কাজ শেষ হয়েছে। আলমখালী বাঁধে মাটি সঙ্কট ও ঠিকাদার না পাওয়ায় কাজ বিলম্বিত হয়েছে। তবে কয়েক দিনের মধ্যেই কাজ শেষ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরো বলেন, অর্থ ছাড়ে বিলম্ব হওয়ায় পিআইসির কাজের গতি কিছুটা কমেছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, বৃষ্টির কারণে আম্মকখালী বাঁধের কাজ কিছুদিন বন্ধ ছিল। এখন আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় দ্রুত কাজ শুরু করে অল্প সময়ের মধ্যেই শেষ করা হবে। তিনি দাবি করেন, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই বাঁধের কাজ সম্পন্ন হবে এবং কাজের মানও ঠিক রাখা হচ্ছে।

তবে স্থানীয় কৃষকদের আশঙ্কা, সময়মতো কাজ শেষ না হলে যেকোনো মুহূর্তে পাহাড়ি ঢলে বাঁধ ভেঙে যেতে পারে। এতে শনি ও মাটিয়ান হাওরের বিস্তীর্ণ এলাকার বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে। দ্রুত ও মানসম্মতভাবে বাঁধ নির্মাণ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন তারা।দ