টাকার লোভে বালু বিক্রি অস্তিত্ব সঙ্কটে গ্রাম

Printed Edition
bangla-1
নরসিংহপুর ইউনিয়নের সুনাইত্যা ও দ্বীনেরটুক গ্রামের মাটি কেটে নেয়ার ফলে খাল তৈরি হয়েছে : নয়া দিগন্ত

সোহেল মিয়া দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ)

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নে প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বালু লুটের তাণ্ডবে মানচিত্র থেকে মুছে যাচ্ছে একের পর এক গ্রাম। টাকার লোভে একশ্রেণীর জমির মালিক ফসলি জমি খনন করতে দিচ্ছেন, কোথাও আবার রাতের আঁধারে জোরপূর্বক কেটে নেয়া হচ্ছে বালু। আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে উপজেলার সুনাইত্যা, দ্বীনেরটুক ও সিরাজপুর গ্রামের ফসলি জমি এবং মরা চেলা নদীর পাড় কেটে সাবাড় করা হচ্ছে। এতে নদী ও ফসলি জমি মিশে একাকার হয়ে গেছে, আর অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়েছে জনপদ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বালু লুটের তাণ্ডবে গ্রামের ভেতরে শতাধিক ফসলি জমি বর্তমানে গভীর পুকুরে পরিণত হয়েছে। নদীর পাড় কেটে বালু তোলায় বসতঘর ও স্থাপনা ভেঙে পড়ছে। রাতভর ভারী ট্রাকে বালু পরিবহনের কারণে বেশির ভাগ গ্রামীণ সড়ক ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশেই এই ধ্বংসযজ্ঞ চলছে।

সুনাইত্যা গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, দিনের বেলা বালুখেকুরা নিজেদের কেনা জমি থেকে বালু তুললেও রাতে অন্যদের জমি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এই চক্রটি এতই প্রভাবশালী যে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। বালুখেকুদের সাথে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রায়ই বসে সময় কাটাতে দেখা যায়। মাঝেমধ্যে অভিযানের নামে নাটক সাজিয়ে তাদের কেবল সতর্ক করে দেয়া হয়। একই চিত্র দেখা গেছে সিরাজপুর গ্রামেও। সেখানকার বাসিন্দারা জানান, মরা নদীর বালু লুট করায় নদীর আকার দিন দিন অস্বাভাবিক বড় হচ্ছে। সন্ধ্যা নামলেই বড় বড় ট্রাক্টরের দাপটে ৪ ফুট প্রস্থের সরু রাস্তাগুলো ভেঙে নদীতে বিলীন হচ্ছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জেলা প্রশাসন প্রতি বছর মোটা অঙ্কের রাজস্বের লোভে পরিবেশগত সমীক্ষা ছাড়াই সোনালী চেলা নদীটিকে বালুমহাল হিসেবে ইজারা দিচ্ছে। গত দুই বছরে সারপিনপাড়া ও পূর্বচাইরগাঁও গ্রামের শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। বর্তমানে সারপিনপাড়া, পূর্বচাইরগাঁও, সোনাপুর, রহিমের পাড়া ও নাছিমপুরসহ আশপাশের ছয়টি গ্রাম চরম অস্তিত্ব সঙ্কটে।

স্থানীয়রা জানান, পাড়সংলগ্ন জমির মালিকরা নগদ টাকার বিনিময়ে বালু ব্যবসায়ীদের কাছে মাটি বিক্রি করছেন, যা পুরো এলাকার জন্য ‘কাল’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গভীর থেকে বালু তোলায় নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে তীব্র ভাঙন দেখা দিচ্ছে। দোয়ারাবাজার থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে ২০-২২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। অন্যান্য এলাকায়ও পুলিশি তদন্ত ও অভিযান চলছে। উপজেলা ইউএনও অরূপ রতন সিং জানিয়েছেন, টাকার বিনিময়ে পাড় বিক্রি ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।