চৌদ্দগ্রামে মহাসড়কের দুই পাশে ময়লার ভাগাড়

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) সংবাদদাতা
Printed Edition
bangla-3
চৌদ্দগ্রামের বালুজুড়ি এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বর্জ্যরে স্তূপ : নয়া দিগন্ত

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বালুজুড়ি এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ডিভাইডার ও দুই পাশেই বর্জ্য স্তূপ করে ফেলে রাখেন পৌর কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীরা। সড়কের কয়েকটি স্থান যেন মরা পশু, মরা হাঁস-মুরগি আর ময়লা-আবর্জনা ফেলার ভাগাড় হয়ে উঠেছে। বর্জ্য পরিশোধনাগার ব্যবস্থা না থাকায় মারাত্মক পরিবেশ দূষণসহ জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। পরিবেশ দূষণ রোধ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক জামাল হোসেনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় অবশেষে মহাসড়ক থেকে সরছে বালুজুড়ি খালসংলগ্ন সেই ভাগাড়। গতকাল সোমবার পৌর এলাকার নাটাপাড়া মৌজায় ভাগাড়ের জন্য জায়গা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। পৌর প্রশাসকের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংবাদিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

জানা গেছে, বর্জ্য পদার্থের আধুনিক ও নিরাপদ অপসারণ ব্যবস্থার অপ্রতুলতা বাংলাদেশের অন্যতম পরিবেশগত সমস্যা। পৃথিবীর অষ্টম জনবহুল ও দশম ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশে বর্ধিত জনসংখ্যার সাথে সমানতালে বেড়ে চলেছে সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যাও। বর্তমানে বাংলাদেশে বর্জ্য সৃষ্টির পরিমাণ প্রতি বছর প্রায় ২২.৪ মিলিয়ন টন। এভাবে চলতে থাকলে ২০২৫ সালে দৈনিক প্রায় ৪৭ হাজার ৬৪ টন বর্জ্য উৎপন্ন হবে। এ ছাড়া অপরিকল্পিত নগরায়ন প্রক্রিয়ায় বিক্ষিপ্তভাবে গড়ে উঠা ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানার বর্জ্য নিষ্কাশনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা না থাকার ফলে গৃহস্থালি বর্জ্য প্রতিদিন যত্রতত্র নিক্ষিপ্ত হচ্ছে।

মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম অংশ সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, চৌদ্দগ্রামের বালুজুড়ি ও মিয়াবাজারে মহাসড়কের ডিভাইডার ও দুই পাশে কাঁচাবাজারের ময়লা-আবর্জনা ও বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ফেলার কারণে স্তূপ তৈরি হয়েছে। এসব স্তূপের দুই পাশে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা অধিকাংশ হোটেল রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য, হাঁস-মুরগির বিষ্ঠাসহ বিভিন্ন বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। মহাসড়কের এসব স্থান দিয়ে নাকে রুমাল চেপে চলতে হয়।

বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেরও বর্জ্য বা অপদ্রব্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বর্জ্য সংরক্ষণ, নিষ্ক্রিয়করণ অথবা প্রক্রিয়াজাতকরণ করে ব্যবহারের উপযোগী বিভিন্ন নতুন জিনিস বানানো উচিত।

চৌদ্দগ্রাম পলিটেকনিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে থেকে ময়লার ভাগাড়টি সরানোর জন্য ইতঃপূর্বে বেশ কয়েকবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হলেও কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়নি কেউ।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক জামাল হোসেন বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহনে দেশের বিভিন্ন স্থান ও বিদেশের মানুষও যাতায়াত করে। ময়লার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনসাধারণ। এ ময়লার ভাগাড় সরাতে সুশীলসমাজের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার পৌর এলাকার নাটাপাড়ায় সরকারি জায়গায় নির্দিষ্ট করা হয়েছে। শিগগিরই মহাসড়কের পাশ থেকে ময়লা সরানো হবে।