মিরসরাইয়ের মাঠে শীতকালীন সবজির সমারোহ
Printed Edition
এম মাঈন উদ্দিন মিরসরাই (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন সবুজের সমারোহ। চলতি মৌসুমে ১৬টি ইউনিয়ন ও দুই পৌরসভায় প্রায় এক হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন শাক-সবজির আবাদ করা হয়েছে। এতে প্রতি বছরের মতো এবারো লাভের স্বপ্ন দেখছেন এখানকার কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ৬৬০ হেক্টর জমিতে শিম, ৫০ হেক্টরে লাল শাক, ৬৫ হেক্টরে মিষ্টি কুমড়া এবং ৯০ হেক্টর জমিতে লাউয়ের আবাদ করা হয়েছে। এছাড়া পালং শাক, মুলা শাক, বেগুন, টমেটো, বাঁধাকপি, ফুলকপি, বরবটি, মরিচসহ নানা ধরনের শীতকালীন সবজির চাষ হয়েছে। এর মধ্যে দুর্গাপুর, খৈয়াছড়া ও ওয়াহেদপুর ইউনিয়নে সবজি চাষের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি।
সরেজমিন দেখা গেছে, রবি মৌসুমের শীতকালীন সবজি নিয়ে কৃষকদের ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো। কেউ ক্ষেত থেকে সবজি তুলছেন, কেউ কীটনাশক স্প্রে করছেন, আবার কেউ জমির আগাছা পরিষ্কার করছেন। ওয়াহেদপুর, খৈয়াছড়া, আমবাড়িয়া, দুর্গাপুর ও আজমনগর এলাকার মাঠজুড়ে এখন মুলা, শিম, বাঁধাকপি, ফুলকপি, বরবটি, লাউ, মরিচ ও টমেটোর সবুজ ক্ষেত। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষকরা। অনেকেই আগাম সবজি তুলে স্থানীয় বাজারে বিক্রি শুরু করেছেন।
আজমনগর এলাকার কৃষক জানে আলম বলেন, এ বছর অন্যান্য সবজির পাশাপাশি ৪০ শতক জমিতে আগাম খিরা চাষ করেছি। প্রায় ৩২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৩৫ হাজার টাকার খিরা বিক্রি করেছি। আরো এক মাস বিক্রি করা যাবে। সব মিলিয়ে প্রায় ৮০ হাজার টাকা বিক্রি আশা করছি।
ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের মধ্যম ওয়াহেদপুর গ্রামের কৃষক সাহাব উদ্দিন বলেন, এবার লাউ ও লাল শাক চাষ করেছি। সেগুলো প্রায় বিক্রি শেষ। দামও ভালো পেয়েছি। এখন বরবটির পরিচর্যা চলছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে ভালো ফলন হবে। খৈয়াছড়া ইউনিয়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহাজান জানান, তার এলাকায় অধিকাংশ কৃষক আমন ধানের পাশাপাশি শীতকালীন সবজি চাষ করেছেন। অনেকেই আগাম খিরা চাষ করে ভালো লাভ করছেন। মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, উপজেলায় এক হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষ হয়েছে।