আগামী সিজনে কি ৫ আসর হবে
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
- চলতি সিজনে হয়নি সুপার কাপ
- স্বাধীনতা কাপও না হওয়ার পথে
- ১ জুন থেকে দলবদল
২০০৯ সালে প্রথমবারের মতো দেশে প্রবর্তিত হলো সুপার কাপ। বাফুফের সাবেক সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন কোটি টাকার এই সুপার কাপ আয়োজনের ঘোষণা দেন। এরপর বিভিন্ন সমালোচনার মুখেও পড়েন। যদিও সেই সুপার কাপ আয়োজনের ফলে দেশের ফুটবলে নব জাগরণের শুরু হয়েছিল। কোটি টাকার আবাহনী-মোহামেডানের সেই সুপার কাপ দেখতে মাঠে গ্যালারি ভর্তি দর্শক। আর বাইরে হাজার দর্শক। ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানসহ জাতীয় ক্রিকেট দলের বিদেশী কোচিং স্টাফরাও জাতীয় স্টেডিয়ামে আসেন খেলা দেখতে। তবে সেই সুপার কাপ ২০১৩ সালের পর আর হয়নি। গত সিজনে এই সুপার কাপ আয়োজনের কথা বলা হলেও বাস্তবতা পায়নি। আর এবারের মৌসুমে তো সুপার কাপকে বাফুফের ক্যালেন্ডারেই রাখা হয়েছিল। কিন্তু বাফুফের পেশাদার লিগ কমিটির পক্ষে তা আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। সে সাথে এবার আর না হওয়ার জোর সম্ভাবনা স্বাধীনতা কাপ। এরই মধ্যে আগামী সিজনের ক্যালেন্ডার চূড়ান্ত করেছে লিগ কমিটি। সেখানে লিগ, ফেডারেশন কাপ, স্বাধীনতা কাপ, সুপার কাপ এবং চ্যালেঞ্জ কাপও আছে। এখন প্রশ্ন লিগ কমিটির পক্ষে কি এই ক্যালেন্ডার অনুসরণ করা সম্ভব হবে?
কাল লিগ কমিটির সভায় জানানো হয়, ১ জুন থেকে শুরু হবে আগামী সিজনের বাংলাদেশ ফুটবল লিগের দলবদল। তবে কবে লিগ মাঠে গড়াবে, কবে ফেডারেশন কাপ শুরু এ বিষয়ে কিছুই জানানো হয়নি। লিগ কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান ও বাফুফে সদস্য জাকির হোসেন জানান, ‘বাফুফের নির্বাহী কমিটির সভায় পাস হওয়ার পর জানানো হবে সব। এরপর জানান লিগ, ফেডারেশন কাপ, স্বাধীনতা কাপ, চ্যালেঞ্জ কাপ এবং সুপার কাপ সবই হবে আগামী সিজনে। সেভাবেই করা হয়েছে ক্যালেন্ডার।’ সূত্র মতে, লিগ কমিটির এক সদস্যের প্রস্তাবেই বাফুফের সিদ্ধান্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করবে লিগ কমিটি।
এবারের বাংলাদেশ ফুটবল লিগের মধ্যবর্তী দলবদলের সময়ই হওয়ার কথা ছিল সুপার কাপ। কিন্তু তা করা সম্ভব হয়নি। এ জন্য স্পন্সর সঙ্কটের কথা শোনা গিয়েছিল। যদিও লিগ কমিটির এক দায়িত্বশীল এই সুপার কাপ না হওয়ার জন্য সময় বের করতে না পারার কথা উল্লেখ করেন। এরপর লিগের শেষে শুধুই স্থানীয় খেলোয়াড়দের নিয়ে হওয়ার কথা ছিল স্বাধীনতা কাপ। যা সর্বশেষ হয়েছিল ২০২৩ সালে। তবে এবারো বাফুফের পক্ষে এই আসর আয়োজন সম্ভব হচ্ছে না। যদিও কাল জাকির হোসেন চৌধুরী জানান, আমরা স্বাধীনতা কাপ আয়োজনের চেষ্টায় আছি। তবে জাতীয় দলের প্রস্তুতি এবং জাতীয় নির্বাচনের জন্য লিগ যে পিছিয়েছে এতে আমাদের কাছেও প্রশ্নাতীত এই স্বাধীনতা কাপ করতে পারবো কি না। সময়ও হাতে নেই। এর পরও করার চেষ্টা করব। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আমরা পরে জানাব।
এ মাসেই শেষ হওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশ ফুটবল লিগ (বিএফএল)। কিন্তু জাতীয় নির্বাচন ও জাতীয় দলের প্রস্তুতির জন্য লিগ বন্ধ থাকায় এখন লিগ শেষ হবে ২৩ মে। এরপর ৫ জুন জাতীয় দলের ফিফা প্রীতিম্যাচ। তখন ফের জাতীয় দলের জন্য ন্যূনতম এক সপ্তাহ আগে খেলোয়াড় ছাড়বে হবে ক্লাবগুলোকে। তাই মে মাসের শেষ দিকে এই স্বাধীনতা কাপ করা সম্ভব নয়। লিগের ১০টি দল এবং সার্ভিসেস দলগুলোর অংশ নেয়ার কথা এই স্বাধীনতা কাপে। সার্ভিসেস দল গুলোর জোর দাবি তাদের যেন এই স্বাধীনতা কাপে খেলার সুযোগ দেয়া হয়। কারণ তাদের পক্ষে বাফুফের অন্য টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ হয় না।
তবে জাতীয় নির্বাচনের সময় নিরাপত্তার যুক্তি দেখিয়ে বাংলাদেশ ফুটবল লিগের খেলা বন্ধ রাখাতেই স্বাধীনতা কাপের সিডিউল নিয়ে বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। অথচ একই সময়ে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগের খেলা হয়েছে। তা ঢাকার বাইরে গাজীপুর মাঠেও। এই প্রসঙ্গে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থাকা ফর্টিস এফসির সভাপতি শাহীন হাসান জানান, স্রেফ ফর্টিসকে ঠেকানোর জন্যই নির্বাচনে নিরাপত্তার অজুহাত সামনে আনা হয়েছিল। কারণ তখন দুই বড় ক্লাব অনুশীলনে ছিল না। সেখানে ফর্টিস তাদের দলকে প্র্যাকটিসে রেখেছিল। তখন খেলা শুরু হলে ওই দুই ক্লাব সমস্যায় পড়ত এই কারণেই লিগ বন্ধ রাখা হয়। তাই আমি সভায় বলেছি, লিগ কমিটির পক্ষে এবার স্বাধীনতা কাপ করা আসলেই সম্ভব কি না তা যেন ফের রিভিও করে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। আমার এই প্রস্তাব মেনে নিয়েছেন লিগ কমিটির চেয়ারম্যান ইমরুল হাসান।
কয়েক ক্লাবের উপর ফিফার ট্রান্সফার ব্যান আছে। অতি দ্রুত এই সমস্যার সমাধানে ক্লাবগুলোকে কয়েক দফা চিঠি দেয়া হয়েছে বলে জানান জাকির হোসেন চৌধুরী।