বিমানের লন্ডন, কানাডা, দুবাইসহ আউট স্টেশনগুলোর খোঁজ নিচ্ছেন গোয়েন্দারা

ঢাকা-নারিতা রুটে নেপাল থেকে যাত্রী নেয়ার পরিকল্পনা

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের লন্ডন, কানাডা, দুবাইসহ সকল আউট স্টেশনের সার্বিক কর্মকাণ্ডের ওপর শুরু হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি। এসব স্টেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের দায়িত্ব কতটুকু পালন করছেন, আবার কারা অনিয়ম দুর্নীতির পাশাপাশি সরকারের ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্ণের সাথে কমবেশি জড়িত রয়েছেন- সেই সব রহস্য উদঘাটনে ইতোমধ্যে সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা মাঠে নেমেছে। তাদের দেয়া প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই কর্তৃপক্ষ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আউট স্টেশনের দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে বিমানের বলাকা ভবন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

মনির হোসেন
Printed Edition
Biman Bangladesh Airlines.

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের লন্ডন, কানাডা, দুবাইসহ সকল আউট স্টেশনের সার্বিক কর্মকাণ্ডের ওপর শুরু হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি। এসব স্টেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের দায়িত্ব কতটুকু পালন করছেন, আবার কারা অনিয়ম দুর্নীতির পাশাপাশি সরকারের ভাবমর্যাদা ক্ষুণেœর সাথে কমবেশি জড়িত রয়েছেন- সেই সব রহস্য উদঘাটনে ইতোমধ্যে সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা মাঠে নেমেছে। তাদের দেয়া প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই কর্তৃপক্ষ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আউট স্টেশনের দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে বিমানের বলাকা ভবন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এভিয়েশন বিশ্লেষকরা বলছেন, বিমানের যেসব আউট স্টেশনে যাত্রীর সংখ্যা যতবেশী, সেখানে দুর্নীতির মাত্রাও তত বেশি। তবে সরকার কী উদ্দেশ্য কেন অনুসন্ধান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেটি তো সঠিকভাবে বলা মুশকিল। তবে বিদেশের স্টেশনগুলো থেকে যাত্রীরা কতটুকু সেবা পাচ্ছেন পাশাপাশি এলেই তারা সেখানে বসে কী করছেন সেগুলো অবশ্যই সরকারের নলেজে থাকা উচিত। এসব স্টেশন মনিটরিংয়ের মধ্যে থাকলে তখন অনিয়ম দুর্নীতি যেমন কমবে তেমনি বাড়বে রাজস্বও।

বিমানের বলাকা ভবন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিমানের বিদেশে পূর্ব এবং পশ্চিম জোন মিলিয়ে মোট ১৯টি আউট স্টেশন রয়েছে। ইস্টে রয়েছে সিঙ্গাপুর, কুয়ালালামপুর ও ব্যাংকক। পশ্চিমে রয়েছে কলকাতা, দিল্লি, কাঠমান্ড, মাস্কাট, আবুধাবি, দোহা, শারজাহ, কুয়েত, দুবাই, সৌদি আরবের জেদ্দা, মদিনা, দাম্মাম, রিয়াদ, লন্ডনের হিথ্রো-ম্যানচেস্টার, ইতালি ও কানাডা।

