জামায়াতের সাথে জোটে যাচ্ছে এনসিপি, নেতাদের সিদ্ধান্তে রদবদল
Printed Edition
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
জামায়াতে ইসলামীর সাথে জোট করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আজ রোববার এই জোটের ঘোষণা দেয়া হবে। গতকাল শনিবার রাতে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ফাইনালি জামায়াতের সাথে এনসিপি জোটে যাচ্ছে। রোববার ঘোষণা দেয়া হবে।
এনসিপি শুরু থেকেই একক, যৌথ বা আসন সমঝোতার মধ্য দিয়ে নির্বাচনের বিষয়ে বক্তব্য রেখেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বিএনপি, জামায়াত এবং আরো রাজনৈতিক দলের সাথে এনসিপি নেতাদের জোট গঠন বা আসন সমঝোতার বিষয়ে এবং রাজনৈতিক পরিবেশ পরিস্থিতি মূল্যায়নের বিষয়ে একাধিক আলাপ-আলোচনা হয়।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সংস্কার প্রশ্নে কারা বেশি আগ্রহী এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সে বিষয়টিকেই এনসিপি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন মিডিয়াকে বলেছেন, ‘ঐকমত্য কমিশনে সংস্কার প্রশ্নে বিএনপির সাথেই অন্য দলগুলোর মতভিন্নতা পরিলক্ষিত হতো। সেখানে সংস্কারের পয়েন্টগুলোতে ন্যাচারালি (স্বাভাবিকভাবেই) এনসিপি, জামায়াত এবং অন্য দলগুলো একমত হয়েছে। সে ক্ষেত্রে সংস্কারের বিষয়, দেশটাকে নতুন করে গড়া, নতুনভাবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামোকে গড়ে তোলার জন্য যে রাজনীতি, সে রাজনীতির প্রতি যে কমিটমেন্ট সেটাকেই নির্বাচনী রাজনীতিতে জোটের বা সমঝোতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রধানতম বিবেচ্য বিষয় হিসেবে আমরা মূল্যায়ন করছি।’
এর আগে বিএনপির সাথেও আসন সমঝোতার বিষয়ে এনসিপি আলোচনায় বসেছিল। তবে সেখানে কোনো সুরাহা না হওয়ায় জামায়াতের দিকে দলটি ঝুঁকছে বলে মনে করছেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা। তারা মনে করেন, ভোটের হিসাব ও আসন বেশি পাওয়া যাবে জামায়াতের সাথে জোটবদ্ধ হলে। অন্য দলগুলোর সাথে আলাপ করে বেশি আসনের প্রতিশ্রুতি না পাওয়া এবং জামায়াতের সাথে গেলে সেই সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে এনসিপি নেতারা মনে করছেন এর মাধ্যমে তারা পার্লামেন্টে যেতে পারবেন এবং সংসদে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে পারবেন।
এ দিকে এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা: তাসনিম জারা। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন। তার স্বামী এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহও পদত্যাগ করেছেন। খালেদ সাইফুল্লাহ গণমাধ্যম বলেছেন, ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করছি।
এনসিপির ৩০ নেতার চিঠি
এ দিকে জামায়াতসহ আট দলীয় জোটের সাথে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনৈতিক জোট বা আসন সমঝোতার সম্ভাবনার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির ৩০ জন সদস্য। এই নীতিগত ইস্যুতে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে তারা দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে একটি চিঠি দেন। দলের যুগ্ম সদস্যসচিব মুশফিক উস সালেহীন চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শনিবার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে তাসনিম জারা জানান, তার স্বপ্ন ছিল একটি রাজনৈতিক দলের প্ল্যাটফর্ম থেকে সংসদে গিয়ে ঢাকা-৯ আসনের মানুষের ও দেশের সেবা করার। তবে বাস্তবিক প্রেক্ষাপটে তিনি কোনো নির্দিষ্ট দল বা জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ার প্রতিশ্রুতি রক্ষায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন।
আগামী নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী তাসনিম জারা ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে গণচাঁদার মাধ্যমে ৪৭ লাখ টাকা তুলেছিলেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর প্রয়োজন। তিনি ফেসবুক পোস্টে স্বাক্ষরের আহ্বান জানিয়েছেন। যারা তাকে নির্বাচনের জন্য চাঁদা দিয়েছিলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় টাকা ফেরত দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
জারার এ ঘোষণার পর নিজেদের ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন এনসিপির আরো ৩ শীর্ষ নেত্রী। তারা হলেন- দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, যুগ্ম সদস্যসচিব নুসরাত তাবাসসুম ও যুগ্ম সদস্যসচিব ডা: মাহমুদা মিতু।
সামান্তা শারমিন তার পোস্টে লিখেছেন, ‘আমরা লড়াই ছাড়ব না। আল্লাহ সহায়।’
নুসরাত তাবাসসুম লিখেছেন, ‘নীতির চাইতে রাজনীতি বড় নয়। কমিটমেন্ট ইজ কমিটমেন্ট...।’
অন্য দিকে ডা: মাহমুদা মিতু লিখেছেন, ‘এক পয়সা দিয়েও দেশী ভান ধরা পশ্চিমা গং বিশ্বাস করি না। এর চেয়ে যারা ওপেন বলে-কয়ে পশ্চিমা এজেন্ডার পক্ষ নেয় তাদের স্যালুট।’