যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব নিরূপণ

৭ মন্ত্রীকে নিয়ে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা

ইরান যুদ্ধের প্রভাব নিরূপণ ও তা মোকাবেলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় একটি উচ্চপর্যায়ে একটি কমিটি করেছে সরকার। কমিটির প্রধান করা হয়েছে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে। এতে মন্ত্রিপরিষদের সাত সদস্যকে স্থান দেয়া হয়েছে। কমিটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিরূপণ করবে। পুরো কমিটির জন্য তথ্য উপাত্ত সরবরাহের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগকে। কমিটি গঠনের বিষয়টি জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গতকাল মঙ্গলবার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সঙ্কট ও বৈশ্বিক অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়ার শঙ্কার মধ্যে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা কী ধরনের প্রভাব রাখতে পারে খতিয়ে দেখবে। এ ছাড়াও এ কমিটি সঙ্কট ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে।

২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অস্থিরতার পর সম্প্রতি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় জ্বালানি তেলের মূল্যে সবচেয়ে বড় উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে।

ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পারস্য উপসাগরীয় তেলসমৃদ্ধ দেশগুলো উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। এতে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ সঙ্কট তৈরি হচ্ছে।

এ অবস্থায় সরকার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় রক্ষায় কমিটি করল।

কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন- স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী; স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী; বাণিজ্যমন্ত্রী; প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী এবং খাদ্যমন্ত্রী।

কমিটির কার্যপরিধিও নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এ কমিটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিরূপণ করবে।

পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সঙ্কট ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে কমিটি।

প্রয়োজনে কমিটি অতিরিক্ত সদস্য অন্তর্ভুক্ত (কো-অপ্ট) করতে পারবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সভা করবে তুলে ধরে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অর্থ বিভাগ এ কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে।

এদিকে, অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, যুদ্ধের প্রভাব নিরূপণ তথ্য উপাত্ত সরবরাহ করবে একই বিভাগের সামষ্টিক অর্থনৈতিক বিভাগ। এই বিভাগের মাধ্যমে যুদ্ধের প্রভাব কারণে জ্বালানি তেলের মূল্যপরিস্থিতি আগামী কোনো পর্যায়ে যেতে পারে তা একটি প্রক্ষেপণ দেয়ার চেষ্টার করবে। একই সাথে যুদ্ধের স্বল্প-মধ্য- ও দীর্ঘ মেয়াদি প্রভাব নিয়ে একটি পেপার তৈরি করা হবে।

যুদ্ধের কারণে রেমিট্যান্সের ওপর কী ধরনের প্রভাব পরতে পারে তাও বিশ্লেষণ করবে এই কমিটি। কমিটির রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই সরকার পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবে।