সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে উত্তাপ

সংসদে সমাধান না এলে রাজপথে নামার ইঙ্গিত এনসিপির

Printed Edition

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান নিয়ে চলমান অচলাবস্থা দ্রুত নিরসনের দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির নেতারা বলছেন, সংসদের ভেতরে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না এলে তারা রাজপথে আন্দোলনের পথ বেছে নেবেন। একই সাথে গণভোটে প্রাপ্ত জনসমর্থনের ভিত্তিতে দ্রুত সংস্কার প্রক্রিয়া শুরুর দায়িত্ব সরকারের এমন অবস্থানও তুলে ধরেছেন তারা।

এ দিকে রাষ্ট্রপতির জারি করা সংবিধান সংস্কারসংক্রান্ত আদেশকে কেন্দ্র করে সংসদের ভেতরে ভিন্নমত আরো প্রকট হয়ে উঠেছে। বিএনপি একে আইনি ভিত্তিহীন বলে প্রশ্ন তুলছে, অন্য দিকে জামায়াত ও এনসিপি-সমর্থিত জোট এ আদেশের আলোকে দ্রুত পরিষদের কার্যক্রম শুরু করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

সংসদে বিএনপির নেতা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অভিযোগ করে বলেন, রাষ্ট্রপতির এ আদেশ কোনো আইন বা অধ্যাদেশের পর্যায়ে পড়ে না এবং সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে এমন নির্দেশ দেয়ার এখতিয়ারও রাষ্ট্রপতির নেই। এ কারণে তাদের দলীয় সংসদ সদস্যরা কেবল সংসদ সদস্য হিসেবেই শপথ নিয়েছেন। বিপরীতে, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের সদস্যরা সংসদ সদস্যের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ গ্রহণ করেছেন।

সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে জারি হওয়া ‘প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডার’-এর ভিত্তিতে বর্তমান সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে। সে আদেশ অনুযায়ী অনুষ্ঠিত গণভোটের এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রথম অধিবেশন ডাকা হয়নি, যা উদ্বেগজনক।

তিনি আরো বলেন, সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বানের যে বিধান রয়েছে, একই পদ্ধতিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদের বৈঠক ডাকতে হবে। সংশ্লিষ্ট আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে নির্বাচনের ফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে প্রথম অধিবেশন আহ্বান এবং ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংস্কার কার্যক্রম শেষ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

‘জুলাই সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’-এ বলা হয়েছে, গণভোটে প্রস্তাবের পক্ষে জনরায় এলে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। এ পরিষদই সংবিধান সংশোধনের মূল দায়িত্ব পালন করবে। একই সাথে প্রতিনিধিরা সংসদ সদস্য ও পরিষদের সদস্য হিসেবে দ্বৈত ভূমিকা পালন করবেন।

তবে বাস্তবে এখনো পরিষদের কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন এনসিপির নেতারা। তারা বলছেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কার এবং বৈষম্যহীন সমাজ গঠন। কিন্তু সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিলম্ব হওয়া জনমতের সাথে সাংঘর্ষিক।

এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, গণভোটে জনগণ যে রায় দিয়েছে তা কার্যকর করা এখন রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তারা সংসদের ভেতরে থেকেই প্রথমে দাবি উত্থাপন করবেন। তবে সেখানে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না এলে রাজপথে কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।

অন্য দিকে দলের সদস্যসচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার উদ্যোগ নেয়ার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর। এ ক্ষেত্রে বিলম্বের দায় সরকারকেই নিতে হবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত পরিষদের কার্যক্রম শুরু করা জরুরি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।