সাংবাদিক রমাপদ ভট্টাচার্য্য ও পরিবারের মানবেতর জীবনযাপন মামলা প্রত্যাহারের দাবি
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা ডিবি পুলিশের বিশেষ টিমের হাতে বলপূর্বক তুলে নেয়া, গুম ও নির্যাতনের পর মিথ্যা হয়রানিমূলক মামলা, বসতবাড়ি থেকে স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান সামগ্রী লুট, গুম অবস্থায় ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলন করে আত্মসাৎ এবং পরবর্তীতে সাজানো নাটক হিসেবে ঘটনাটি মিডিয়ায় প্রচার করে সামাজিকভাবে হেয় করার অভিযোগ উঠেছে মৌলভীবাজারের প্রবীণ সাংবাদিক রমাপদ ভট্টাচার্য্য ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে।
প্রায় ৭ বছর ধরে এসব ঘটনার প্রভাব ও মামলাজনিত জটিলতায় তিনি ও তার বিধবা বোনের যৌথ পরিবার সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন, আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত এবং ঋণের চাপে মানবেতর জীবনযাপন করছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রবীণ সাংবাদিক রমাপদ ভট্টাচার্য্য ২২ ফেব্রুয়ারি প্রাপ্তি স্বীকারপত্রসহ ডাকযোগে প্রধানমন্ত্রীর পুরাতন সংসদ ভবন কার্যালয়, বাংলাদেশ সচিবালয় কার্যালয় এবং গুলশানস্থ বাসভবন কার্যালয়ে পৃথক তিনটি আবেদন প্রেরণ করেন। আবেদনে তিনি প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ/ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ১০ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান, চলমান দুটি মামলা প্রত্যাহার, বাংলাদেশ বেতারের মৌলভীবাজার প্রতিনিধি পদে চাকরি পুনর্বহাল, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এ ‘বিশেষ প্রতিনিধি’ পদে নিয়োগ এবং পরিবারের সদস্যদের জন্য চাকরির ব্যবস্থা করার আবেদন জানান। তবে প্রাপ্তি স্বীকারপত্র ফেরত এলেও এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাননি বলে তিনি জানান।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০১৮ সালে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তিনি হাইকোর্টে একটি মামলা (১০৬৪৫/২০১৮) দায়ের করেন। ২০১৯ সালের ১৭ এপ্রিল ঢাকার ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ টিম মৌলভীবাজার শহরের দক্ষিণ কলিমাবাদ এলাকার একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে ও তার ভাগ্নে তন্ময় চক্রবর্তীকে আটক করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রায় ৯/১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কারসহ ২০-২২ লাখ টাকার মূল্যবান মালামাল ও চেক বই নেয়া হয়। পরে ব্যাংক এশিয়া ও সোনালী ব্যাংকের ঢাকা শাখা থেকে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা উত্তোলন করে নেয়া হয় বলেও দাবি করা হয়।
পরবর্তীতে গুলশান থানায় মামলা এবং সাইবার ট্রাইব্যুনালে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়, যেগুলোকে তারা ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’ বলে দাবি করেছেন। প্রায় পাঁচ মাস কারাবাসের পর ২০১৯ সালের ৯ আগস্ট হাইকোর্টের আদেশে তারা জামিনে মুক্তি পান।
পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, এ ঘটনার পর থেকেই সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে তারা চরম সঙ্কটে। এ সময় পরিবারের একাধিক সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং একজনের মৃত্যু ঘটে বলেও উল্লেখ করা হয়। বর্তমানে পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি হিসেবে রমাপদ ভট্টাচার্য্য বাংলাদেশ বেতারে কর্মরত থাকলেও তার চাকরি নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, পরিবারটি দীর্ঘ দিন ধরে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছে এবং মাসিক খরচ, চিকিৎসা ব্যয়, মামলা পরিচালনা ও যাতায়াত ব্যয় নির্বাহ করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্য দিকে, গুম সংক্রান্ত কমিশনে দাখিল করা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তিসহ ১৯১ জন ভিকটিমের মামলা নিষ্পত্তির সুপারিশ আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
রমাপদ ভট্টাচার্য্য দাবি করেন, গুম অবস্থায় তাদের বিরুদ্ধে সাজানো মামলা ও মিডিয়া প্রচারের মাধ্যমে সামাজিকভাবে হেয় করা হয়েছে, যার ফলে পরিবারগুলো দীর্ঘ সময় ধরে নিঃসঙ্গ ও ক্ষতিগ্রস্ত জীবনযাপন করছে। তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের সাথে যুক্ত নই। দীর্ঘ ৪৬ বছর সাংবাদিকতা করেছি। জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে এমন পরিস্থিতিতে পড়েছি। প্রধানমন্ত্রী, রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার সংগঠন ও সমাজের সচেতন মহলের সহায়তা কামনা করছি।’ তিনি আরো বলেন, সবার সহযোগিতা পেলে তিনি ও তার পরিবার আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে এবং হারানো সম্মান পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।