ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্তবর্তী তিন উপজেলা
অপরাধ কর্মকাণ্ডে ভারতীয় মোবাইল সিম ব্যবহার
Printed Edition
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সীমান্তবর্তী কসবা আখাউড়া ও বিজয়নগর উপজেলার গ্রামগুলোতে অবাধে ব্যবহার করা হচ্ছে বিভিন্ন ভারতীয় কোম্পানির মোবাইল সিমকার্ড। এতে সীমান্তে চোরাচালান বৃদ্ধিসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়েছে। এ ছাড়া অবাধে ভারতীয় মোবাইল সিমের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় বিপুল পরিমাণ রাজস্বও হারাচ্ছে সরকার। এ অবস্থায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো অনেকটাই নীরব।
সরেজমিন জেলার কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর, ধজনগর, বায়েক, কোল্লাপাথর, মাদলা, খাদলা, বেলতলী, পুটিয়া; আখাউড়া উপজেলার সীমন্তবর্তী উত্তর ইউনিয়নের আজমপুর, রাজাপুর, আমোদাবাদ, কল্যাণপুর ও আখাউড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের বঙ্গেরচর, কালিকাপুর, সেনারবাদী, বাউতলা, গাজীর বাজার, উমেদপুর, মনিয়নন্দ ইউনিয়নের তুলাই শিমুল, কর্মমঠ, গঙ্গাসাগর, শিবনগর ও ঘাগুটিয়া এবং বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল, মেরাসানী, কাশীনগর, বিষ্ণুপুর, কালাছড়া, আউলিয়া বাজার, ছতরপুর, পাহাড়পুর ও হরষপুরের গ্রামগুলোতে ভারতীয় সিমকার্ডেই চলে ইন্টারনেটভিত্তিক সব কার্যক্রম।
সীমান্তবর্তী অঞ্চলের এসব গ্রামের বাজারগুলোতে প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা স্মার্ট ফোন নিয়ে তরুণদের গল্প ও জমজমাট আড্ডা দিতে দেখা যায়। আড্ডাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, তাদের মোবাইল ফোনগুলোতে বাংলাদেশী মোবাইল ফোন কোম্পানি বাংলালিংক, রবি, গ্রামীণফোন, এয়ারটেল ও টেলিটক মোবাইল অপারেটর কোম্পানির কোনো সিমকার্ডই নেই। তরুণরা মোবাইলভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা না পেয়ে ভারতীয় মোবাইল ফোনের সিমকার্ড ব্যবহার করতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
কসবা সীমান্ত অঞ্চলের পুটিয়া খাদলা বাজারে দেখা মেলে একদল তরুণের সাথে। তারা গুগল, ফেসবুক, ইউটিউব, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জারসহ ইন্টারনেটভিত্তিক ফ্রি-ফায়ার, পাবজির গেমও খেলছেন ভারতীয় সিমকার্ড ব্যবহার করে। তাদের মোবাইলে ব্যবহৃত হচ্ছে ভারতীয় কোম্পানির এয়ারটেল, জিও, ভোডাফোন, রিলায়েন্স, এয়ারসেল, টেলিনর কোম্পানির সিমকার্ড।
স্থানীয়রা জানান, ভারতীয় সিমের অবাধ ব্যবহারের কারণে সীমান্তের ওপারের চোরাকারবারিদের সাথে এ দেশের চোরাকারবারিদের নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। এই যোগাযোগের মাধ্যমে উভয় দেশের চোরা কারবাররা মাদক পাচারসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে সীমান্ত অঞ্চলে অপরাধ বেড়েই চলছে।
তবে ভারতীয় মোবাইল সিমকার্ড ব্যবহারকারী বাংলাদেশী নাগরিকরা জানান, বাংলাদেশের মোবাইল কোম্পানিগুলোর নেটওয়ার্ক দুর্বল কিংবা নেটওয়ার্ক না থাকায় তারা বাধ্য হয়েই ওপাড়ের সিমকার্ড ব্যবহার করছেন।
কসবা পুটিয়া সীমান্তবর্তী গ্রামের বাসিন্দা মো: আরমান বলেন, এ অঞ্চলের খাদলা, মাদলা, পুটিয়া, বেলতলী এলাকায় বাংলাদেশী নেটওয়ার্কের কোনো সুযোগ সুবিধা নেই। তাই বাধ্য হয়েই আমরা ভারতীয় কোম্পানির সিমকার্ড ব্যবহার করছি। এই সিমকার্ড ব্যবহার করলে বিজিবি আমাদের মাঝে মধ্যে আমাদেরকে হয়রানি করে। বর্তমান সরকার যদি আমাদের সীমান্ত অঞ্চলে মোবাইল নেটওয়ার্কের ব্যবস্থা আরো সবল করে দিতেন, তাহলে আমরা অনেকটাই উপকৃত হবো।
সীমান্তের বাসিন্দা ইকবাল মিয়া বলেন, আমাদের এই এলাকার আশপাশে গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, রবি বা অন্য কোনো সিমকার্ডের নেট পাওয়া যায় না। তাই আমরা ইন্ডিয়ান এয়ারটেল, জিও, ভোডাফোনের সিমগুলো চালাই।
বিজিবি ৬০ ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক লে. কর্নেল জিয়াউর রহমান বলেন, এ ব্যাপারে আমরা পদক্ষেপ নেয়া শুরু করেছি। আমাদের দেশের যে নেটওয়ার্কগুলো আছে, তাদেরকে বলেছি, এই এলাকায় তাদের নেটওয়ার্ক আরো উন্নত করতে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দিদারুল আলম জানান, আমাদের সীমান্ত অঞ্চলে নেটওয়ার্ক না থাকার কারণে, সেখানকার বাসিন্দাদের প্রায় সবাই ভারতের সিম ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে রাজস্বেরও একটি বিষয় আছে। তা ছাড়া আরো বড় সমস্যা হচ্ছে, আমাদের দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদেরকে শনাক্ত করতে পারছে না। ফলে চোরাচালান বেড়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে আলাপ আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।