ঈদের দীর্ঘ ছুটির পর অফিসে প্রাণচাঞ্চল্য উপস্থিতি কিছুটা কম
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
পবিত্র ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ সাত দিনের ছুটি শেষে গতকাল মঙ্গলবার খুলেছে বাংলাদেশ সচিবালয়সহ সব সরকারি অফিস, ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। ঈদের ছুটির পর সচিবালয়ে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য। অনেকেই গ্রাম থেকে ব্যাগ নিয়ে সরাসরি অফিসে এসে যোগ দিয়েছেন। সবার চোখে-মুখে ঈদের আনন্দের অভিব্যক্তি। অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রমও শুরু হলেও কিছু কিছু মন্ত্রণালয়ে উপস্থিতি ছিলো কম।
গতকাল সকাল সাড়ে আটটা থেকেই সচিবালয়ে আসতে শুরু করেন কর্মচারীরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সচিবালয়ের নিজ অফিসে উপস্থিত হন। তিনি সকাল ৯টায় সচিবালয়ে আসেন। তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ঈদের ছুটি শেষে প্রধানমন্ত্রী সকাল ৯টা ১ মিনিটে সচিবালয়ে তার দফতরে এসেছেন। সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে তিনি গুলশানের বাসা থেকে বের হোন। অফিসে এসে তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে ঈদের কুশল বিনিময় করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী তার দাফতরিক কাজ শুরু করেন।
বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, বেসামরিক বিমান চলাচল প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমীন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তারসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর সাথে ঈদের কুশল বিনিময় করেন বলে জানান অতিরিক্ত প্রেস সচিব।
দিনের কর্মসূচিতে ছিলো আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসনের সাক্ষাৎ। প্রধানমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন। এ সময়ে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। সরেজমিন দেখা গেছে, অফিসে এসে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, সচিবসহ সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। অনেককে কোলাকুলি করতেও দেখা গেছে।
অনেকেই বলেছেন, দীর্ঘ ছুটি শেষে আজকে প্রথম দিনটি মূলত অফিস খোলার আনুষ্ঠানিকতা ও সহকর্মীদের সাথে সাক্ষাতের দিন হিসেবে কাটছে।
সচিবালয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন অফিসে ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একে অপরের সাথে কুশল বিনিময় ও কোলাকুলি করে ঈদের আমেজ ভাগাভাগি করেছেন।
সচিবালয়ের বেশকিছু মন্ত্রণালয় ঘুরে দেখা গেছে, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি কিছুটা কম। যেসব কক্ষে একাধিক প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী বসেন, এমন কক্ষগুলোতে অনেকেই অনুপস্থিত রয়েছেন।
সেকশনগুলোতে অনেকে ঐচ্ছিক ছুটিতে রয়েছেন বলে জানা গেছে। কারণ মঙ্গল ও বুধবার অফিস করার পর আবার টানা তিন দিনের ছুটি। তবে উপসচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বেশির ভাগই উপস্থিত রয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সচিবালয়ে মূলত স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য ফিরবে আগামী রোববার (২৯ মার্চ) থেকে। ঈদের ছুটির পর দুই দিন অফিস খোলা থাকার পর আবার টানা তিন দিনের ছুটি থাকায় অনেকেই এ দুই দিন ঐচ্ছিক ছুটি নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বেশির ভাগ উপস্থিত থাকায় সচিবালয়ে গাড়ি রাখার স্থানগুলো অন্য দিনের মতোই পূর্ণ ছিলো। তবে ঈদের পর প্রথম কর্মদিবসে সচিবালয়ে দর্শনার্থীদের সংখ্যাও ছিলো কম। এদিন ৬ নম্বর ভবনসহ অন্য ভবনগুলোর লিফটের সামনে মানুষের ভিড় তেমন চোখে পড়েনি।
ঈদের পরে সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ কর্মকর্তাদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়ে বলেছেন, ঈদের আনন্দ বছরের বাকি সময়জুড়েও মানুষের জীবনে বিরাজ করবে। তিনি বলেন, আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে পাওয়া ঈদ উদযাপনের ঐতিত্য সেমাই, শিন্নি ও পোলাওসহ নানা আয়োজন আমাদের সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি আগামী প্রজন্মের জন্য উন্নত মূল্যবোধ ও সংস্কৃতি গড়ে তোলার দায়িত্ব আমাদের সবার। অপর দিকে ঈদের অভিজ্ঞতার বিষয় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, এবারকার ঈদ অন্যরকম ছিল। দেশের মানুষ দীর্ঘদিন পরে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ভোট দেয়ার অধিকার পালন করতে পেরেছে এবং তাদের ভোটে নির্বাচিত সরকার গঠন করতে পেরেছে। সুতরাং তারা মুক্ত পরিবেশে এবং আনন্দময় পরিবেশে ঈদ পালন করেছে।