ভোটকেন্দ্রের তথ্য চার পদ্ধতিতে জানা যাবে
Printed Edition
বিশেষ সংবাদদাতা
আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাররা চার পদ্ধতিতে তাদের ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানতে পারবেন। সেই পদ্ধতিগুলো হলো, স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি অ্যাপ, হটলাইন ১০৫ নম্বর, ১০৫ এ এসএমএসের মাধ্যমে এবং ইসির ওয়েবসাইটের সাহায্য নিয়ে। ভোটপ্রদানের সুবিধার্থে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানার জন্য এই চারটি সহজ পদ্ধতি চালু করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। এসব পদ্ধতির মাধ্যমে ভোটাররা দ্রুত ও নির্ভুলভাবে ভোটার নম্বর এবং ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানতে পারবেন বলে ইসির পরিচালক জনসংযোগ রুহুল আমিন মল্লিক জানিয়েছেন।
পদ্ধতি-১ (ঝসধৎঃ ঊষবপঃরড়হ গধহধমবসবহঃ ইউ অ্যাপ): ভোটারগণ ঝসধৎঃ ঊষবপঃরড়হ গধহধমবসবহঃ ইউ অ্যাপের মাধ্যমে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানতে পারবেন। এ জন্য ভোটারকে চষধু ঝঃড়ৎব বা অঢ়ঢ় ঝঃড়ৎব থেকে ঝসধৎঃ ঊষবপঃরড়হ গধহধমবসবহঃ ইউ অ্যাপ ডাউনলোড করে ইনস্টল করতে হবে। অ্যাপটি ইনস্টলের পর ড্যাশবোর্ড থেকে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন’ সিলেক্ট করে ‘ভোটকেন্দ্র খুঁজুন’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। এরপর এনআইডি নম্বর ও জন্ম তারিখ ইনপুট দিয়ে অনুসন্ধান করলে ভোটার নম্বর, ভোটার ক্রমিক নম্বর, ভোটকেন্দ্রের নাম ও কেন্দ্রের ঠিকানা প্রদর্শিত হবে।
পদ্ধতি-২ (হটলাইন নম্বর ১০৫): ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানার জন্য বাংলাদেশের যেকোনো ভোটার হটলাইন নম্বর ১০৫-এ কল করতে পারবেন। এ জন্য হটলাইন নম্বর ১০৫-এ কল করার পর অপারেটরের সাথে কথা বলতে ৯ চাপতে হবে। এ পদ্ধতিতে তথ্য জানতে ভোটারের এনআইডি নম্বর ও জন্ম তারিখ প্রয়োজন। এজন্য এসব তথ্য হাতে নিয়ে হটলাইন নম্বর ১০৫-এ কল করতে হবে। প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এ সেবা চালু থাকবে।
পদ্ধতি-৩ (১০৫-এ এসএমএসের মাধ্যমে): এসএমএসের মাধ্যমে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানতে মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে চঈ ঘওউ লিখে ১০৫ নম্বরে মেসেজ পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসের মাধ্যমে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানিয়ে দেয়া হবে।
পদ্ধতি-৪ (নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে): নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট ব্যবহার করেও ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানা যাবে। এ জন্য ল্যাপটপ, ডেক্সটপ কম্পিউটার বা মোবাইলের যেকোনো ব্রাউজার থেকে বপং.মড়া.নফ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। এরপর ওয়েবসাইটের ‘ভোটকেন্দ্র’ মেনুতে ক্লিক করলেই ভোটকেন্দ্র অনুসন্ধানের অপশন পাওয়া যাবে। ওয়েবসাইটে দু’টি উপায়ে ভোটকেন্দ্র খোঁজা যাবে। প্রথমত, নির্বাচনী এলাকা, উপজেলা/থানা নির্বাচন করে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের তালিকা দেখা যাবে। দ্বিতীয়ত, এনআইডি নম্বর ও জন্ম তারিখ দিয়ে অনুসন্ধান করলে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানা যাবে। এ ছাড়া ওয়েবসাইটে ভোটকেন্দ্রের অবস্থান সরাসরি গুগল ম্যাপে দেখার সুবিধা রয়েছে। গুগল ম্যাপের মাধ্যমে ভোটকেন্দ্রের দূরত্ব এবং যাওয়ার পথ সম্পর্কেও বিস্তারিত জানা যাবে।
