স্টোর থেকে আড়াই সহস্রাধিক পানির মিটার চুরি, নেই তদন্ত
খুলনা ওয়াসা
Printed Edition
খুলনা ওয়াসার অফিস থেকেই পানির মিটার চুরির হিড়িক পড়েছে। গত ছয় মাসে তিনটি ভাণ্ডারে রক্ষিত দুই হাজার ৬২২টি নতুন ও পুরাতন মিটার চুরি হয়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ চুরির ব্যাপারে শুধুমাত্র থানায় সাধারণ ডায়েরি করে দায় সেরেছেন। চুরির ব্যাপারে কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করেনি। চুরি যাওয়া মিটারের দাম কোটি টাকার ওপর।
ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ মে খুলনা হাদিস পার্কসংলগ্ন ওয়াসার পুরাতন হেড অফিসের নীচ তলায় ভাণ্ডার কক্ষে রক্ষিত এক হাজার ২৯২টি পুরাতন ও অকেজো পানির মিটার এবং ৬৪টি দুই ইঞ্চি ব্যাসের নতুন মিটার রহস্যজনকভাবে চুরি হয়। এ ঘটনায় পরের দিন ওই জোনাল অফিসের ভাণ্ডার কর্মকর্তা উপ-সহকারী প্রকৌশলী বিপ্লব মজুমদার খুলনা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। জিডিতে বলা হয়, ভাণ্ডার রক্ষক রিজওয়ান চৌধুরি তাকে কিছু খোলা মিটার পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন।
সূত্রটি জানায়, নতুন দুই ইঞ্চি ব্যাসের মিটারের এক একটির দাম ১১ হাজার ৪২৫ টাকা। সে হিসেবে রহস্যজনকভাবে চুরি যাওয়া নতুন ৬৪টি মিটারের দাম সাত লাখ ৩১ হাজার ২০০ টাকা। পুরাতন মিটার একটির দাম পাঁচ হাজার ৭০০ টাকা হিসেবে মোট ৭৩ লাখ ৬৪ হাজার ৪০০ টাকা।
রহস্যজনক এ চুরির ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে জোনাল অফিসের ভাণ্ডার কর্মকর্তা উপ-সহকারী প্রকৌশলী বিপ্লব মজুমদার বলেন, অফিসের তিন তলায় ভাণ্ডার কক্ষের তালা ভাঙার খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে দেখি কোনো মালামাল খোয়া যায়নি। পরে নীচতলায় স্টোর রুমে গিয়ে দেখি তালা দুমড়ানো, মোচড়ানো। চাবি দিয়ে খুলতে না পেরে ভেঙে ফেলি। ভেতরে গিয়ে ওসব মিটারের খোঁজ পাইনি। তিনি বলেন, থানায় জিডি করার পর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে এমডি বরাবর আবেদন করেছি। সেখান থেকে তদন্ত কমিটি হয়েছে কিনা আমার জানা নেই।
এর আগে গত বছরের ১০ নভেম্বর খালিশপুর চরের হাট জোনাল অফিসের স্টোর রুম থেকে ৭৬৬টি পুরাতন পানির মিটার চুরি যায়। ওই ঘটনায় সহকারী প্রকৌশলী ও আঞ্চলিক কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম সরদার খালিশপুর থানায় শুধুমাত্র একটি জিডি করেন। ওই ঘটনায়ও কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করেনি। এর এক মাস পরে দৌলতপুর মহেশ^রপাশা জোনাল অফিসের স্টোর রুম থেকে পাঁচ শতাধিক পুরাতন মিটার চুরি যায়। ওই ঘটনায় জোনাল কর্মকর্তা আশিকুর রহমান থানায় জিডি করেন। ওই ঘটনায়ও ওয়াসা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
সম্প্রতি এসব চুরির ঘটনার সাথে জড়িত সিন্ডিকেট প্রধান হিসেবে সহকারী প্রকৌশলী ও আঞ্চলিক কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম সরদারকে দায়ী করে এমডির বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন খুলনা ওয়াসা কর্মচারী ইউনিয়নের নেতারা। আবেদনে ওই কর্মকর্তার অপসারণ দাবি করা হয়। খুলনা ওয়াসা কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জি এম আব্দুল গফফার বলেন, খালিশপুর জোনাল অফিসে প্রথম রহস্যজনক চুরির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় শুধুমাত্র থানায় একটি জিডি দাখিলের মধ্যদিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেয়া হয়। ওয়াসার সচিবের ঢিলেমির কারণে দুস্কৃতি ও লুটপাটকারীরা পার পেয়ে যাচ্ছে।
চুরির ঘটনায় কেন তাকে দায়ী করা হচ্ছে জানতে সহকারী প্রকৌশলী ও আঞ্চলিক কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম সরদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি ওয়াসা কর্তৃপক্ষের বিষয়। এক্ষেত্রে আমার কোনো মন্তব্য নেই।
এ ব্যাপারে ওয়াসার সচিব প্রশান্ত কুমার বিশ^াস বলেন, বিষয়টি নিয়ে এমডি হুসাইন শওকত স্যারের সাথে কথা বলুন। আমার কাছে কোনো তথ্য নেই।
সাবির্ক বিষয়ে জানতে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হুসাইন শওকতের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।