মাল্টিপল পাসপোর্ট জটিলতা নিয়ে দূতাবাসের ব্যাখ্যা

ইতালিতে হাজার হাজার প্রবাসী সময়মতো পাসপোর্ট পাচ্ছেন না

মনির হোসেন
Printed Edition

সময়মতো পাসপোর্ট হাতে না পেয়ে ক্ষুব্ধ ইতালী প্রবাসী বাংলাদেশীরা। তাদের মধ্যে কেউ কেউ সমস্যা জানাতে ইতালীর রোমের বাংলাদেশ দূতাবাসে বারবার যোগাযোগ করছেন। কিন্তু দূতাবাসের পক্ষ থেকে কেউ সাড়া দিচ্ছেন না। শুধু তাই নয়, ইতালীর বিভিন্ন প্রান্তে দূতাবাসের শ্রম উইংয়ের উদ্যোগে এমআরপি পাসপোর্ট সেবার আবেদন গ্রহণ করা হলেও মাসের পর মাস পেরিয়ে গেলেও সেই পাসপোর্টও যথাসময়ে তারা হাতে পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। পাসপোর্ট না পাওয়ার কারণে অনেক প্রবাসীকে কর্মক্ষেত্রসহ পদে পদে হয়রানি ও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

সর্বশেষ একদিন আগে ইতালীর বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে কনস্যুলার সেবা সংক্রান্ত বিষয়ভিত্তিক কনটেন্ট : পর্ব ১, মাল্টিপল অ্যাকটিভ পাসপোর্ট বা আবিস সমস্যা নিয়ে পাসপোর্ট এবং ভিসা উইংয়ের প্রথম সচিব সাইফুল ইসলাম প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে ফেসবুকে কথা বলেন। এ সময় উপস্থাপনায় ছিলেন দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম কল্যাণ উইং) আসিফ আনাম সিদ্দিকী।

