মার্কিন প্রশাসনের সাথে কথা বলবেন ইউনূস

শুল্ক নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, ৯ তারিখের আগে ইতিবাচক কিছু ঘটতে পারে

বিশেষ সংবাদদাতা
Printed Edition
1st 1
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের বিষয়ে উপদেষ্টা, শীর্ষ পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ এবং কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেন : পিআইডি

বাংলাদেশী পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বর্ধিত শুল্ক আরোপ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরাসরি মার্কিন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করবেন বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন। তিনি বলেছেন, উনি (মুহাম্মদ ইউনূস) আমাদের দেশের একটি বিশাল সম্পদ। তার আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতাকে এ বিষয়ে কাজে লাগানো হবে। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমাদের আমদানির পরিমাণও বাড়ানো হবে, যা দেশটির সাথে বাণিজ্য ঘাটতি কমে যায়।

গতকাল রাত ৯টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এক ব্রিফিং তিনি এ কথা বলেন। এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে যমুনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ইস্যু নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাণিজ্য উপদেষ্টা ছাড়াও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর ড. আহসান এইচ মনসুর, প্রধান উপদেষ্টার উচ্চ প্রতিনিধি (হাই রিপ্রেজেন্টিভ) খলিলুর রহমান, বেপজার চেয়ারম্যান লুৎফে সিদ্দিকী, বিডার প্রধান আবদুল্লাহ হারুণসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

খলিলুর রহমান বলেন, আগামী ৯ এপ্রিল থেকে নতুন শুল্কহার কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে আরো কয়েক দিন আমাদের হাতে রয়েছে। এ ক’দিন আমরা মার্কিন প্রশাসনের সাথে আলাপ করব। আশা করি ইতিবাচক কিছু একটা হবে। তিনি বলেন, নতুন শুল্ক নিয়ে আমাদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কারণ আমাদেন প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর ওপর বর্ধিত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এতে আমাদের সুযোগেরও সৃষ্টি করেছে।

উল্লেখ্য, বুধবার (৩ এপ্রিল) স্থানীয় সময় বিকেলে হোয়াইট হাউজের রোজ গার্ডেনে এক সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্য দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশী পণ্যের ওপর শুল্কের হার বাড়িয়ে ৩৭ শতাংশ ধার্য করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এদিন ন্যূনতম ১০ শতাংশ হারে নতুন ট্যারিফ পরিকল্পনা ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আগে দেশটিতে বাংলাদেশের পণ্যে শুল্কের হার ছিল গড়ে ১৫ শতাংশ। অতিরিক্ত শুল্কের কারণে দেশের রফতানি বাজার বিশেষ করে পোশাক খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

যুক্তরাষ্ট্রে বছরে প্রায় ৮৪০ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি করে বাংলাদেশ। এর মধ্যে বড় অংশই তৈরী পোশাক।

বাংলাদেশ ছাড়াও বর্ধিত ট্যারিফের কবলে পড়েছে আরো বহু দেশ। শুল্কের হার বাড়িয়ে ভারতের ওপর ২৬ শতাংশ, পাকিস্তানের ওপর ২৯ শতাংশ ও চীনের ওপর ৩৪ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর আরোপ হয়েছে ২০ শতাংশ শুল্ক।

এ ছাড়াও জাপানের ওপর ২৪ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়া ২৫, মালয়েশিয়া ২৪ শতাংশ, ভিয়েতনাম ৪৬ শতাংশ, পাকিস্তান ২৯ শতাংশ, শ্রীলঙ্কা ৪৪ শতাংশ, থাইল্যান্ড ৩৬ শতাংশ ও কম্বোডিয়ার ওপর ৪৯ শতাংশ শুল্কারোপ করা হয়েছে।

রফতানিতে সঙ্কট নয়, সম্ভাবনা হিসেবেই দেখছে সরকার

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশী পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৩৭ শতাংশ করায় তৈরী পোশাকসহ বিভিন্ন খাতের রফতানিকারকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও সরকার এটিকে সঙ্কট নয়, বরং সম্ভাবনা হিসেবেই দেখছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, ‘বিশ্বে এক্সপোর্ট বাড়াতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে সরকার।’

গতকাল শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বৃদ্ধির বিষয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার সভাপতিত্বে আয়োজিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা, বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ এবং শীর্ষস্থানীয় সরকারি কর্মকর্তারা।

বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, আপনারা নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন, আজকের আলোচনার পর এমন একটি সিদ্ধান্ত আসবে, যাতে বাংলাদেশের এক্সপোর্ট যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোতে আরও বাড়বে, কমবে না। তিনি জানান, শনিবার দুপুরে বাংলাদেশ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের দীর্ঘ বৈঠক হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে বৈঠক করেন নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। এ সময় রফতানিকারকদের কাছ থেকে প্রস্তাবনা ও পরামর্শ গ্রহণ করা হয়।

প্রেস সচিব বলেন, কারণ তারাই (ব্যবসায়ীরা) তো এক্সপোর্ট করেন। তাদের পরামর্শগুলোই আজকের বৈঠকে বিশ্লেষণ করা হবে। চুলচেরা বিশ্লেষণের পরই সরকার ব্যবসাবান্ধব সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি আরও জানান, আমরা নিশ্চিত, এই পদক্ষেপ আমাদের এক্সপোর্ট বাড়াবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে।

প্রেস সচিব জানান, অবস্থান শক্তিশালী করতে সোমবার একটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে চীনের বিনিয়োগকারীরাও অংশগ্রহণ ও ব্যবসা খোলার আগ্রহ দেখিয়েছেন। প্রেস সচিব বলেন, নতুন গ্লোবাল ট্রেড অর্ডারে আমরা আরও বেশি উপকৃত হবো।