২০২৬ সাল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য স্বস্তির নাও হতে পারে!
Printed Edition
আহমেদ ইফতেখার
বিশ্বজুড়ে কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে। এটি শুধু যন্ত্র বা সফটওয়্যারের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়, মানুষের কাজের ধরন, নেতৃত্ব, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং নতুন দক্ষতা শেখার পদ্ধতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে। আগামী বছর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য স্বস্তির নাও হতে পারে। বড় প্রযুক্তি কোম্পানির ভেতরের চাপ, বৈশ্বিক রাজনীতি, কর্মক্ষেত্রের নজরদারি আর রোবটের বাস্তব দুনিয়ায় ঢুকে পড়া মিলিয়ে সামনে আসছে একাধিক অস্বস্তিকর দৃশ্যপট।
চলতি মাসে ওপেনএআই গুগলের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় ফের মনোযোগ দিতে কোড রেড ঘোষণা করেছে। এতে অনেকের মনে ফিরে এসেছে তিন বছর আগের স্মৃতি। তখন ওপেনএআইকে টক্কর দিতে গুগল হঠাৎ তৎপর হয়, আর তার পরের মাসেই প্রতিষ্ঠানটি ইতিহাসের প্রথম বড় ছাঁটাইয়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রে অনেক কর্মী ফেসবুক গ্রুপসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংগঠিত হচ্ছেন। চীন ও রাশিয়া আগে থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য ছড়াতে অভ্যস্ত।
র্যান্ড করপোরেশনের গবেষক অস্টিন ওয়াং বলেন, এখন পর্যন্ত নতুন অ্যান্টি ডেটা সেন্টার পেজগুলোর বেশির ভাগই প্রকৃত মার্কিন নাগরিকরা চালাচ্ছেন। তবে আন্দোলন জোরালো হলে চীন বা রাশিয়া এতে ঢুকে পড়তে পারে। এআই দিয়ে ছবি ও ভিডিও বানানো সহজ হওয়ায় গুজব ছড়ানোও আগের চেয়ে দ্রুত হতে পারে। ২০২৬ সালে সিইএস থেকে শুরু করে অ্যামাজনের হার্ডওয়্যার ইভেন্ট পর্যন্ত প্রায় সব প্রযুক্তি সম্মেলনে এআইচালিত রোবট আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে। গুগলসহ বড় কোম্পানিগুলো বহু বছর ধরে রোবটকে ঘরের কাজ শেখানোর চেষ্টা করছে। গত সেপ্টেম্বরে গুগল এমন একটি ভিডিও দেখিয়েছে, যেখানে রোবট মুখে বলা নির্দেশে আবর্জনা, কম্পোস্ট আর রিসাইক্লিংযোগ্য জিনিস আলাদা করছে। গুগলের পরবর্তী আইও সম্মেলনে হয়তো দেখা যাবে রোবট এমন চুলায় পিৎজা ঢুকিয়ে দিচ্ছে, যেটি সে আগে কখনো দেখেনি।
বছরের পর বছর ধরে অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মীদের কম্পিউটারে বসওয়্যার বসিয়ে নজরদারি চালায়। ২০২৬ সালে সেই নজরদারি আরো এক ধাপ এগোতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্মীদের ক্লিক, স্ক্রল আর টাইপিং রেকর্ড করে এআই এজেন্টকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হতে পারে।
কাস্টমার সাপোর্টের মতো কাজ স্বয়ংক্রিয় করতে এ ধরনের এজেন্টের ব্যবহার এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। কর্মী অধিকারকর্মী উইলনেইডা নেগ্রন বলেন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে এটি বাস্তবে চলে আসতে পারে। এতে চাকরি হারানোর ভয় বাড়বে, পাশাপাশি ব্যক্তিগত তথ্য অনিচ্ছাকৃতভাবে অন্যদের সামনে চলে আসার ঝুঁকিও থাকবে।
২০২৫ সালে ভিডিও কল শুনে নোট বানানো সফটওয়্যার জনপ্রিয় হয়েছে। গ্রানোলা নামের একটি টুল স্থায়ী অডিও সংরক্ষণ না করেই মিটিংয়ের সারাংশ তৈরি করে। গুগল ওয়ার্কস্পেসের সাবেক প্রধান হাভিয়ের সোলতেরো বলেন, আউটপুট খুব গোছানো ও কাজে লাগে। তবে সমস্যা হলো, গ্রানোলা অন্য অংশগ্রহণকারীদের না জানিয়ে কাজ করতে পারে। যদিও কোম্পানি সম্মতি নেওয়ার পরামর্শ দেয়। এআই আইন বিশেষজ্ঞ অ্যালিসিয়া সোলউ-নিডারম্যান মনে করেন, তৃতীয় পক্ষের ওপর এআইয়ের প্রভাব নিয়ে আইনি প্রশ্ন আরও জোরালো হবে। ওয়্যার্ডের পূর্বাভাস, ২০২৬ সালে এ নিয়ে বড় কোনো ডেটা ফাঁস বা মামলাও সামনে আসতে পারে।
২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে রোবট্যাক্সি সেবা দ্রুত বাড়তে পারে। ওয়েইমো সপ্তাহে ১০ লাখের বেশি রাইড দেয়ার লক্ষ্য ধরেছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রায় দেড় হাজার কোটি ডলার তহবিল তুলতে চায় এবং পাঁচ শহর থেকে সেবা বাড়িয়ে প্রায় ২৫ শহরে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে লন্ডন আর টোকিওও আছে। টেসলা ও অ্যামাজনের মালিকানাধীন জুক্সও একই পথে হাঁটছে। সব মিলিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। আগামী বছরে এআই কি আমাদের জীবন সহজ করবে, নাকি নতুন ভয় যোগ করবে? উত্তর হয়তো সময়ই দেবে।