১৩ স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীকে আস্তানায় নিয়ে ধর্ষণ
নারী কণ্ঠে রাব্বির ফাঁদ
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রথমে নারী কণ্ঠে মোবাইল ফোনে কল। এরপর ঘনিষ্ঠতা। এক পর্যায়ে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় যাত্রাবাড়ীতে। সেখানে নিয়ে যৌন নির্যাতন এবং ধর্ষণের পর সেই দৃশ্য ভিডিও ধারণ করে রাখত রাশেদুল ইসলাম রাব্বি (৩০) নামে এক ব্যক্তি। গত দুই মাসে নারী কণ্ঠে রাব্বি (ট্র্যাপে ফেলে) ফাঁদ তৈরি করে স্কুল-কলেজের ১৩ তরুণীকে ধর্ষণের কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে রাব্বি।
পুলিশ জানিয়েছে, রাশেদুল মূলত মিরপুর এলাকার মেয়েদের টার্গেট করে যাত্রাবাড়ীর দনিয়া এলাকায় নিজস্ব আস্তানায় নিয়ে গিয়ে যৌন নিপীড়ন ও ভিডিও ধারণ করত। গত দুই মাসেই এ ধরনের ১৩টি ঘটনা ঘটিয়েছে রাব্বি। সব ভুক্তভোগীর বয়স ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। গতকাল বুধবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী।
তিনি বলেন, সম্প্রতি যাত্রাবাড়ীর দনিয়া এলাকা থেকে রাশেদুলকে গ্রেফতার করা হয়। রাশেদুলের স্থায়ী ঠিকানা মুন্সীগঞ্জের পুরান কামারগাঁ এলাকায়। তার বাবার নাম শাহজাহান মল্লিক।
আহসান উদ্দিন সামী জানান, গ্রেফতার রাব্বি সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম ফেসবুকে একটি ফেক আইডি তৈরি করে এবং মেয়ে কণ্ঠে কথা বলে একজন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে কৌশলে তার মোবাইলটির নিয়ন্ত্রণ নেন। এরপর ওই ফোনে লগইন করা সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ও সিম ব্যবহার করে নারী কণ্ঠে কথা বলে ভুক্তভোগীর বন্ধু তালিকায় থাকা স্কুল ও কলেজের ছাত্রীদের টার্গেট করে। নারী কণ্ঠে কথা বলে গভীর বন্ধুত্ব গড়ে তোলার পর উপহার দেয়ার কথা বলে ভুক্তভোগীদের যাত্রাবাড়ীর গোয়ালবাড়ী মোড়ে একটি নির্মীয়মাণ ভবনে নিয়ে যেত। সেখানে তাদের ধর্ষণ এবং তা মোবাইল ফোনে ধারণ করে রাখত। পরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে নিয়মিত টাকা হাতিয়ে নিত রাব্বি। শুরুতে একটি পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত অভিযোগের ভিডিত্ততে রাশেদুলকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে পাঁচজন ভিকটিমের পাঁচটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরে তদন্তে নেমে আরো ১০টি নতুন অভিযোগের তথ্য পায় পুলিশ। অভিযোগগুলো যাচাই করা হচ্ছে।