ইরান-ইসরাইল ভয়াবহ যুদ্ধ

জর্দানে বাংলাদেশীরা ভালো আছে, সাইরেন বাজলে আশ্রয়ে যাওয়ার অনুরোধ

মনির হোসেন
Printed Edition

ইরানের সাথে বর্বর ইসরাইলের স্মরণকালের ভয়াবহ যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরই জর্দান সরকার তার দেশের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। যুদ্ধের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশীর হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে জর্দানের বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে প্রবাসী বাংলাদেশীদেরকে ইতোমধ্যে বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়ে বলা হয়েছে, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাইরেন বাজার সাথে সাথে যেন তারা নিরাপদ আশ্রয়ে গিয়ে অবস্থান নেন এবং রাতে বের না হওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়।

গতকাল জর্দানের বাংলাদেশ দূতাবাসের দূতালয় প্রধান স্বাক্ষরিত বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে উদ্ভূত বিশেষ পরিস্থিতিতে জর্দানে অবস্থানরত বাংলাদেশী নাগরিকদের চলাফেরায় সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে। বিশেষ করে রাতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে। জর্দানের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক জারিকৃত সতর্কতামূলক বার্তা অনুসরণ করার পাশাপাশি কর্তৃপক্ষের বাজানো সাইরেনের সময় নিকটবর্তী আশ্রয়ের নিচে অবস্থান করার জন্য বিশেষ নির্দেশনায় বলা হয়েছে। প্রয়োজনে দূতাবাসের কাউন্সেলর ও দূতালয় প্রধান শাহেদ বিন আজিজ (হোয়াটসঅ্যাপ ও ইমো নম্বর-+৮৮-০১৭১০-৩৭৮১৪২), প্রথম সচিব (শ্রম) মিজ্ উম্মে সালমা (হোয়াটস অ্যাপ ও ইমো-+৯৬২-৭৮৯৬০-৬৪১৫) এবং শ্রম সহকারী আরিফুল ইসলামের সাথে (হোয়াটসঅ্যাপ ও ইমো-+৯৬২৭৮১৬৪০০৮১) যোগাযোগ করার জন্য দূতাবাসের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ইরান থেকে ইসরাইলের দূরত্ব আনুমানিক দুই হাজার কিলোমিটার। এই দুই দেশের মাঝামাঝি অবস্থায় জর্দানের অবস্থান। জর্দানের পাশের দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরাক, বাহরাইন ও সৌদি আরব। আবার ইরানের পাশে দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে কুয়েত-কাতার। অপর পাশে রয়েছে মিসর ও লিবিয়া। ইসরাইল জর্দানের ওপর দিয়ে ইরানে হামলা চালাচ্ছে। ইরানও জর্দানের ওপর দিয়ে ইসরাইলে ড্রোন ও মিসাইল হামলা করছে। এই অবস্থায় উভয় সঙ্কটের মধ্যে পড়েছে জর্দান। জর্দানে এই মুহূর্তে প্রায় এক লাখ বাংলাদেশী (নারী-পুরুষ) কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত রয়েছে। তাদের প্রতিটি মুহূর্ত কাটছে অজানা শঙ্কার মধ্যে।

গতকাল রোববার রাতে জর্দানে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাস এর দূতালয় প্রধান শাহেদ বিন আজিজের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব না হওয়ায় প্রথম সচিব (শ্রম) মিজ্ উম্মে সালমার সাথে যোগাযোগ করা হয়। প্রথমে তিনি মিটিংয়ে রয়েছেন জানালেও পরবর্তীতে তিনি প্রতিবেদকের পাঠানো বার্তা পেয়ে সাথে সাথে তার জবাব দেন।

ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের কারণে জর্দানে বাংলাদেশীদের মধ্যে কোনো ধরনের সমস্যা হচ্ছে কি-না এবং দূতাবাস থেকে প্রবাসীদের কোনো বার্তা দেয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি উত্তরে বলেন, জর্দানে স্কুল কলেজ অফিস সব কিছুই স্বাভাবিক রয়েছে। বাংলাদেশীরাও এখন পর্যন্ত ভালো আছে। জর্দানের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় কিছু ফ্লাইট শিডিউলে পরিবর্তন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। দেশটিতে আনুমানিক কতজন বাংলাদেশী রয়েছে জানতে চাইলে মিজ্ উম্মে সালমা নয়া দিগন্তকে বলেন, ৬৫ থেকে ৭০ হাজারের মতো বাংলাদেশী রয়েছে।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, তাদেরকে জর্দান সরকারের নির্দেশনা মেনে চলার ইতোমধ্যে পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে।

এর আগে গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়ানো একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, জর্দানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে কিছু নারীকর্মী যখন বোমা হামলা চলছিল তখন তারা বাড়ির ছাদে উঠে পড়েন। এ সময় কাউকে কাউকে বোমার দৃশ্য ভিডিও করতে আবার কাউকে কাউকে আতঙ্কিত হয়ে আল্লাহর নাম নিতে শোনা যাচ্ছিল। তবে এটি জর্দানের কোনো এলাকার ঘটনা তা অবশ্য জানা সম্ভব হয়নি।