সাইফুল ইসলাম সিদ্দিকী মাল্টিপল পাসপোর্ট সিস্টেম সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, একের অধিক পাসপোর্ট সিস্টেমে সক্রিয় থাকাকে মাল্টিপল পাসপোর্ট সিস্টেম বলা হয়। এ সময় তিনি উদাহরণ দিয়ে বলার চেষ্টা করেন, ধরুন কেউ একজন ২০১৪-১৫ সালে এমআরপি পাসপোর্ট করেছেন। এটাই তার প্রথম পাসপোর্ট। এরপর তিনি পাসপোর্টটি আবার নবায়ন করবেন। তখন তিনি পেলেন আরো একটি এমআরপি পাসপোর্ট। এটি তার দ্বিতীয় পাসপোর্ট। প্রথম পাসপোর্টটি তখন আর সিস্টেমে অ্যাকটিভ থাকবে না। দ্বিতীয় পাসপোর্টটি অ্যাকটিভ থাকবে। আবার দ্বিতীয় পাসপোর্টটি একইভাবে নবায়ন করে তৃতীয় পাসপোর্ট পেলে তখন প্রথম এবং দ্বিতীয়টি সিস্টেমে রিমুভ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, এই তিন পাসপোর্ট ছাড়াও সিস্টেমে গোপন করার বা ওই ব্যক্তি জমা দেননি বা ব্যবহার করেননি এমন একটি মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট সিস্টেমে রয়ে গেছে। সেটাকে আমরা বলি গোপনীয় বা অঘোষিত পাসপোর্ট। এটা নিয়ে অনেকে বলেন, দালালের প্ররোচনায় করেছেন, ভুল তথ্য করেছেন। ব্যবহার করেননি, এমনকি রি-ইস্যুও করেননি। অধিকাংশ সময় দেখা যায়, গোপন করা পাসপোর্টটি থাকে ভিন্ন নামে, ভিন্ন জন্ম তারিখে। দুই লাইনে, দুই নিয়মে পাসপোর্ট সিস্টেমে অ্যাকটিভ। তখন সেটাকে বলা হয় মাল্টিপল অ্যাকটিভ পাসপোর্ট। তখন সর্বশেষ তিনি যে পাসপোর্ট করেছেন সেটি তো আমাদের এখানে রি ইস্যু করার জন্য দিয়েছেন। তখন সেই আবেদনটি বাতিল হয়ে যায়, আবিস রিজেক্টেড দেখায়। কারণ সেই আবেদনটি পুরনো গোপন করা যে পাসপোর্টটি থাকে সেটি ফিংগারপ্রিন্ট বা বায়োমেট্রিক ডাটার সাথে ম্যাচ হয়। এভাবে দূতাবাসের প্রথম সচিব মাল্টিপল পাসপোর্ট সমস্যার ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। তাদের এমন আলোচনায় অংশ নেন পাসপোর্ট ভোগান্তিতে থাকা হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশী। দূতাবাসের এমন উদ্যোগকে অনেকেই প্রশংসা করেন। আবার অনেকে তাদের ক্ষোভের কথাও বলেন। পারভেজ সিদ্দিকী নামের একজন প্রবাসী বলেন, এটা খুবই ভালো উদ্যোগ। মান্নান হীরা বলেন, গুড জব। অবশ্য সোয়েব আহমেদ নামের একজন প্রবাসী দূতাবাসের ই-পাসপোর্ট সেবার বিষয়ে সমালোচনা করে বলেন, ই-পাসপোর্টের অ্যাপয়মেন্টটা আরো সহজ করে দেন। খুবই বিরক্তিকর আপনাদের সিস্টেমটা। কাফ অফিসে যাতে যাওয়া না লাগে। ওরা যে কোনো কাজে ২০-৩০ ইউরো নেয়। মো: জাহেদ আহমেদ নামের একজন প্রবাসী তার বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ইতালীতে বসবাসকারী মানুষগুলো আপনাদের কাছে জিম্মি। একটা অ্যাপয়নমেন্টও পায় না। অথচ কাফে গেলে অ্যাপয়ন্টমেন্ট পায়। তাহলে কাফের সাথে আপনাদের কোনো সম্পর্ক আছে! এই প্রসঙ্গে অমল বিশ্বাস নামের একজন বলেন, আমার প্রশ্ন হলো, যখন একজন ব্যক্তি লিবিয়া থেকে এসে আবার ভুলক্রমে ফিঙ্গার দিয়েছে, নতুন করে জন্ম তারিখ দিয়েছে, তখন তো সে আর পাসপোর্ট পায়নি। তাহলে কিভাবে তার আবার একাধিক পাসপোর্ট থাকে এই ডিজিটাল সিস্টেমে? মহববত মৃধা দূতাবাসের সেবা না পেয়ে বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, অ্যাম্বাসিতে ফোন করলে কেউ রিসিভ করে না। ই-মেইল করলে উত্তর দেয় না। তাহলে আমার সমস্যাগুলো আমি আপনাদের কিভাবে জানাব। আমরা তো অনেক দূরে থাকি। চাইলেই তো আর দূতাবাসে যেতে পারি না। আব্দুল হাকিম আহমেদ মারুফ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চান, কালিয়ারীর পাসপোর্ট কবে হবে। ৩ মাস তো হয়ে গেছে। মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান জানতে চান, কাতানিয়া পাসপোর্ট ডেলিভারী কবে হবে। অপর একজন বলেন, আমরা চাই দূতাবাসের সেবার মান ও সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান হোক।

ইতালী প্রবাসীদের অভিযোগ, ইউরোপের এই দেশ থেকে কোটি কোটি ডলার বাংলাদেশে প্রতি বছর রেমিট্যান্স পাঠানো হলেও সেভাবে বাংলাদেশীরা কিন্তু দূতাবাস থেকে কাক্সিক্ষত সেবা পাচ্ছে না। তারা দূতাবাসের সার্বিক কার্যক্রমের ওপর সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরের আরো কঠোর মনিটরিং করার জোর দাবি জানান। দেশটিতে বর্তমানে কয়েক লাখ বাংলাদেশী বসবাস করছেন।

এ বিষয়ে জানতে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ইতালীর বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কাউন্সেলরের সাথে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তিনি সাড়া দেননি।