সিলেটে বিশেষ অবদানের জন্য ১০৩ প্রবাসীকে সম্মাননা

করমুক্ত ব্যবসা সুবিধা ও স্মার্ট ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরির পরামর্শ

Printed Edition

সিলেট ব্যুরো

নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ও বিশেষ অবদান রাখায় বিশ্বের ১১টি দেশের ১০৩ জন প্রবাসী বাংলাদেশীকে সম্মাননা প্রদান করেছে সিলেট জেলা প্রশাসন। গতকাল শনিবার দুপুরে নগরের রিকাবীবাজারস্থ কবি নজরুল অডিটোরিয়ামে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে ‘প্রবাসী সম্মাননা-২০২৫’ প্রদান করা হয়। সফল পেশাজীবী, সফল ব্যবসায়ী, সফল কমিউনিটি নেতা, সফল নারী উদ্যোক্তা, খেলাধুলায় সাফল্য অর্জনকারী এবং বাংলাদেশী পণ্য আমদানিকারক- এই ছয়টি ক্যাটাগরিতে সম্মাননাগুলো দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব ড. আবদুল নাসের খান বলেন, প্রবাসীরা বাংলাদেশের গর্ব ও হৃদস্পন্দন। দূর প্রবাসে থেকেও তারা হৃদয়ে লাল-সবুজের পতাকা ধারণ করেন। নিজেদের শ্রম, ঘাম ও ভালোবাসার মাধ্যমে তারা দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রেখেছেন। তিনি বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স আমাদের অর্থনীতির রক্তপ্রবাহ। এই অর্থে পরিবারে সচ্ছলতা আসে, সন্তানদের শিক্ষার আলো জ্বলে ওঠে এবং জাতীয় অর্থনীতি টিকে থাকে।

তিনি প্রবাসীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মাননা প্রদান, প্রতি বছর ‘ডিস্টিংগুইশড বাংলাদেশী এক্সপ্যাট্রিয়েট অ্যাওয়ার্ড’ চালু, প্রবাসীদের জন্য এক্সক্লুসিভ বিনিয়োগ অঞ্চল ও স্মার্ট সিটি গড়ে তোলার পাশাপাশি করমুক্ত ব্যবসা সুবিধা ও স্মার্ট ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরির পরামর্শ দেন।

সিলেটকে আধুনিক ও উন্নত নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে প্রবাসীদের বিনিয়োগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বিশেষ অতিথিরা বলেন, সিলেটকে ‘লন্ডনের মতো উন্নত’ করতে প্রবাসীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনুষ্ঠানে প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও বিনিয়োগ সহায়তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করা হয়।

সিলেট জেলা প্রশাসক মো: সারওয়ার আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার খান মো: রেজা-উন-নবী, পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী, পুলিশ সুপার কাজী আখতার উল আলম, প্রবাসী ব্যক্তিত্ব ড. ওয়ালি তশর উদ্দিন ও ব্যারিস্টার নাজির আহমেদ বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।

সম্মাননা প্রাপ্ত বিশিষ্টজনদের মধ্যে রয়েছেন- যুক্তরাজ্যের রানীর বিশেষ খেতাবপ্রাপ্ত বিলিয়নিয়ার ব্যবসায়ী ইকবাল আহমেদ ওবিই, শাহগীর বখত ফারুক, ব্যারিস্টার নাজির আহমেদ, ব্যারিস্টার কুতুবউদ্দিন শিকদার, টাওয়ার হ্যামলেটসের সাবেক স্পিকার মোহাম্মদ আয়াছ মিয়া, ওয়ালি তশর উদ্দিন এমবিই এবং সাংবাদিক আবদুল মুনিম জাহেদি ক্যারল।

সম্মাননা প্রাপ্ত ব্যারিস্টার নাজির আহমেদ বলেন, জন্মভূমি থেকে সরকারি উদ্যোগে এই সম্মাননা পাওয়া এক অনন্য অনুভূতি। জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগ প্রবাসীদের দেশের উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার একটি বাস্তব ও প্রশংসনীয় প্রয়াস, যা নিয়মিত বার্ষিক আয়োজনে পরিণত হওয়া উচিত। তিনি বলেন, দুর্নীতি রোধ না হলে প্রাকৃতিক সম্পদ থাকা সত্ত্বেও কাক্সিক্ষত উন্নয়ন সম্ভব নয়।

দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকালে সার্কিট হাউজ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। সন্ধ্যায় সিলেট সার্কিট হাউজে প্রবাসী বাংলাদেশীদের অংশগ্রহণে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, সম্মাননার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় এক হাজার প্রবাসী আবেদন করেন। যাচাই-বাছাই শেষে ১০৩ জনকে নির্বাচিত করা হয়। সম্মাননা উপলক্ষে সিলেট নগরীকে আলোকসজ্জা ও ব্যানার-ফেস্টুনে সাজানো হয়, যা শহরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে।