ব্যাংক খাত থেকে সরে অন্য খাতে ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা
ফ্লোর প্রাইস তুলে নিতে বিএসইসিকে ডিবিএ’র অনুরোধ
Printed Edition
অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
পুঁজিবাজারের স্বাভাবিক ধারার অংশ হিসেবে ব্যাংক খাত থেকে বিনিয়োগ সরে গিয়ে ধীরে ধীরে অন্য সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে স্থানান্তর হচ্ছে। ইতোমধ্যে ব্যাংকিং খাতের অধিকাংশ কোম্পানি তাদের বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ এবং লভ্যাংশ ঘোষণা সম্পন্ন করেছে। ফলে এ খাত নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহে ভাটা পড়তে শুরু করেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, লভ্যাংশ ঘোষণার পর স্বাভাবিকভাবেই ব্যাংক খাতে বিক্রয়চাপ তৈরি হয় এবং বিনিয়োগকারীরা বিকল্প খাতের দিকে ঝুঁকে পড়েন। গতকালের বাজার আচরণ বিশ্লেষণেও এর প্রতিফলন দেখা গেছে। এক মাসের বেশি সময় ধরে ব্যাংকিং খাত লেনদেন ও মূল্যবৃদ্ধিতে এগিয়ে থাকলেও গতকাল সেই প্রবণতা আর বজায় থাকেনি।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল লেনদেনের শীর্ষে উঠে এসেছে ভিন্ন খাতের কোম্পানি। যদিও শীর্ষ দশ লেনদেনে ব্যাংকিং খাতের কয়েকটি কোম্পানি ছিল, তবে মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় এ খাতের কোনো কোম্পানির নাম দেখা যায়নি। অন্য দিকে, ডিসেম্বর অর্থবছর শেষ করা বীমা খাতে এখনো বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে। ফলে ব্যাংক খাতে দরপতনের প্রবণতা থাকলেও বীমা খাতে তা তুলনামূলক কম।
ডিএসইতে গতকাল সূচকের আচরণ ছিল মিশ্র। প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১০ দশমিক ৫৭ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২৬৭ দশমিক ২২ পয়েন্টে নেমে আসে। দিনের শুরুতে সূচকটি ছিল ৫ হাজার ২৭৭ দশমিক ৮০ পয়েন্টে। ডিএসই-৩০ সূচক ৫ দশমিক ৮৮ পয়েন্ট কমলেও শরিয়াহ সূচক ৫ দশমিক ৬২ পয়েন্ট বেড়েছে। অন্য দিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সবগুলো সূচকে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। সার্বিক মূল্যসূচক ২০ দশমিক ৯৭ পয়েন্ট, সিএসই-৩০ সূচক ২৯ দশমিক ৯৪ পয়েন্ট এবং সিএসসিএক্স সূচক ৯ দশমিক ০৫ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়।
দিনের শুরুতে সূচক ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও পরে বিক্রয়চাপে পড়ে বাজার। লেনদেন শুরুর ১৫ মিনিটের মধ্যে ডিএসইএক্স প্রায় ৩১ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৩০৯ পয়েন্টে উঠে যায়। তবে এই অবস্থান থেকে ধীরে ধীরে বিক্রয়চাপ বাড়তে থাকে। শুরুতে চাপ সহনীয় থাকলেও পরবর্তীতে তা তীব্র হয় এবং মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় থাকা অনেক কোম্পানির শেয়ার দর হারায়। ব্যাংক খাতের বিক্রয়চাপও সূচকের পতনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এ দিকে বাজারে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান ফ্লোর প্রাইস নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)। সংগঠনটি বলেছে, ফ্লোর প্রাইসের কারণে বহু শেয়ারের লেনদেন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম সোমবার বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে ফ্লোর প্রাইস দ্রুত প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছেন।
সংগঠনটির দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ফ্লোর প্রাইস কার্যকর থাকায় অনেক শেয়ারের স্বাভাবিক লেনদেন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যেমন- বেক্সিমকো লিমিটেড দীর্ঘদিন লেনদেনহীন রয়েছে এবং ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ নির্ধারিত দামে আটকে থাকায় বিক্রেতারা স্বাভাবিকভাবে লেনদেন করতে পারছেন না। ডিবিএ আরো জানিয়েছে, ফ্লোর প্রাইসের কারণে মার্জিন ঋণ নেয়া বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নেতিবাচক ইক্যুইটির ঝুঁকি বাড়ছে, যা বাজারের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। পাশাপাশি এই কৃত্রিম মূল্যসীমা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছেও নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। তাই বাজারে স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনতে দ্রুত ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
লেনদেনের বিচারে গতকাল ডিএসইতে শীর্ষে ছিল বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস। কোম্পানিটির ৩৮ কোটি ১৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা মুন্নু সিরামিকসের লেনদেন হয় ২৬ কোটি ৪১ লাখ টাকা। শীর্ষ দশের অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে ছিল সিটি ব্যাংক, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং সিস্টেমস, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, ইস্টার্ন ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, মীর আখতার হোসাইন, যমুনা ব্যাংক ও রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স।
মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে ছিল মুন্নু সিরামিকস, যার শেয়ারের দাম ৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ বেড়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের দর বেড়েছে ৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ। এ ছাড়া ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং সিস্টেমস, সিকদার ইন্স্যুরেন্স, মুন্নু অ্যাগ্রো অ্যান্ড জেনারেল মেশিনারিজ, মীর আখতার হোসাইন, এশিয়া প্যাসিফিক ইন্স্যুরেন্স, ন্যাশনাল ফিড মিলস, শাইনপুকুর সিরামিকস ও মালেক স্পিনিংও উল্লেখযোগ্য দরবৃদ্ধি পেয়েছে।