২০২৫-এর সেরা আরব্য মিউজিক প্লে-লিস্ট

Printed Edition
bino-1
২০২৫-এর সেরা আরব্য মিউজিক প্লে-লিস্ট

সাকিবুল হাসান

২০২৫ সালে আরব বিশ্বের বিকল্প ধারার সঙ্গীত এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। এই বছরের সেরা অ্যালবামগুলোতে ফুটে উঠেছে পরিচয়, দেশপ্রেম এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার এক অপূর্ব সংমিশ্রণ। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন ফিলিস্তিনি শিল্পী সেন্ট লেভান্ট। তার দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘লাভ লেটার্স’-এ তিনি একজন ভাইরাল শিল্পী থেকে একজন পরিপক্ব সঙ্গীতকার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। পপ এবং রিদম অ্যান্ড ব্লুজ ঘরানার এই অ্যালবামে তিনি তুলে ধরেছেন ভালোবাসা এবং ফিলিস্তিনি সত্তার গল্প। উত্তর আফ্রিকার সুর ও আধুনিক সিন্থেসাইজারের ব্যবহারে তৈরি তার গানগুলো শ্রোতাদের মনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলে। বিশেষ করে মারওয়ান মুসার সাথে তার কাজগুলো এই বছর ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

ফিলিস্তিনি-জর্দানিয়ান শিল্পী জেইন তার প্রথম অ্যালবাম ‘আওদা’ দিয়ে সঙ্গীত জগতে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। গত কয়েক বছরের অস্থিরতা এবং নিজের দ্রুত উত্থানকে তিনি ১৩টি গানের মাধ্যমে একটি মানচিত্রের মতো সাজিয়েছেন। সমসাময়িক রিদম অ্যান্ড ব্লুজ এবং পপ সঙ্গীতের সাথে ঐতিহ্যবাহী ‘দাবকে’ তালের সংমিশ্রণ তার গানগুলোকে দিয়েছে এক ভিন্ন মাত্রা। ঘরোয়া গল্পের পাশাপাশি এতে এক ধরনের সিনেম্যাটিক আমেজ পাওয়া যায়। অন্যদিকে, এই ধারার কিংবদন্তি শিল্পী ইয়াসমিন হামদান তার ‘আই রিমেম্বার আই ফরগেট’ অ্যালবামে স্মৃতি এবং বিস্মৃতি নিয়ে এক অসাধারণ কাজ উপহার দিয়েছেন। ইলেকট্রনিক সঙ্গীত, ট্রিপ-হপ বিট এবং ঐতিহ্যবাহী আউদ বা তন্ত্রী বাদ্যের সুরে তিনি ব্যক্তিগত বিষণœতাকে এক বৈশ্বিক ভাষায় রূপান্তর করেছেন। টরন্টো-ভিত্তিক ব্যান্ড কাজদুরা তাদের প্রথম অ্যালবাম ‘গায়োম’-এর মাধ্যমে অভিবাসনের গল্প শুনিয়েছেন। লেভান্টাইন অঞ্চলের চিরাচরিত সুরের সাথে জ্যাজ এবং ড্রিম পপ ঘরানার সংমিশ্রণে তৈরি এই অ্যালবামটি ঘরছাড়া মানুষের এক গভীর হাহাকার ও নিরাময়ের গল্প বলে। একইভাবে, তামারা কাদ্দুমি তার প্রথম পূর্ণাঙ্গ অ্যালবাম ‘দ্য মারমার’-এ ট্রিপ-হপ এবং ছায়াময় পপ সঙ্গীতের এক অন্ধকার অথচ মায়াবী জগত তৈরি করেছেন। তার কুয়েতি, ফিলিস্তিনি ও লেবানিজ ঐতিহ্যের মিশেলে তৈরি এই গানগুলো মানুষের শোক ও আত্মপরিচয়ের জটিল প্রশ্নগুলোকে স্পর্শ করে।

সঙ্গীতের এই তালিকায় আরো একটি চমকপ্রদ নাম হলো সানাম। তাদের ‘সামেতু সাওতান’ বা ‘আমি একটি কণ্ঠস্বর শুনলাম’ অ্যালবামটি নয়েজ রক, ফ্রি জ্যাজ এবং লোকসঙ্গীতের এক অদ্ভুত সম্মিলন। শিল্পী স্যান্ডি চ্যামউনের শক্তিশালী কণ্ঠের জাদুতে এই অ্যালবামটি বর্তমান সময়ের অস্থিরতাকে চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। ইরাকি-আমেরিকান সঙ্গীতশিল্পী নাবিল তার ‘গায়োম’ অ্যালবামে ব্যবহার করেছেন এক ধরনের অস্পষ্ট গিটার সুর এবং ধীরগতির ড্রাম, যা শ্রোতাকে এক ঘোরের মধ্যে নিয়ে যায়। সবশেষে, জর্দান-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মালাকাত তাদের বিশেষ সঙ্কলন ‘আল আনহার ওয়াল ওয়ান’ বা ‘নদী এবং ঝরনাধারা’র মাধ্যমে সাতজন নারী শিল্পীর স্বতন্ত্র মেধাকে এক সুতোয় গেঁথেছে। আধুনিক ইলেকট্রনিক্স থেকে শুরু করে কণ্ঠ-নির্ভর সঙ্গীতের এই সঙ্কলনটি আরব বিশ্বের পরীক্ষামূলক সঙ্গীতের মানচিত্রকেই বদলে দিচ্ছে।