আজ টাইগ্রেসদের সামনে প্রোটিয়া নারী দল

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

আইসিসি নারী টি-২০ বিশ্বকাপে আজ লর্ডসে বেলা সাড়ে ৩টায় গ্রুপ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকা। চলতি বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসকে ৬ উইকেটে ও পাকিস্তানের বিপক্ষে ২৩ রানের দুর্দান্ত জয় পেলেও অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৯ উইকেটে ও ভারতের কাছে ৫ উইকেটে হেরে কিছুটা চাপে রয়েছে বাংলাদেশ। এই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া থাকবে টাইগ্রেসরা।

যদি-কিন্তুর উপর টিকে আছে বাংলাদেশের সেমিতে খেলার স্বপ্ন। ৪ ম্যাচ শেষে ৮ পয়েন্ট নিয়ে আগেই সেমিফাইনালে এক পা দিয়ে রেখেছে অস্ট্রেলিয়া। ৪ ম্যাচে সমান ৬ করে পয়েন্ট আছে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ভারতের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া। আর বাংলাদেশ লড়বে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। জ্যোতিরা যদি দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১০০ রানের ব্যবধানে হারায় তখন তাদের নেট রান রেট হবে +০.৪৬২। বর্তমানে আছে -০.৮৪৯। আর ভারত যদি অস্ট্রেলিয়ার কাছে ১৩০ রানেরও বেশি ব্যবধানে হারে, তখন টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠে সেমির টিকিট পাবে বাংলাদেশ। তাই জয়ের পাশাপাশি রান রেটের সমীকরণও মেলাতে হবে টাইগ্রেসদের।

আইসিসি নারী টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকা দল এ পর্যন্ত চারবার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা জিতেছে তিনবার এবং বাংলাদেশ জয় পেয়েছে একটি ম্যাচে। তবে টি-২০তে ১৫বার মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ জিতেছে মাত্র দুইবার। দক্ষিণ আফ্রিকা জয় ১২ ম্যাচে। একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়।

সর্বশেষ পাঁচটি-২০, ২০২৪ বিশ^কাপে দক্ষিণ আফ্রিকা ৭ উইকেটে জয়ী, ৮ ডিসেম্বর ২০২৩ দক্ষিণ আফ্রিকা ৮ উইকেটে জয়ী, ৬ ডিসেম্বর ২০২৩ কোনো ফল হয়নি, ৩ ডিসেম্বর, ২০২৩ বাংলাদেশ ১৩ রানে জয়ী, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ বিশ্বকাপ দক্ষিণ আফ্রিকা ১০ উইকেটে জয়ী। রেকর্ড সর্বোচ্চ ৩৭৯ রান লরা উলভার্ট এবং নিগার সুলতানা জ্যোতি ২২২ রান। সর্বোচ্চ উইকেট আয়াবোঙ্গা খাকা এবং মারিজান কাপ (দক্ষিণ আফ্রিকা)।

বাংলাদেশের শক্তির জায়গা স্পিন বোলিং আক্রমণ। নাহিদা আক্তার, রাবেয়া খান ও সুলতানা খাতুনদের স্পিন ঘূর্ণি যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্য বিপজ্জনক। এ ছাড়া অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির ধারাবাহিক ব্যাটিং এবং উইকেটের পেছনে নেতৃত্ব দলকে চাঙ্গা রাখে। দুর্বলতার জায়গা বলতে গেলে টপঅর্ডার ব্যাটিংয়ের ধীরগতি এবং পাওয়ার-প্লে-তে দ্রুত উইকেট হারানো। বড় দলের বিরুদ্ধে মারকুটে ব্যাটিংয়ের অভাব এখনও প্রধান সমস্যা। দলের নির্ভরযোগ্য ক্রিকেটার নিগার সুলতানা জ্যোতি (ব্যাটার), নাহিদা আক্তার (বোলার) ও মারুফা আক্তার (পেসার)।

দক্ষিণ আফ্রিকা দল এই মুহূর্তে দারুণ ফর্মে আছে। তারা নিজেদের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২ উইকেটে এবং ভারতের বিপক্ষে ৬ উইকেটের বড় জয় তুলে নিয়ে ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে। শক্তিশালী ও অভিজ্ঞ ব্যাটিং লাইন-আপ। অধিনায়ক লরা উলভার্ট এবং তাজমিন ব্রিটস ওপেনিংয়ে দুর্দান্ত শুরু দিচ্ছেন। এ ছাড়া মারিজান কাপ এবং গতি তারকা শবনিম ইসমাইলের উপস্থিতি পেস আক্রমণকে বিশ্বমানের করে তুলেছে। তবে তাদের দুর্বল জায়গা মাঝে মধ্যে মিডল-অর্ডারে অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং স্পিনের বিপক্ষে কিছুটা অস্বস্তি।

সেমিফাইনালের পথে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে লর্ডসের কন্ডিশনে দক্ষিণ আফ্রিকার পেসাররা বাড়তি সুবিধা পেতে পারে, তবে বাংলাদেশ যদি স্পিন দিয়ে প্রোটিয়া ব্যাটারদের চেপে ধরতে পারে- তবে একটি তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ আশা করা যায়।