৩ লাখের বেশি পোস্টাল ব্যালট ভোটকর্তার হাতে: আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিন লাখ ৯ হাজার ১১০টি পোস্টাল ব্যালট সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে শনিবার পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। আর পোস্টাল ব্যালটে চার লাখ ৯৪ হাজার ১৮৫ জন প্রবাসী ভোট দিয়েছেন বলে ইসির সংশ্লিষ্ট প্রকল্প প্রধান ড. সালীম আহমাদ খান গণমাধ্যমকে জানান। এ ছাড়া প্রবাস থেকে পোস্টাল ব্যালট দেশে এসেছে চার লাখ ২২ হাজার ৯৬০টি।
প্রবাসীদের পোস্টাল ভোটের তথ্য : ইসির সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালক জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের পোস্টাল ব্যালট সংশ্লিষ্ট দেশে পৌঁছানো হয়েছে সাত লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২টি। ভোটার ব্যালট গ্রহণ করেছে পাঁচ লাখ ২৭ হাজার ৩৩টি। আর চার লাখ ৬৮ হাজার ৯১টি পোস্টাল ব্যালট সংশ্লিষ্ট দেশের পোস্ট বক্সে জমা হয়েছে। দেশে ব্যালট এসেছে চার লাখ ২২ হাজার ৯৬০টি। রিটার্নিং কর্মকর্তারা দুই লাখ ২৫ হাজার ১৬৮টি প্রবাসী পোস্টাল ব্যালট গ্রহণ করেছেন।
দেশের অভ্যন্তরীণ পোস্টাল ভোট : দেশের অভ্যন্তরে শনিবার পর্যন্ত ভোটারদের কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছে ছয় লাখ ৯৪ হাজার ১৪৬টি। তারা তিন লাখ ৮১ হাজার ৭টি ব্যালট গ্রহণ করেছেন। ভোট দিয়েছেন তিন লাখ ২১ হাজার ৬৯৫ জন ভোটার। আর ভোটার ভোট দিয়ে পোস্ট অফিস বা ডাক বাক্সে জমা দিয়েছেন দুই লাখ ৭৬ হাজার ২৭২টি ব্যালট। রিটার্নিং অফিসার ব্যালট গ্রহণ করেছেন ৮৩ হাজার ৯৪২টি। উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।
ঢাকা-১৪ ও ১৬ আসন বেশি ঝুঁকিপূর্ণ : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৪, ১৬ ও ১৮ আসনের মোট ভোটকেন্দ্রের প্রায় ১৮ শতাংশ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহনী। এর মধ্যে ঢাকা-১৪ ও ১৬ আসনকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন সেনাবাহিনীর মিরপুর ক্যাম্প কমান্ডার লে. কর্নেল এস এম ফুয়াদ মাসরুর। গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়ামে জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ঢাকা-১৪, ১৬ ও ১৮ আসনের সার্বিক নিরাপত্তা ও নির্বাচন প্রস্তুতি বিষয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
লে. কর্নেল এস এম ফুয়াদ মাসরুর জানান, ভোটারদের নির্বিঘেœ ভোটকেন্দ্রে আসা-যাওয়া নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী ভোট কেন্দ্রগুলোকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, মধ্যম ও সাধারণ শ্রেণীতে ভাগ করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। নির্বাচনকালীন সময়ে যেকোনো বিশৃঙ্খলা বা নাশকতার তথ্য প্রচারের আগে সাংবাদিকদের প্রাথমিক যাচাই করার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে ভুল তথ্য বা উসকানিমূলক সংবাদ পরিবেশন না হয়।
এ সময় ক্যাম্প কমান্ডার জানান, নির্বাচনে প্রার্থীদের পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করবে সেনাবাহিনী। কোথাও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি মনে হলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করেন তিনি।