সরকার ও বিএনপি জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ভুলিয়ে দিতে চায় : মামুনুল হক

Printed Edition
3rd-6
ডিআরইউতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের গোলটেবিল বৈঠকে অতিথিরা : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক অভিযোগ করেছেন যে, বর্তমান সরকার এবং বিএনপি জনগণকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ভুলিয়ে দিতে চায়। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে গিয়ে বিদেশী শক্তির ওপর নির্ভর করলে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের মতোই পরিণতি ভোগ করতে হবে।

গতকাল বুধবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবীর মিলনায়তনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আয়োজিত “গণভোটের রায় বাস্তবায়নে অনীহা: উদ্বিগ্ন নাগরিক সমাজ” শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাওলানা মামুনুল হক বিএনপির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সখ্যর কথা স্মরণ করে বলেন, “আমরা বিএনপির সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন করেছি। কিন্তু আজ কেন আমরা বিপরীত অবস্থানে, তা জনগণের কাছে স্পষ্ট। শহীদদের রক্ত এবং পঙ্গুত্ব বরণকারী ছাত্র-জনতার ত্যাগ আমরা বৃথা যেতে দিতে পারি না।”

তিনি আরো বলেন, “২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর যারা পুলিশের বাঁশির ফুঁ শুনে পালিয়ে গিয়েছিল, তারা আজ ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। বিএনপি কেন গণভোটের বিপক্ষে গেল? আমাদের সন্দেহ হচ্ছে তারা কোনো দূরভিসন্ধি আঁটছে। ৬৮ শতাংশ মানুষের ভোটকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখালে জনগণ আবারো রাজপথে নামবে।”

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার কেন ১৮০ ডিগ্রি বিপরীত দিকে হাঁটছে, সেই রহস্য উন্মোচন করা দরকার।

কেন আইনমন্ত্রীর বদলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনের ব্যাখ্যা দিচ্ছেন? ৫ আগস্ট থেকে শিক্ষা না নিলে সবাইকে একই পরিণতি ভোগ করতে হবে।

খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন, “ঐকমত্য কমিশনের মিটিংয়ে সালাহউদ্দিন আহমাদ নিজে উপস্থিত থেকে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছিলেন। এটি একটি মীমাংসিত বিষয়। যারা এর বিরোধিতা করবে, জাতি তাদের ক্ষমা করবে না।”

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান কোনো প্রচলিত সংবিধান অনুযায়ী হয়নি। বেগম জিয়ার মুক্তি বা ড. ইউনূসের ক্ষমতা গ্রহণ, সবই হয়েছে গণ-অভ্যুত্থানের শক্তিতে। আজ যারা আইনের দোহাই দিয়ে জুলাই সনদ অস্বীকার করছেন, তারা নিজেরাই নিজেদের জালে আটকে যাবেন। বর্তমান সময়ে জনগণের আদালতই সবচেয়ে বড় সংবিধান।

সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মুনির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমাদের আগের ও পরের বক্তব্যের বৈপরীত্য তুলে ধরে বলেন, “সরকার গঠন করার পর তারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কথা বেমালুম ভুলে গেছে।

তারা মনে করছে এটি সাধারণ নির্বাচনকালীন সরকার। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে জনগণ এই সরকারকে ক্ষমা করবে না।” তিনি আরো প্রশ্ন তোলেন, কেন ৬০ শতাংশ মানুষের রায়ের বিরুদ্ধে গিয়ে বিএনপি গণভোটের বিরোধিতা করছে?

সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদের সঞ্চালনায় বৈঠকে আরো বক্তব্য রাখেন লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল, এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. নিয়ামুল বশীর, মাওলানা ইউসুফ আশরাফ এবং মাওলানা তোফাজ্জল হোসাইন মিয়াজী।

বক্তারা সম্মিলিতভাবে আহ্বান জানান, পর্দার আড়ালে যারা খেলা খেলছে তাদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নে গণভোটের দাবি মেনে নিতে হবে।