২ নেতা বহিষ্কার

খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলাকারীর নাম থাকায় স্থগিত ফেনী জেলা যুবদল কমিটি

Printed Edition

ফেনী অফিস

২০১৭ সালে ফেনীতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার মামলার আসামিকে দলীয় পদ দেয়ার ঘটনায় এবার ফেনী জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটি স্থগিত করা হয়েছে। একই সাথে অসাংগঠনিক ও বিতর্কিত সিদ্ধান্তের দায়ে ফেনী পৌর যুবদলের সভাপতি এ কে এম জাহিদ হোসেন বাবলু ও সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রাসেল পাটোয়ারীকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি। সোমবার যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-দফতর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত ৩০ এপ্রিল ঘোষিত ফেনী পৌর যুবদলের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কমিটিতে এনামুল হক সুজনকে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করা হয়। সুজন ২০১৭ সালে মহিপাল এলাকায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার মামলার অন্যতম আসামি। এমন বিতর্কিত ব্যক্তিকে পদ দেয়ার বিষয়টি অনুমোদনের দায়ে পৌর যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদের কোনো অপকর্মের দায় দল নেবে না এবং নেতাকর্মীদের তাদের সাথে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সাথে সাংগঠনিক ইউনিটগুলো তদারকিতে ব্যর্থতা এবং অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বিনষ্টের অভিযোগে ফেনী জেলা যুবদলের বিদ্যমান কমিটি স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে। জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন এরই মধ্যে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন।

এর আগে বিতর্কিত এই পদায়নের জেরে গত রোববার ফেনী পৌর যুবদলের কমিটি স্থগিত এবং নবগঠিত ১২টি ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছিল। তথ্য গোপন করে দলীয় পদ নেয়ায় এনামুল হক সুজনকেও দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

গত মাসের ৩০ এপ্রিল ঘোষিত আট সদস্যের ওই আংশিক কমিটিতে সুজনের নাম আসার পরপরই বিদ্রোহ দেখা দেয়। শনিবার রাতে ঘোষিত কমিটির সভাপতি মোস্তফা কামাল বাদল ছাড়া বাকি ছয় নেতাই একযোগে পদত্যাগ করেন। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মহিপালে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার ২৮ জন আসামির তালিকায় সুজনের নাম রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর যমুনা হাই ডিলাক্স পরিবহনের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মিলনের দায়ের করা এ মামলায় সুজন ২৫ নম্বর আসামি। এমন এক ব্যক্তিকে দলীয় পদে বসানোয় দলের তৃণমূলে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল।