২০২৫ সালে ৩২.৮ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স রেকর্ড
Printed Edition
বিশেষ সংবাদদাতা
২০২৫ সালে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সে ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। সদ্য সমাপ্ত বছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৩২.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ।
বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে জানিয়েছে, ২০২৫ সালের রেমিট্যান্স আয় আগের বছরের ২৬.৮৮ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ২২ শতাংশ বেশি। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সঙ্কট, বৈশ্বিক মন্দা ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও এই প্রবৃদ্ধিকে অর্থনীতির জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
ডিসেম্বর মাসেই দেশে এসেছে ৩.২২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ শতাংশ বেশি। এটি গত ৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ মাসিক প্রবৃদ্ধি।
কেন বাড়ছে রেমিট্যান্স? : অর্থনীতিবিদদের মতে, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণে ২০২৫ সালে রেমিট্যান্সে এই উল্লম্ফন দেখা গেছে- হুন্ডি দমন ও ব্যাংকিং চ্যানেলে নজরদারি জোরদার; বৈধ চ্যানেলে প্রণোদনা অব্যাহত রাখা; মধ্যপ্রাচ্য ও দণি-পূর্ব এশিয়ায় নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণ; ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের ফলে প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে বেশি টাকা পাঠাতে উৎসাহিত হয়েছেন।
ডিজিটাল রেমিট্যান্স সেবা সহজীকরণ : বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘হুন্ডি চ্যানেল সঙ্কুচিত হওয়া এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আস্থার পুনরুদ্ধার রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে বড় ভূমিকা রেখেছে।’
অর্থনীতিতে প্রভাব : রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির ফলে- চলতি হিসাবের ঘাটতি কমেছে; বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল হয়েছে; আমদানি ব্যয় মেটাতে চাপ কমেছে; আর গ্রামীণ অর্থনীতিতে নগদ প্রবাহ বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৫ সালে রেমিট্যান্সই ছিল বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্য সামাল দেয়ার অন্যতম প্রধান ভরসা।
সামনে চ্যালেঞ্জ : তবে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি টেকসই রাখতে হলে- দ শ্রমিক রফতানিতে জোর দিতে হবে; শ্রমবাজারে নির্ভরতা সীমিত কয়েকটি দেশের মধ্যে আটকে রাখা যাবে না; প্রবাসীদের জন্য আর্থিক ও সামাজিক সুরা বাড়াতে হবে।
সব মিলিয়ে, ২০২৫ সালে রেমিট্যান্সে এই ঐতিহাসিক অর্জন বাংলাদেশের অর্থনীতিকে স্বস্তির নিঃশ্বাস দিলেও, ভবিষ্যতের জন্য কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া এই গতি ধরে রাখা কঠিন হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।