এসব দেশে বিমানের স্টেশনগুলোতে যাত্রীদের সেবা দেয়ার জন্য তিন ধরনের কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করে থাকেন। কান্ট্রি ম্যানেজার দেখছেন টিকিট বিক্রি সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য। স্টেশন ম্যানেজাররা দেখছেন যাত্রী সংক্রান্ত বিষয়গুলো। আর যে স্টেশনে অপারেশনাল কার্যক্রম সচল রয়েছে সেখানে তারা বিমান ল্যান্ডিং, পার্কিং, ফুয়েলিং, ওভারফ্লাইংয়ের বিল চেকিংয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে যেসব স্টেশনে অপরেশেনাল ম্যানেজানের পদ নেই সেই সব আউট স্টেশনগুলোকে কান্ট্রি ম্যানেজাররা সাধারণত অনেক ক্ষেত্রে বিল চেক না করেই কাগজে সই করে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে বিমানের বিদেশের স্টেশনগুলোতে যাত্রী হয়রানি, ভোগান্তি ছাড়াও লাগেজ বুকিং নিয়ে অনিয়ম, টিকিট কেলেঙ্কারি, অনিয়ম দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ উঠেছিল চিহ্নিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। কিন্তু তারপরও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কিনা তা শোনা যায়নি। এবার বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর বিমানের অভ্যন্তরে এবং বিদেশের যতগুলো স্টেশন রয়েছে সেগুলো কিভাবে এবং কাদের দ্বারা পরিচালনা করা হচ্ছে তাদের বিষয়েই খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে। যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অনিয়ম দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া যাবে তাদের বিরুদ্ধে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেয়ার লক্ষ্য অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা নিজের পরিচয় গোপন রাখার শর্তে নয়া দিগন্তকে বলেন, বিমানের বহির্স্টেশনে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের সবার তথ্য সংগ্রহের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। দু’টি গোয়েন্দা সংস্থা এ বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছেন। তাদের কাছ থেকে তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মন্ত্রণালয় থেকে পরবর্তী অ্যাকশন নেয়া হবে। উদ্দেশ্য হচ্ছে বিমানের অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন ধরে জেঁকে বসা অনিয়ম দুর্নীতির মাত্রা কমিয়ে আনা। এর মধ্যে বিমানের একাধিক স্টেশনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগও বিমানের বলাকা এবং বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে জমা পড়েছে। বলাকা ভবনের একজন কর্মকর্তা গতকাল নয়া দিগন্তকে বলেন, বিমানের আউটলেট স্টেশনগুলোর মধ্যে দুবাই, মালয়েশিয়া, আবুধাবি, মাস্কাট, লন্ডন, কানাডা ও সৌদি আরবের (সপ্তাহে একাধিক ফ্লাইট চলাচল করে) চারটি স্টেশন বড় স্টেশন হিসেবে দেখা হয়। এসব স্টেশনে যাত্রী ও ফ্লাইটের সংখ্যা সবসময় বেশি থাকে। তার মতে, বিদেশের স্টেশনগুলোতে দুর্নীতির মাত্রা বহুমাত্রিক। উদাহরণ দিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, একটি স্টেশনের একজন কান্ট্রি ম্যানেজার যদি চান তাহলে তিনি প্রচুর অবৈধ সম্পদ বানাতে পারেন। এখন সরকার গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে কেন এবং কী উদ্দেশ্য তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটি সরকারই ভালো বলতে পারবে।

উল্লেখ্য, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে মোট ১৭টি উড়োজাহাজ সচল রয়েছে। এসব এয়ারক্রাফট দিয়েই বিশ্বের বিভিন্ন গন্তব্য চলছে বিমানের যাত্রীসেবা। এর মধ্যে লোকসানের মুখে বন্ধ হয়ে যাওয়া ঢাকা-নারিতা রুটে আগামী মাসে আবারো ডানা মেলতে যাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। গত ২০ জুন থেকে এই রুটে ফ্লাইট চালানোর লক্ষ্য বিমানের টিকিট বিক্রিও শুরু হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বিমানও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নয়া দিগন্তকে বলেন, জাপানের ঢাকা-নারিতা রুটে যে ভাড়া ছিল, এবার কিন্তু তার চেয়েও বেশি ভাড়া রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, জাপানে আমাদের ৪৫ হাজারের মতো বাংলাদেশী আছেন। লাভ-লোকসানের বিষয় নয়। তাদের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিতেই এই রুটে আবারো নতুন করে ফ্লাইট চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে এবার বিমান জাপানে সরাসরি ফ্লাইট চালানো শুরু করলেও ঢাকা থেকে নেপাল হয়ে সেখান থেকে যাত্রী নিয়ে নারিতা যাওয়ার একটা পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তাহলে নেপাল থেকেও কিছু যাত্রী পাওয়া যাবে।

এসব বিষয়ে জানতে গতকাল মঙ্গলবার রাত ৭টা ১০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাইজার সোহেল আহমেদের সাথে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তিনি টেলিফোন ধরেননি।