শিশু গৃহকর্মী মোহনাকে নির্যাতন

‘মা’ ডেকেও মেলেনি মমতা, বাথরুমেই কাটত দিন

Printed Edition

গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি

১১ বছরের শিশু মোহনা। তিন বছর বয়সে মাকে হারিয়েছে। এক বুক আশা নিয়ে উত্তরার এক বিলাসবহুল বাসায় গিয়েছিল একটু আশ্রয়ের আশায়। গৃহকর্ত্রীকে ‘মা’ বলে ডেকেছিল সে; কিন্তু মমতার বদলে জুটেছে অমানুষিক পাশবিকতা। রাজধানীর উত্তরায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এমডি সাফিকুর রহমানের বাসায় আট মাস যেন এক জীবন্ত নরক পার করেছে এই শিশুটি।

বর্তমানে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন মোহনা। তার শরীরের প্রতিটি ইঞ্চি যেন নির্যাতনের সাক্ষী দিচ্ছে। হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা: মোহাম্মদ খলিলুর রহমান জানান, মোহনার শরীরে আঘাতগুলো রুটিনমাফিক ও দীর্ঘমেয়াদি। গরম খুন্তির ছ্যাঁকা ও লাঠির আঘাতগুলো কোনোটি ১০ দিনের, আবার কোনোটি দুই মাস পুরনো। তাকে দীর্ঘ দিন পুষ্টিকর খাবারও দেয়া হয়নি।

হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে মোহনা জানায়, গৃহকর্ত্রী বিথী তাকে কারণে-অকারণে মারধর করতেন। বাথরুমে আটকে রাখা হতো দিনের পর দিন। মোহনা বলে, ‘পেটে ক্ষুধা থাকলেও ভয়ে খাবার চাইতাম না। গৃহকর্তা বাসায় এলে আমাকে বাথরুমে আটকে রাখা হতো। বাথরুমে বসে থাকি কেন, কাজ করি না কেন- এই অজুহাতে আমাকে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেয়া হতো।’

মোহনার বাবা গোলাম মোস্তফা পঞ্চগড় থেকে কাজের সন্ধানে গাজীপুরে এসে হোটেলে শ্রমিকের কাজ করেন। মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই তাকে উত্তরার ওই বাসায় কাজে দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘ম্যাডাম বলেছিলেন, মেয়েকে লালন-পালন করে বিয়ে দেবেন; কিন্তু আট মাস পর যখন মেয়েকে ফেরত আনতে গেলাম, তখন তার ক্ষতবিক্ষত অবস্থা দেখে আমি স্তব্ধ হয়ে যাই। ম্যাডাম দাবি করেছিলেন, সে বাথরুমে পড়ে গিয়ে ব্যথা পেয়েছে।’

এ ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এমডি সাফিকুর রহমান, তার স্ত্রী বিথী এবং আরো দুই গৃহকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। মা-হারা এই শিশুটির আর্তনাদ এখন কেবল বিচারের দাবি জানাচ্ছে। মোহনার দাদীর প্রশ্ন- মমতার আশায় যাকে ‘মা’ ডেকেছিল নাতনী, সেই মানুষটি কিভাবে তাকে এমন অমানুষিক যন্ত্রণা দিতে পারল?