তাপমাত্রা নেমেছে সাড়ে ৭ ডিগ্রিতে আজ কিছুটা বাড়তে পারে
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
তাপমাত্রা নেমেছে সাড়ে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। কনকনে ঠাণ্ডা সর্বত্র, সারা দেশে জুবুথুবু অবস্থা। সকালে পানি ছুঁলে হাত-পা যেন অসাড় হয়ে আসে। কুয়াশা এত ঘন যে শেষ রাত থেকে সকাল পর্যন্ত দৃষ্টিসীমা একেবারে কমে আসে। রাতে যানবাহনের গতি কমে আসায় দূরের যাত্রীরা সময় মতো গন্তব্যে পৌঁছতে পারেন না। ঘন কুয়াশার কারণে শেষ রাত থেকে বৃষ্টির মতো পড়তে থাকে। শীতের তীব্রতায় বেড়ে গেছে ঠাণ্ডাজনিত নানা ধরনের রোগ। এর মধ্যে কাশি, হাঁপানি ও ডায়রিয়া অন্যতম। তবে আবহাওয়া বিভাগ আজ দিনে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়বে বলে জানিয়েছে। সারা দেশেই ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যাওয়ার কথা বলেছে। একই সাথে কুয়াশারও কিছুটা উন্নতি ঘটতে পারে।
আবহাওয়া বিভাগ বলছে, আজ বৃহস্পতিবার দেশের প্রায় অর্ধেক অংশে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এ সময় কোনো কোনো এলাকার তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে থাকতে পারে। যদিও আজ দেশের সর্বত্রই তাপমাত্রার কিছুটা উন্নতি হতে পারে। ফলে কুয়াশারও উন্নতি ঘটতে পারে। তা সত্ত্বেও মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে ধুয়াশা ভেদ করে সূর্য দুপুরের দিকে ভালো তাপমাত্রা নিয়ে উঁকি দিতে পারে। অন্য দিকে দেশের বাইরে থেকে যে হারে ঘন কুয়াশা আসতে শুরু করেছে গত কয়েক দিন থেকে সেটাও কয়েক দিনের মধ্যে কমে যেতে পারে।
আবহাওয়াবিদ মোস্তফা কামাল পলাশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের আবহাওয়ার স্যাটেলাইট ইমেজ বিশ্লেষণ করে বলেছেন, গতকাল বুধবার সিলেট, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগের ওপর দিয়ে হালকা থেকে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা ছিল। অন্য দিকে দেশের পশ্চিম ও মধ্যভাগের তিন বিভাগের ওপর দিয়ে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা ছিল। দুপুরের দিকে রাজশাহী, খুলনা ও ঢাকা বিভাগের জেলাগুলোর ওপর থেকে দুপুরের দিকে কুয়াশা সরে যাওয়ার সম্ভাবনা যথেষ্ট ছিল, কোনো কোনো এলাকায় সরে গিয়েছিল। ফলে সূর্যালোক দেখা যায়।
ঢাকা বিভাগের জেলাগুলো ওপর থেকে দুপুরের দিকে কুয়াশা কমে যাওয়ায় সার্বিক তাপমাত্রার উন্নতি ঘটেছে। আবহাওয়া বিভাগের তথ্য অনুসারে গতকাল ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকাল বেলা কুয়াশা ছিল বলে সকাল ৯টায় ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ১৩.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অধিদফতর বলেছে, গতকাল দেশের সর্বনি¤œ তাপমাত্রা নেমেছিল গোপালগঞ্চে ৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চুয়াডাঙ্গায় ৮ এবং যশোরে ৭.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সর্বনি¤œ তাপমাত্রা গোপালগঞ্জে
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, ঘন কুয়াশা আর শীতের হিমেল হাওয়ায় গোপালগঞ্জের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তাপমাত্রা নেমেছে ৭-এর ঘরে, যা এই মৌসুমের সর্বনি¤œ তাপমাত্রা। গত তিন দিন ধরে দেখা মিলছে না সূর্যের। ঘন কুয়াশায় কমেছে দৃষ্টিসীমা।
এমন অবস্থায় প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না কেউই। শীতে বেশি কষ্ট পাচ্ছে বৃদ্ধ ও শিশুরা। প্রচণ্ড ঠাণ্ডার কারণে বোরো ধান রোপনে ব্যাঘাত ঘটছে কৃষকদের। খেটে খাওয়া মানুষ পড়েছে আরো বিপাকে। বাধ্য হয়ে ঘর থেকে বের হয়েছেন অনেকেই। হাসপাতালে বেড়েছে ঠাণ্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা।
এ দিকে সড়ক মহাসড়কগুলোতে দিনের বেলাও হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। চালকরা বলছেন, ঘন কুয়াশার কারণে প্রচণ্ড ঝুঁকি নিয়ে ধীর গতিতে যানবাহন চলাতে হচ্ছে।
গোপালগঞ্জ আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান জানিয়েছেন, বুধবার সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আদ্রতা ৯৭ শতাংশ। এমন আবহাওয়া আগামী এক সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে বলে জানান তিনি।
রাজশাহীতে তাপমাত্রা ৮.৪ ডিগ্রি
রাজশাহী ব্যুরো জানায়, রাজশাহীতে ঘন কুয়াশা আর দিনের তাপমাত্রা কমে আসায় জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। বুধবার ভোর ৬টায় রাজশাহীতে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকালে আকাশে কুয়াশা ও মেঘ থাকায় সূর্যের দেখা মেলেনি। উত্তরের হিমেল বাতাসে শীত আরো তীব্র হয়ে উঠে, স্থবির হয়ে পড়ে জনজীবন।
শীতের তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন ছিন্নমূল ও নি¤œবিত্ত মানুষ। বিভিন্ন বস্তি ও খোলা জায়গায় আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন অনেকে। গরম কাপড়ের অভাবে তাদের কষ্ট বেড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, তীব্র শীতে জনজীবন কার্যত কাহিল হয়ে পড়েছে। ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকেই। ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা বাড়ছে। শুষ্ক আবহাওয়া ও ঠাণ্ডা বাতাসের কারণে বায়ুদূষণও বেড়েছে। এর প্রভাবে শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি ঝুঁকিতে পড়ছেন। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক রাজিব খান জানান, ‘মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেই রাজশাহীতে হিমেল হাওয়া বেড়েছে। তাপমাত্রাও কিছুটা কমেছে। এই হিমেল হাওয়া আরো কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানান তিনি।’