কিশোরদের সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধে প্রস্তুত স্পেন-গ্রিস
Printed Edition
রয়টার্স
ফ্রান্সের পর এবার স্পেন ও গ্রিসও কিশোর বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার পথে এগোচ্ছে। এতে স্পষ্ট হচ্ছে, ইউরোপজুড়ে শিশু-কিশোরদের অনলাইন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। স্পেন ইতোমধ্যেই ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোস্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধের প্রস্তাব দিয়েছে। জরিপে দেখা গেছে, দেশটির ৮২ শতাংশ নাগরিক এ সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছেন। অন্য দিকে গ্রিসও শিগগিরই ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির এক শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা।
এর আগে ফ্রান্স ও ব্রিটেন শিশু কিশোরদের সোস্যাল মিডিয়া ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের উদ্যোগ নিয়েছে। ফ্রান্সের আইনপ্রণেতারা গত মাসেই ১৫ বছরের কম বয়সীদের সোস্যাল মিডিয়া (সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম) ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিল পাস করেন। ব্রিটেনও গত মাসে পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউজ অব লর্ডসে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করার পক্ষে ভোট দিয়েছে। এর আগে গতবছর ডিসেম্বরে বিশ্বে প্রথম দেশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোস্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ করে। তারপরই বিভিন্ন দেশে একই রকম পদক্ষেপ নেয়া শুরু হয়েছে। বিভিন্ন দেশের সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো শিশুদের সোস্যাল মিডিয়া ব্যবহারে সময়ের অপচয় এবং তাদের বিকাশ ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর এসব প্ল্যাটফর্মের ক্ষতিকর প্রভাবের দিকটি লক্ষ্য করে এ ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, তার সরকার সোস্যাল মিডিয়া নির্বাহীদেরকে তাদের প্লাটফর্মে ঘৃণা বক্তব্যর জন্য তাদেরকে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করতে একটি আইন প্রণয়ন করবে।
ওদিকে গ্রিসে ডিজিটাল গভর্ন্যান্স মন্ত্রণালয় শিশুদের জন্য সোস্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধের ব্যবস্থা নিচ্ছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন বলে জানানো হয়েছে খবরে। যদিও সেটি কখন সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কিছু বলা হয়নি। গত বছর অস্ট্রেলিয়া প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেয়। এরপর আরো কয়েকটি দেশ শিশুদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে একই ধরনের পদক্ষেপ বিবেচনা করছে।