ফিরেছে লুটের ২৫ লাখ ঘনফুট পাথর আবার পর্যটকে মুখরিত সাদাপাথর

আবদুল কাদের তাপাদার, সিলেট ব্যুরো
Printed Edition

  • জেলা প্রশাসকের আলটিমেটামে ব্যাপক সাড়া
  • এ পর্যন্ত ৬ লাখ ঘনফুট পুনঃস্থাপন ১২ লাখ ঘনফুট ডাম্পিং স্ট্যান্ডে

সিলেটের জেলা প্রশাসকের আলটিমেটামের পর নিজ উদ্যোগে ট্রাকের পর ট্রাক ভর্তি করে সাদাপাথর ফিরিয়ে দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। তবে এরই আগে বিপুলসংখ্যক পাথর ফেরত এসেছে।

সোমবার (২৫ আগস্ট) দুপুর পর্যন্ত সর্বশেষ ২৫ লাখ ঘনফুট পাথর জব্দ করেছে প্রশাসন। এর মধ্যে রোববার রাত পর্যন্ত ডাম্পিং স্ট্যান্ডে ১২ লাখ ঘনফুট পাথর জমা হয়েছে। শুধুমাত্র রোববার একদিনেই পাথর ফিরে এসেছে পঁচাশি হাজার (৮৫০০০) ঘনফুট। প্রাপ্ত পাথর দিনে রাতে সাদাপাথরে পুনঃস্থাপনের কাজ চলছে। শুধুমাত্র ২৪ আগস্ট রোববার পুনঃস্থাপন করা হয়েছে সাড়ে চার হাজার ঘনফুট পাথর। সিলেট জেলা প্রশাসন ও কোম্পানিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র জানিয়েছে, অনেকেই পাথর ফেরত দিতে উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের সাথে যোগাযোগ করছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা আলটিমেটামের শেষ সময় জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, আলটিমেটামের পর সিলেটে লুট হওয়া পাথরগুলো ফেরত দিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। আশা করি আলটিমেটামের সময়ের মধ্যেই সব পাথর উদ্ধার করা সম্ভব হবে।

সিলেটের ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারি এলাকায় সাদাপাথর ও রেলওয়ের সংরক্ষিত বাঙ্কার থেকে

সাম্প্রতিক সময়ে হাজার কোটি টাকার পাথর লুটপাটের ঘটনায় দেশব্যাপী আলোচনা সমালোচনার মুখে প্রত্যাহার করা হয়েছে জেলা প্রশাসককে। এরই মধ্যে জেলা প্রশাসন, মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ ও বিজিবিসহ কয়েকটি তদন্ত কমিটি পাথর লুট নিয়ে কাজ করছে। গত শুক্রবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোখলেছুর রহমানসহ তদন্ত কমিটির সদস্যরা সাদাপাথর এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় সচিব মোখলেছুর রহমান বিজিবির সংশ্লিষ্টতা নিয়ে কথা বলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার সিলেটের ১৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জুবায়ের আনোয়ার গণমাধ্যমকে জানান, বিজিবির সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখতে সদর দফতরের একটি তদন্ত টিম কাজ করছে।

এদিকে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিজিবি, খনিজসম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপারের সংশ্লিষ্টতাসহ ৪২ জনের একটা তালিকা প্রকাশ করেছে দুদক।

তালিকা প্রকাশের পর নগর বিএনপি এবং নগর ও জেলা জামায়াতের চার নেতা সংবাদ সম্মেলন করে এর বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, দুদককে অবশ্যই এটা প্রমাণ করতে হবে।

জানা গেছে, শনিবার (২৩ আগস্ট) রাত থেকে রোববার (২৪ আগস্ট) রাত পর্যন্ত পাথর ব্যবসায়ীরা নিজ খরচে নির্দিষ্ট এলাকায় অন্তত ১২০ ট্রাক সাদাপাথর পৌঁছে দিয়েছেন।

কোম্পানিগঞ্জ ও সিলেট সদর উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পাথর ফিরিয়ে দিতে প্রশাসনের মাইকিংয়ের পর অনেক ব্যবসায়ী তাদের সাথে যোগাযোগ করেছেন। শনিবার রাত থেকে রোববার ভোর ৬টা পর্যন্ত ২৫১টি ট্রাকে তল্লাশি চালানো হয় এবং সাতটি বাদে সব কটি ট্রাকে এলসি পাথর থাকায় ছেড়ে দেয়া হয়। রোববার দুপুরে সদর উপজেলার লালবাগের ঝুমুর ক্রাশার ও শাহজালাল ক্রাশার মেশিনে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ঝুমুর ক্রাশারে প্রায় ১০ হাজার ঘনফুট এবং শাহজালাল ক্রাশার মেশিনে প্রায় ৫০ হাজার ঘন ফুট পাথর জব্দ করা হয় এবং স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্যের জিম্মায় দেয়া হয়।

শনিবার রাত থেকে রোববার বিকেল পর্যন্ত ১০০-এর বেশি ট্রাক দিয়ে পাথর ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর এলাকায় পাঠানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে সদর উপজেলার ধোপাগুল এলাকার স্টোন ক্রাশার মিল ব্যবসায়ী কাজী ফরহাদ হোসেন বলেন, আমি তিন মাস আগে পাথর কিনেছিলাম। এরপর আর কোনো পাথর কিনিনি। তবু জেলা প্রশাসক যেহেতু বলেছেন তার প্রতি সম্মান রেখে আমার মিলে থাকা সব পাথর সাদাপাথরে ফিরিয়ে দিয়েছি।

এদিকে ব্যবসায়ীরা সাদা পাথর ফেরত দেয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গা থেকে উদ্ধার হওয়া পাথর নির্দিষ্ট পর্যটনকেন্দ্রে প্রতিস্থাপনের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

এ ব্যাপারে ইউএনও খুশনূর রুবাইয়াত গণমাধ্যমকে জানান, ‘শনিবার রাত ১২টা থেকে রোববার বিকেল পর্যন্ত ১০০-এর বেশি ট্রাক পাথর সাদাপাথর এলাকায় পৌঁছে দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া সিলেটের ধোপাগুল এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ী নিজ উদ্যোগে তাদের সংগ্রহে থাকা আটটি ট্রাক পাথর সাদাপাথর স্পটে পৌঁছে দিয়েছেন। পাথর ফিরিয়ে দেয়ার গণবিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার পর অনেকেই আমাদের সাথে যোগাযোগ করছেন পাথর ফেরত দেয়ার জন্য। তবে তারা বলছেন, পর্যাপ্ত পরিমাণ ট্রাক না থাকার কারণে তারা পাথর পরিবহন করতে পারছেন না। বিষয়টি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তদারকি করছেন।’

এর আগে গতকাল শনিবার সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ থেকে লুট হওয়া সাদা পাথর আগামী মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যে নিজ উদ্যোগে, নিজ খরচে পৌঁছে দেয়ার নির্দেশ দেয় জেলা প্রশাসন। এ সময়ের পর কারো কাছে সাদা পাথর পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়। এ ব্যাপারে একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে জেলা প্রশাসন। একই সাথে কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট উপজেলায় মাইকিংও করা হয়।